প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাইডেনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ হতে পারে

রাশিদ রিয়াজ : রফতানিকারক ও বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে যে নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন তাতে উদার বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করা হতে পারে এবং এতে দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি উদার না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে চীন, ইউরোপ ও বিভিন্ন দেশের পণ্য রফতানির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ২২ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি থেকে। পরোক্ষভাবে হলেও বাইডেনের উদার নীতির কারণে বাংলাদেশের রফতানি সুবিধা পাবে এবং এমনকি সরাসরি রফতানি বৃদ্ধিরও সুযোগ রয়েছে এক্ষেত্রে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে যখন অভ্যন্তরীণ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে তা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের পণ্য রফতানি করার সুযোগ পাওয়া যাবে। এরপাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার বিষয়টি বাণিজ্যে আরো কিছু সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১’শ দিনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে তা নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে এবং এতে মার্কিন নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এতে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ২০ শতাংশ পণ্য যায় যুক্তরাষ্ট্রে। এতে আয় হয় ৬ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু কোভিড মন্দা ও কিছু জটিলতায় তা বিঘ্ন হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করে এমন কিছু মার্কিন কোম্পানি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার পর দেউলিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এদের সংখ্যা অন্তত ১৫টি। ট্রাম্প প্রশাসন কোভিড মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে এধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এসব বিষয়ে নজর দেবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন। ড. মোয়াজ্জেম মনে করেন রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতি ট্রাম্প অনুসরণ করায় যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা বাইডেনের উদার বাণিজ্য নীতির কারণে দূর হয়ে যেতে পারে। এতে অনেক দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানির সুযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া অতটা সুবিধা হবে না বলেই মনে করেন তিনি। এমনকি ডেমোক্রেট শাসনামলেও তা সহজ হবে না। কারণ শ্রমিকদের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ ও গণতন্ত্রের মত ইস্যুগুলোর সঙ্গে বাইডেন প্রশাসন আপোসহীন থাকবে। বরং এসব ইস্যুতে বাংলাদেশের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

ম্যাকি’স গার্মেন্টস লিমিটেডের আশিকুর রহমান তুহিন বলেন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটদের ক্ষমতায় আসা আমাদের রফতানি খাতের জন্যে সুখবর কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সময় তাদের রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতি দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা হ্রাস করেছিল। তার মত অন্যান্য রফতানিকারকদের একই অভিমত। বিশেষ করে ভিয়েতনামসহ ৮টি দেশের সঙ্গে টিপিপি চুক্তিতে ফিরে না আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন তা বাংলাদেশের রফতানিকেও উৎসাহীত করেছে। এতে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রে ওসব দেশের সঙ্গে সমান সুযোগ এনে দেবে।

সর্বাধিক পঠিত