প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মন্ত্রী সচিবরাও করোনার ফল নিয়ে দ্বন্দ্বে

নিউজ ডেস্ক : রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সব সময়ই বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাঁরা যান তাঁদের সবারই বাধ্যতামূলকভাবে করোনা পরীক্ষা করাতে হয়। পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এলেই রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়। পরীক্ষার জন্য ভিভিআইপি বা ভিআইপিদের পক্ষ থেকে আইইডিসিআরকে জানালেই তাঁদের বাসায় টেকনোলজিস্ট পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালের নমুনা পরীক্ষায় আইইডিসিআরের টেস্টে রেজাল্ট পজিটিভ এলেও পুলিশ হাসপাতাল এবং অন্য একটি প্রাইভেট ল্যাবে পুনঃপরীক্ষায় রেজাল্ট নেগেটিভ আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বড় হয়ে উঠেছে। আইইডিসিআর জোরালোভাবে দাবি করছে, তাদের রিপোর্ট ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিতভাবেই করোনা পজিটিভ। অন্যদিকে পুলিশ হাসপাতালের দাবি, তাদের পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমীনা শিরিন বলেন, ‘আরটি-পিসিআরে ফলস পজিটিভ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ফলস নেগেটিভ হতে পারে। ফলে আমরা নিশ্চিত, আমাদের ল্যাব টেস্টে যাঁদের রেজাল্ট পজিটিভ হয়েছে তাঁরা নিশ্চিতভাবেই করোনায় আক্রান্ত। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো ধরনের উপসর্গ না-ও থাকতে পারে।’ এই পরিচালক বলেন, ফলস নেগেটিভ হওয়ার কারণ হচ্ছে নমুনা সংগ্রহ ঠিকভাবে না হওয়া, পর্যাপ্ত নমুনা কিটের সঙ্গে না আসা কিংবা আরো কিছু টেকনিক্যাল বিষয় থাকতে পারে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু জানান, গত শনিবার মন্ত্রী ও সচিবের করোনা টেস্ট করা হয় আইইডিসিআরে। রেজাল্ট দেওয়া হয় ওই দিন রাতেই। তাতে দুজনেরই করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। পরে রবিবার দুজনেই পুলিশ হাসপাতালের ল্যাবে আবার নমুনা দেন। সন্ধ্যায় রিপোর্ট পাওয়া যায় নেগেটিভ। আবার গতকাল সোমবার তৃতীয় দফায় দুজনের নমুনা দেওয়া হয় প্রাইভেট ডিএমএফআর মলিক্যুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকসে। সেখানেও নেগেটিভ রেজাল্ট আসে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকাল মন্ত্রী ও সচিব দুজনের কেউ মন্ত্রণালয়ে যাননি। তাঁরা দুজনই সুস্থ আছেন এবং কোনো উপসর্গ নেই।

এদিকে আক্রান্ত হওয়ার পর যাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য কী ব্যবস্থা আছে, সে সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘কোনো ভিভিআইপি বা ভিআইপি কেউ গুরুতর অসুস্থ হওয়ার খবর পেলে আমরা তাত্ক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রটোকল অনুসারে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তবে অনেকে পারিবারিকভাবেই হয়তো আমাদের সহায়তা নেন না বা নিজেরাই তাঁদের পছন্দ অনুসারে হাসপাতালে যান। তবে প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের জন্য প্রাধিকারভিত্তিক বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনকি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও অনেক ভিভিআইপি বা ভিআইপি রোগীর চিকিৎসার তদারকি করে থাকেন। ফলে আমরা সে অনুসারে যেখানে যা করণীয় তা করে থাকি। অনেকেই এখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যান। সেখানে সামরিক বাহিনীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার আওতায় সব কিছু চলে।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬২টি। এর মধ্য থেকে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে চার লাখ ৩৪ হাজার ৪৭২ জন আর মারা গেছে ছয় হাজার ২১৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে কমবেশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষই রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বা সরকারের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিরা করোনা চিকিৎসা সরকারের প্রটোকল অনুসারেই ভিভিআইপি বা ভিআইপি মর্যাদা পান। অন্যরা অনেক সময়েই সরকারের তাত্ক্ষণিক নির্দেশনায় বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সব হাসপাতালেই তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা আছে নির্দিষ্টসংখ্যক কেবিন বা আইসিইউ বেড। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ করোনায় আক্রান্ত কিভাবে কতটা হচ্ছে কিংবা তাদের চিকিৎসাব্যবস্থা কী অথবা তারা হাসপাতালে কেন কম যাচ্ছে, তা নিয়েও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলে। এখন দেশে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকায় নতুন করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টি পড়ছে বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, হাসপাতালে এখনো বেডের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই খালি পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে গতকালও দেশে কভিড চিকিৎসায় বিশেষায়িত মোট ১১ হাজার ৪৫৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে মাত্র দুই হাজার ৫৫০টি বেডে রোগী ছিল, বাকি আট হাজার ৯০৩টি বেড খালি ছিল। এ ছাড়া সরকারি ৫৬৪টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ২৭৭টিতে রোগী ছিল এবং খালি ছিল ২৮৭টি বেড। তবে ঢাকায় রোগীর চাপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। গতকাল ঢাকায় ১৯টি হাসপাতালে মোট তিন হাজার ৫১৯টি বেডের মধ্যে এক হাজার ৮৭০টিতে রোগী ছিল। বাকি এক হাজার ৬৪৯টি বেড খালি ছিল। কয়েক দিন আগেও খালি বেডের সংখ্যা আরো বেশি ছিল। অন্যদিকে ঢাকায় ওই ১৯ হাসপাতালে ৩১৪টি আইসিইউয়ের মধ্যে ১৯৯টিতে রোগী ছিল আর খালি ছিল ১১৫টি বেড।

বেড খালি থাকার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার একটি বড় হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ভিভিআইপি বা ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত কোনো কেবিন বা আইসিইউ খালি নেই। হঠাৎ কোনো ভিআইপি রোগী এসে পড়লে আমরা বিপদে পড়ে যাই। তবে সাধারণ বেডগুলো বেশির ভাগই খালি পড়ে আছে।’

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহম্মেদ বলেন, ‘আইসিইউ নিয়ে আমাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। প্রাইভেট হাসপাতালের অনেক আইসিইউ খালি থাকলেও সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ খালি পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। হঠাৎ কোনো ভিআইপি রোগী এসে গেলেও এখন আমার এখানে রাখার সমতো আইসিইউ বেড খালি নেই। তবে সাধারণ বেড কিছু খালি আছে।’ এই কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, ‘এখন বেশির ভাগ ভিআইপি সিএমএইচে চলে যাওয়ায় আমাদের ওপর চাপ হয়তো কিছুটা কমেছে।’ কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত