প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজশাহীতে ইঁদুরের উৎপাতে বছরে ৪৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজশাহীতে ফসল উৎপাদন ও গুদামজাত শস্য সংরক্ষণে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইঁদুর।

ফাঁদ পেতেও ইঁদুর দূর করতে না পারায় বাড়ছে কৃষকদের উৎকণ্ঠা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীতে ইঁদুরের উৎপাতে বছরে ১৯ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন ফসল নষ্ট হয়। রাজশাহীর সব উপজেলায় ইঁদুর ক্ষতি করলেও তানোর, গোদাগাড়ী, পুঠিয়া, দুর্গাপুরে ইঁদুরের উৎপাত বেশি। এসব এলাকায় ধান ও গমের চাষ বেশি হয়।

চলতি মৌসুমে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রায় ৯৫ ভাগ জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কৃষকের জমিতে কিছু না কিছু কাঁচা ধান কেটেছে ইঁদুর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ইঁদুর বছরে উৎপাদিত গমের ৩-১২ ভাগ, ধানের ৫-৮ ভাগ ফসল নষ্ট করে। শাকসবজি ও ফলমূল জাতীয় ফসলের পাশাপাশি গুদামঘরে সংরক্ষিত ফসলেরও মারাত্মক ক্ষতি করছে ইঁদুর।

অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ইঁদুরের কারণে খামারজাত উৎপাদনের বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ইঁদুর হাঁস-মুরগির খামারে গর্ত করে। মুরগির খাবার, ডিম ও ছোট মুরগি খেয়ে বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি করে। এছাড়াও অন্যান্য গবাদিপশুর খাবার নষ্ট করে বড় অঙ্কের ক্ষতি করে ইঁদুর।

কৃষিবিদরা বলছেন, ইঁদুর সমস্যার একমাত্র সমাধান দমন ব্যবস্থাপনা পদ্বতি। এ পদ্ধতিতে কাজ করছে পেশাদার ইঁদুর শিকারি, কৃষি বিভাগের আইএফএমসি, আইপিএম ও ক্লাবের সদস্যরা।

দমন পদ্ধতিগুলোকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। পরিবেশসম্মত দমন ও বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে দমন বা রাসায়নিক পদ্বতিতে দমন। পেঁচা, গুইসাপ, বেজি, শিয়াল, বিড়াল ইত্যাদি প্রাণীর প্রধান খাদ্য ইঁদুর। এমন প্রাণীগুলো দিনে দিনে বিলুপ্ত হচ্ছে। এ প্রাণীগুলোকে সংরক্ষণ করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ ইঁদুর সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর স্কুলপাড়া গ্রামের কৃষক আশরাফুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে অন্যের ৬ বিঘা জমি বর্গা আমন চাষ করেছি। এর মধ্যে প্রায় এক ১০ থেকে ১৫ শতক মত কাঁচা ধান কেটে ফেলেছে ঈদুর। রাতে ক্ষেতের পাশে পুরনো টায়ার পোড়ানো, পটকা ফোঁটানো, বিষ টোপ ব্যবহার করা করেও ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না।

একই গ্রামের কৃষক হুমায়ন কবির বলেন, এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়েও ইঁদুর দমন করতে পারছি। এবার আমন ধান লাগিয়েছি মোট আড়াই বিঘা। যার মাঝে ইঁদুর এক বিঘার ধান নষ্ট করেছে। জমিতে ইঁদুরের ব্যাপক উৎপাত। ইঁদুর দমনে বিভিন্ন টোপ ও ফাঁদ ব্যবহার করেও সমাধান মিলছে না।

গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক সুরমান আলী বলেন, গত বছর ইঁদুরের উৎপাতে আমার গমের বিশাল অংশ ক্ষতি হয়। এবার আমন ধানের জমিতে ইঁদুর উৎপাত শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে দমনের কাজ করছি।

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা ইঁদুর কীভাবে দমন করতে হয় সেটা জানেন। মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের সঙ্গে কাজ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ফসলের ক্ষতি ঠেকাতে ইঁদুর দমনে আমরা সারা বছর কাজ করছি। গত বছর মোট ৮৭ হাজার ২৪১টি ইঁদুর মারা হয়েছে। উপজেলার সকল কৃষি অফিস ১৫ দিন পর পর আমাদের ইঁদুর মারার রিপোর্ট জমা দেয়। বছরে একবার করে আমাদের ইঁদুর নিধনের বিষয়ে কৃষকের সাথে পরামর্শ দেওয়া হয়। নিধন কার্যক্রমে আমরা সার্বিকভাবে মাঠে আছি। বাংলানিউজ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত