প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা: ‘ঙ’ বনাম ং ব্যবহারে নিয়ম কী?

মাসুদ রানা: বাংলায় ‘ong’ ব্যঞ্জন ধ্বনি দু’টি বর্ণের দ্বারা প্রতীকায়িত হয়। তাদের একটি ‘ঙ’ এবং অন্যটি ‘ং’। প্রশ্ন হচ্ছেঃ কখন কোনটি ব্যবহার করবেন? কোনো নিময় বা বিধি আছে কি?

সত্যি বলতে, ছাত্রজীবনে এ-বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমি পাইনি। বহু বই ঘেঁটেও পাইনি। নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে আমার বলা উচিত যে, কোথাও থাকলেও আমি তা জানি না।

যাহোক, আমাদের বর্ণমালার বর্গ-বিন্যাস ও বানান-রীতি দেখে এক সময় আমার মনে হয়েছে, ‘ঙ’ বনাম ‘ং’ ব্যবহারের একটি নিয়ম সম্ভবতঃ আছে। আর, আমার এই উপলব্ধির ভিত্তিতে সাড়ে চার বছর আগে এই ফেইসবুকেই একটি পৌস্টিংয়ে নিয়মটি লিখেছিলাম। আজ ইনবক্সে এক বন্ধুর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আবার লিখছি।

আমরা জানি যে, বাংলার প্রথম ২৫টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৫x৫ বর্গের একটি মেট্রিক্সে বিন্যস্ত, যেখানে ৫টি সারি ও ৫টি স্তম্ভ আছে।

ক খ গ ঘ ঙ
চ ছ জ ঝ ঞ
ট ঠ ড ঢ ণ
ত থ দ ধ ন
প ফ ব ভ ম

উপরের মেট্রিক্সে একেকটি সারিকে একেকটি বর্গ বলা হয় এবং বর্গের নাম তার প্রথম বর্ণের দ্বারা সূচিত হয়। সে-অনুসারে, আমাদের বর্গ ৫টি হচ্ছেঃ ক-বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ ও প-বর্গ। এই বর্গ-বিন্যাস হয়েছে বর্ণের দ্বারা প্রতীকায়িত ধ্বনির উচ্চারণের স্থান অনুসারে।

লক্ষ করবেন, ‘ট’-‘ঠ’-‘ড’-‘ঢ’ ধ্বনির আগে জিভ দিয়ে দাঁত স্পর্শ করে দন্ত্য-‘ন’ ধ্বনি উচ্চারণ করা অসম্ভব; করতে গেল অনুগামী ‘ট’-‘ঠ’-‘ড’-‘ঢ’ ধ্বনি চারটি যথাক্রমে ‘ত’-‘থ’-‘দ’-‘ধ’ হয়ে যায়। তাই, ‘ত’-‘থ’-‘দ’-‘ধ’ বর্ণের সাথে দন্ত্য-‘ন’ যুক্ত করা হয়েছে।বস্তুতঃ ‘ট’-‘ঠ’-‘ড’-‘ঢ’ উচ্চারণ করতে হলে মূর্ধা থেকে মূর্ধন্য-‘ণ’ উচ্চারণ করতে হয়।

উপরে বর্ণিত কারণে, ‘দন্ত’, ‘বৃন্ত’, ‘বিন্দু’, ‘সিন্ধু’ বানানে আমরা ‘ত’-‘থ’-‘দ’-‘ধ’ ধ্বনির সাথে দন্ত্য-‘ন’ ধ্বনি যুক্ত করি। অন্যদিক, ‘বণ্টন’, ‘লণ্ঠন’, ‘ডাণ্ডা’, ‘ঢেন্ঢণ’ শব্দে আমরা ‘ট’-‘ঠ’-‘ড’-‘ঢ’ ধ্বনির সাথে মূর্ধন্য-‘ণ’ যুক্ত করি। অর্থাৎ, ‘ন+ট’, ‘ন+ঠ’, ‘ন+ড’ উচ্চারণ অসম্ভব। একইভাবে, ‘ণ+ত’, ‘ণ+থ’, ‘ণ+দ’, ‘ণ+ধ’ উচ্চারণ সম্ভব নয়।

আমার মনে হয়েছে, ‘ঙ’ দিয়ে ‘ong’ ধ্বনি উচ্চারণের ক্ষেত্র বর্গের নিয়মটি প্রযোজ্য হবে। আমি বলতে চাইছি, কোনো শব্দের বানান লিখতে গেলে ‘ক’-‘খ’-‘গ’-‘ঘ’ ধ্বনির আগে ‘ং’ নয়, বরং ‘ঙ’ ব্যবহার করতে হবে।

যেমন, ‘অ+ঙ+ক=অঙ্ক’; ‘শ+ঙ+খ=শঙ্খ’, ‘গ+ঙ+গ+আ=গঙ্গা’, ‘জ+ঙ+ঘ+আ=জঙ্ঘা’।

অন্যদিকে, ‘অ+ং+শ=অংশ’, ‘হ+ং+স=হংস’, ‘স+ং+ব+আ+দ=সংবাদ’, ‘স+ং+ল+আ+প=সংলাপ’, ‘স+ং+স+দ=সংসদ’, ‘স+ং+শ+য়=সংশয়’ ইত্যাদি।

তবে, কিছু ব্যতিক্রম আছে। যেমন, ‘সংখ্যা’ (স+ং+খ+্য+আ) শব্দের বানানে ক-বর্গের সদস্য খ-র আগে ঙ আসেনি। একইভাবে ‘সংজ্ঞা’ (স+ং+ঙ+গ+আ) বানানে ক-বর্গের খোদ ‘ঙ’-র আগে ‘ঙ’ না এসে, বরং ‘ং’ এসেছে।

পরিশেষে, কোনো শব্দ যদি ‘ong’ ধ্বনি দিয়ে শেষ হয়, সেখানে ‘ঙ’ ব্যবহার করলে নিয়ম ভঙ্গ হয় না। কারণ, ‘ঙ’ ধ্বনির পর কোনো ধ্বনিই সেখানে থাকে না বলে বর্গ-বিরোধ ঘটে না। যেমন, ব+এ+ঙ = বেঙ!

১৭/১০/২০২০
লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড

ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত