প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলপিজির বিকল্প হয়ে উঠছে সমন্বিত সিলিন্ডার গ্যাস

শাহীন চৌধুরী: দীর্ঘদিন ধরে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের ব্যবহার ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উঁচু ভবনে কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এসব গ্যাস-সিলিন্ডারের ব্যবহার খুবই ঝামেলাযুক্ত। আর এই ঝক্কি-ঝামেলা দূর করতে রেটিকুলেশন সিস্টেম চালু করেছে এলপিজি কোম্পানিগুলো। এরই মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সমন্বিত সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ।

সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছেন, পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজির নতুন এ পদ্ধতি গ্রাহককে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করেছে। বর্তমানে বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, যমুনা, জি-গ্যাস, ল্যাফস গ্যাসসহ অন্তত সাত-আটটি এলপিজি কোম্পানি গ্রাহককে এ সেবা দিচ্ছে। রাজধানীতে পাইপলাইনের সংযোগ নেই এমন কয়েক হাজার ভবনে এরই মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর বাইরে দেশের বড় বড় বেশকিছু জেলা শহরে বহুতল ভবনগুলোতে রেটিকুলেশন সিস্টেম প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

জানা যায়, বড় পরিসরে রেটিকুলেশন সিস্টেম ব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা আবাসন প্রকল্পে অন্তত সাড়ে তিন হাজার ফ্ল্যাটে এ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীতে বিভিন্ন সরকারি ভবনে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। রেটিকুলেশন সিস্টেম বিষয়ে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের জেনারেল ম্যানেজার জাকারিয়া জালাল বলেন, এ পদ্ধতি গ্রাহকের জন্য বেশকিছুটা সাশ্রয়ী। এককভাবে ১২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করলে যে খরচ হয়, সে তুলনায় রেটিকুলেশন সিস্টেমে বড় সিলিন্ডার (৪৫ কিংবা ৩৫ কেজি) ব্যবহার করলে তুলনামূলক খরচ কম হয়। এছাড়া বহুতল ভবনে সিলিন্ডার ওঠানো বা নামানোর ঝামেলার কারণেও অনেকে এ পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, একটি ছয়তলা ভবনের ছোট আকারের ফ্ল্যাটগুলোতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এলপিজি কোম্পানিগুলো নিজস্ব লোকবলের মাধ্যমে এ সিস্টেম প্রতিস্থাপন করে দিচ্ছেন। এছাড়া অনেক ভবনের কর্তৃপক্ষও নিজেরা এখন রেটিকুলেশন সিস্টেম তৈরি করছেন। মূলত প্রতিটি ফ্ল্যাটে এককভাবে সিলিন্ডার ব্যবহার না করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অনেকগুলো সিলিন্ডার বসিয়ে সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রাহককে জ্বালানি সরবরাহ করার ব্যবস্থাটিই রেটিকুলেশন সিস্টেম নামে পরিচিত। যেখানে একজন গ্রাহক ওই লাইনের মাধ্যমে ঠিক যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করছে, তার ওপর ভিত্তি করে বিল পরিশোধ করতে পারেন।

এ পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারকারিদের বক্তব্য হচ্ছে এর মাধ্যমে তারা নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি ব্যবহার করতে পারছেন। একই সঙ্গে সিলিন্ডার পরিবর্তনের মতো ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাছাড়া ছোট সিলিন্ডারের গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এ পদ্ধতি বেশ সুফল। রেটিকুলেশন সিস্টেম ব্যবহার করে রাজধানীতে বড় আকারে গ্যাসের সংযোগ দেয়া হয় মিরপুরের ‘রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজ’-এ। সেখানে বড় ধরনের ‘বুলেট ট্যাঙ্ক’ বসিয়ে প্রায় ৪০০ গ্রাহককে এ পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি টিনশেডের নিচে বুলেট ট্যাঙ্ক বসিয়ে সাতটি আবাসিক ভবনে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। গ্রাহকরা পাইপলাইনের মাধ্যমেই নিজ নিজ বাসায় এ গ্যাস ব্যবহার করছেন।

প্রসঙ্গত, দেশের গ্যাস মজুদ ও সরবরাহ সংকটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ ২০০৯ সালে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মৌখিকভাবে অনুমতি দিলেও ২০১৮ সালে তা আবারো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জ্বালানি বিভাগ। এরপর এলএনজি আমদানির পর আবার আবাসিকে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ দেয়ার দাবি উঠলেও তা এখনো কার্যকরী হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের সংকটে এ পদ্ধতিতে বাসাবাড়িতে কিংবা বাণিজ্যিক ভবনে গ্যাস সরবরাহ বেশ নিরাপদ ও কার্যকরী। এখানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঝুঁকি এবং বহনের মতো ঝামেলা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, রেটিকুলেশন সিস্টেম গ্যাস গ্রাহকদের জন্য আধুনিক সুবিধা সংবলিত একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের গ্যাস ব্যবহারে যেমন ঝুঁকি কম থাকে, তেমনি সিলিন্ডার ব্যবহারের ঝামেলাও দূর হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত