প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন কাল ৮ নভেম্বর শুরু

মনিরুল ইসলাম: [২] জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ-২০২০) উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আগামী ৮ নভেম্বর শুরু হবে। এটি হবে একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন। বিশেষ মুজিববর্ষের এই বিশেষ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ওপর স্মারক বক্তৃতা দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এ জন্য বাড়তি প্রস্ততিও নেওয়া হচ্ছে। সংসদের এই দশম অধিবেশন ১০ কার্যদিবস চলতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

[৩] জানা যায়, মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশন চলবে ৯ থেকে ১২ নভেম্বর ৪ কার্যদিবস। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর নিয়মিত সাধারণ অধিবেশন চলবে। আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই অধিবেশন চলার সম্ভাবনা রয়েছে। অধিবেশনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হবে।

[৪] সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ৮ নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাব ও অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে।

[৫] ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। ওই দিন অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্মারক বক্তৃতা দেবেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য ও কর্মময় রাজনৈতিক জীবন ও তার অবদান নিয়ে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার পর এই বক্তৃতার উপরে আলোচনার জন্য একটি সাধারণ প্রস্তাব আনা হবে। ওই প্রস্তাবের ওপর সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা আলোচনা করবেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেওযা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শেষে তা পাস হবে।

[৬] জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী বলেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসবে অধিবে। বিশেষ অধিবেশন হবে ৪ দিন। ৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি স্মারক বক্তৃতা দেবেন। অধিবেশনের আলোচনা, সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, দর্শন, রাজনীতি ৪দিনের বিশেষ আলোচনা হবে। আলোচনা শেষে অধিবেশনের সাধারণ কার্যক্রম চলবে।

[৭] তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ২২ ও ২৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি ও অধিবেশন আহ্বান করাও হয়েছিলো। ওই অধিবেশনে বিদেশি অতিথিদেরও আমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অধিবেশন স্থগিত করেন রাষ্ট্রপতি। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুনরায় নতুন করে এই অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি।

[৮] সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য সংসদ সদসদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়। যারা করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে তারাই শুধু অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন। এই অধিবেশনেও রোষ্টার করে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার দিন ৯ নভেম্বর করোনা নেগেটিভ সব সংসদ সদস্য অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন।

[৯] বিশেষ অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যসহ সীমিত পরিসরে আমন্ত্রিত অতিথিরা সংসদ গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন।

[১০] রাষ্ট্রপতি ৯ নভেম্বরের স্মারক বক্তৃতার দিন সাংবাদিকরা সংসদ ভবনে যেতে পারবেন। এ জন্য সংসদ বিটের প্রতি প্রতিষ্ঠানের একজন করে রিপোর্টারকে সংসদ সচিবালয় থেকে করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে।

[১১] বিশেষ অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে স্পীকারের আসনের পেছনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টানানো হয়েছে।

[১২] সংসদ ভবনের লেকে ভাসানো হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন ২টি নৌকা। এই পাল তোলা নৌকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। ২টি নৌকা তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

[১৩] সংসদ লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০ বাণী নিয়ে আলো-ছায়ার দৃষ্টিনন্দন কোলাজ করা হয়েছে। রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে প্যান্ডেল করে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে পাকিস্তানের গণপরিষদ, স্বাধীন দেশে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদে বঙ্গবন্ধুর কাজগুলো ফোকাস করা হবে। সংসদ ভবনের ভেতরে-বাইরে আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন ধরনের বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।

[১৪] সূত্র আরও জানায়, এই অধিবেশনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০ পাসের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এর আগে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে গত ১২ অক্টোবর অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

[১৫] এছাড়া সংসদে ১১টি বিল পাস ও উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২০’ রয়েছে। গত ৩০ আগষ্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই বিলটির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত