প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাঞ্ছারামপুরে বিলে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, চাষাবাদের অনুপযোগী ৩’শ হেক্টর জমি

তৌহিদুর রহমান: [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩’শ হেক্টর কৃষি জমি। এই জমি থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক ধান উৎপাদন হতো বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে কচুরিপানা আটকে থাকায় প্রায় কয়েক হাজার কৃষকের জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে বিলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি নৌযান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও।

[৩] সরেজমিনে ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ফরদাবাদ ও রূপসদী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে থাকা বাড়িয়াদহ বিলটি স্থানীয় ফরদাবাদ-রূপসদী ধীবর সমবায় সমিতির নামে তিন বছরের জন্য ইজারা দেয়। সমিতির সদস্যদের নামে নেওয়া ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে বিলটি সাব ইজারা দেয়া হয়। তারপর ওই সাব ইজারাদাররা মাছ চাষের জন্য বাঁশ ও জাল দিয়ে বাঁধ দেন বিলে। আর এই বাঁধের কারণে কচুরিপানা আটকে কৃষকদের প্রায় ৩’শ হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদী হয়ে পড়েছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। মাছ চাষের জন্য অবৈধভাবে বিলের প্রায় কয়েক কিলোমিটার অংশজুড়ে বাঁশ ও জাল দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন সাব ইজারাদাররা। এই বাঁধের ভেতরেই মাছ চাষ করা হচ্ছে। বাঁধ দেওয়া এলাকার মধ্যেও অনেক কৃষকের জমি রয়েছে। এছাড়া বাঁধের কারণে বিলের আশপাশের প্রায় ৩’শ হেক্টর জমিতে কচুরিপানা ভরে গেছে। এতে করে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না।

[৪] স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতি হেক্টর জমিতে ছয় মেট্রিক টনেরও বেশি ধান উৎপাদন হয়। সেই হিসেবে বিলে বাঁধ দেয়ার কারণে চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়া তিনশ হেক্টর জমিতে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। মাছ চাষের জন্য অবৈধভাবে দেয়া বাঁধের কারণে জমিতে কচুরিপানা আটকে কৃষকের ধানি জমি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিলে পানির প্রবাহও ব্যহত হচ্ছে। এই জমির ওপর চার হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে।

[৫] জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত আবদুল জলিল জানিয়েছেন, এক কাণি জমি (৩০ শতাংশ) থেকে কচুরিপানা সরাতে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ লাগে কিন্তু এই টাকা টাকা খরচ করে কচুরিপানা সরানোর সক্ষমতা নেই অধিকাংশ কৃষকের।

[৬] রূপসদী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শওকত মিয়া জানান, বাড়িয়াদহ বিলের পাশে তাঁর আড়াই কানি কৃষি জমি রয়েছে। প্রতি মৌসুমে এই জমি থেকে প্রায় ৫০ মণের মতো ধান গোলায় তুলেন তিনি। কিন্তু বিলে বাঁধ দেয়ার কারণে তাঁর সব জমি এখন কচুরিপানার নিচে। আর তাই মৌসুমের ধান চাষ করতে পারেননি তিনি।

[৭] ফরদাবাদ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মামুন মিয়া বলেন, ‘আমার ১৫ কাণি জমিতে প্রায় ৩’শ মণ ধান উৎপাদন হয়। শুধু বিলের এই বাঁধের কারণে কচুরিপানা আটকে আমাদের জমি এখন চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যদি বাঁধ না দিতো তাহলে কচুরিপানা আমাদের জমিতে থাকতো না। এখন আমাদের কৃষকদের মরার মতো অবস্থা।

[৮] মূল ইজারাদার ও ফরদাবাদ-রূপসদী ধীবর সমবায় সমিতির সদস্য পিছন দাস বলেন, জমিতে আটকে থাকা কচুরিপানা আমরা পরিস্কার করে দেব।

[৯] বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ার বলেন, আমরা ইজারা নেয়া মৎস্যজীবী সমিতিকে সময় দিয়েছি। নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে বাঁধটি অপসারণ করার পাশপাশি কৃষি জমিতে আটকে থাকা কচুরিপানা পরিস্কার করার জন্য বলা হয়েছে। যদি নিদিষ্ট করে দেয়া সময়ের মধ্যে বাঁধটি অপসারণ এবং কচুরিপানা পরিস্কার না করা হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত