প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কে হচ্ছেন হেফাজতের মহাসচিব

নিউজ ডেস্ক : কওমি আলেমদের বৃহত্তর অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর মৃত‌্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা। ইতোমধ‌্যেই মহাসচিব হিসেবে সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। তবে, এই ৩ জনের মধ্যে মামুনুল হকের মহাসচিব পদে আসার সম্ভাবনা বেশিই বলে মনে করছেন অনেকে। তাকে হেফাজতের মহাসচিব করার দাবিও তুলছেন কেউ কেউ। প্রাথমিকভাবে পাঁচজন আলোচনায় থাকলেও চমক হিসেবে মহাসচিব পদে আসতে পারেন আল্লামা আহমদ শফী অনুসারী নেতাদের কেউ।

হেফাজতে ইসলামের নতুন মহাসচিব নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেলেও সব প্রশ্নের সমাধান হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। ওই সপ্তাহে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নেতারা বসে নির্ধারণ করবেন নতুন মহাসচিব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘ভাস্কর্য নির্মাণ ইস্যুতে হেফাজতের বর্তমান আন্দোলনে মাঠে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, তিনি মাওলানা মামুনুল হক। আমরা তাকেই হেফাজতের মহাসচিব পদে দেখতে চাই।’

হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমানী বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে হেফাজতে ইসলামের নতুন মহাসচিব নির্বাচনের জন্য বসবেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নেতারা। ওই বৈঠকে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ জানা যায়, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুর পর নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে ফের সংকট সৃষ্টি হয়েছে আলোচিত এ সংগঠনে।

আল্লামা কাসেমীর মৃত্যুর দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের অনুসারীরা। তারা মাওলানা মামুনুলের পক্ষে পোস্ট করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। যদিও ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য নিয়ে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন মামুনুল হক। এর জের ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মামুনুল হকসহ কওমি মতাদর্শীদের ওয়াজ মাহফিল প্রতিহতও করেছেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান নেতৃত্বের একটি অংশ মামুনুল হকের মতো আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেওয়া কাউকে মূল নেতৃত্বে আনতে চান না। তাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন কাউকে নেতৃত্বে আনতে চাইছেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

এ ক্ষেত্রে মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, বেফাক মহাসচিব ও নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী। মাওলানা কাসেমী-পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনে আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন হাটহাজারীতে বৈঠকে বসছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। ওই বৈঠকে নতুন মহাসচিব নির্বাচন ও হেফাজতে ইসলামের কমিটি সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতে ইসলামের একাধিক সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের সর্বশেষ কমিটিতে আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী হিসেবে বাদ পড়া নেতাদের ফের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। তাই হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটিকে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট করা হচ্ছে। কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হচ্ছে আল্লামা আহমদ শফী অনুসারী কয়েকজন নেতাকে। এমনকি আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী নেতাদের মধ্য থেকে নতুন মহাসচিব করার ভাবনা ভাবছেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নেতাদের কেউ কেউ। বাংলাদেশ প্রতিদিন, রাইজিংবিডি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত