প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনায় বেড়েছে মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ

বিডি প্রতিদিন: করোনা মহামারীর সময় বিশ্বজুড়ে অপরাধের ধরন পাল্টে গেছে। সাধারণ অপরাধ কমলেও বেড়েছে নতুন অপরাধপ্রবণতা। এর মধ্যে আর্থিক জালিয়াতি, অর্থপাচার, আর্থিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধই বেশি হচ্ছে। এসব অপরাধ বেড়েছে বাংলাদেশেও। গতকাল বৃহস্পতিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বিষয়টি উঠে আসে।

করোনা ভাইরাস মহামারীতে অর্থনৈতিক কর্মকা- সীমিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাতে আর্থিক প্রতারণা, মানি লন্ডারিং, আর্থিক জালিয়াতি এবং এ-সংক্রান্ত সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঝুঁকি নিরসন ও জালিয়াতির ঘটনা কমিয়ে আনতে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার জন্য মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ-সংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটিকে পরামর্শ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইভাবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), শুল্ক গোয়েন্দা পরিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এসব বিষয় পর্যালোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করা হয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে উঠে এসেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আমদানি-রপ্তানি পর্যবেক্ষণ, সব ধরনের অনলাইন লেনদেনে সার্ভেলেন্স বাড়ানোর সুপারিশ, বিএফআইইউ এবং শুল্ক গোয়েন্দার তৎপরতা বাড়ানো এবং সুইস ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং যাদের অর্থ গচ্ছিত আছে তাদের ব্যাপারে তথ্য খোঁজার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সম্প্রতি সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশ থেকে অর্থপাচার হয়ে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা দেশের আর্থিক খাতের কার্যক্রম সীমিত করা হয়। সে সময় নানা কারণে পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন কাজেও কিছুটা শিথিলতা ছিল। সেই সুযোগে মানি লন্ডারিং, আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও সাইবার-সংক্রান্ত অপরাধ কর্মকা- বেড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এতে করে দেশ থেকে এ সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ মানি লন্ডারিং হয়েছে। ব্যাংক খাতেও অনেক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সাইবার অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্যেরও বিস্তার ঘটেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

বিভিন্ন সময় পাচার হওয়া অর্থ, চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার, সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশিদের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সভায় উপস্থাপন করা হয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে- তিন মাস আগে এমন তথ্যই দিয়েছিল সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেল ইনস্টিটিউট অন গভর্নেন্স। সে সময় সংস্থাটি মানবপাচার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার বিশ্বব্যাংকও সেটিকে আমলে নিয়ে বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশে মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে। এ জন্য মানবপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে। কেননা প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার হয় আমদানি-রপ্তানির আড়ালে। এ জন্য অনলাইনে নিরাপদ লেনদেনকে দ্রুত জনপ্রিয় করারও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা খুবই কঠিন। এ জন্য যেসব সূত্রের মাধ্যমে টাকা পাচার হয় সেই সব সূত্র বন্ধ করাই সর্বোত্তম।

সর্বাধিক পঠিত