শিরোনাম
◈ বড়পুকুরিয়ার কয়লা দিয়ে ৬০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ ইতালিতে আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল ◈ শাহজালালে স্বর্ণ চোরাচালান: বিদেশে বসে নিয়ন্ত্রণ ৫০ জনের, দেশে ২০০ চোরাকারবারি ◈ বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের ◈ কোনোভাবেই সৌর বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা হতে পারে না ◈ নারী এশিয়া কা‌পের ম‌্যা‌চে ভারতীয় ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার ইঙ্গিত করায় শাস্তি পেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক ◈ কে এই ক্রিকেটার, ৮২ বছর বয়সে অবসর নি‌লেন? ◈ পাবনায় ইস্কন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের সময় হাতেনাতে আটক সনাতনী শিক্ষার্থী প্রান্থ কুমার দাস! ◈ নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে ‘বান্ধবীকে বিয়ের আশায়’ স্তন অপসারণ, তরুণীর মৃত্যু ◈ সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২০, ০৪:৫৯ সকাল
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২০, ০৪:৫৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিররঞ্জন সরকার: পুরুষদের মনস্তত্ত্বে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শ্রেষ্ঠত্বের বোধ, পুরুষ হয়ে জন্মানোর অহং

চিররঞ্জন সরকার : ধর্ষণের মতো অপরাধকে কোনো অভিন্ন খোপে বুঝতে চাওয়া উচিত নয়। যুদ্ধ বা দাঙ্গাহাঙ্গামার সময়ে ধর্ষণকে যখন পরিকল্পিত রণকৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে এক রকমের মন। নারী এখানে সম্প্রদায়ের ‘ইজ্জতের’ প্রতীক হয়ে উঠছে। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বা পুরনো কোনো অপমানের বদলা নিতে যখন নির্দিষ্ট কাউকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, তার পেছনে আর এক রকমের মন। নারী সেখানে শত্রুবিশেষ। আবার বন্ধুরা মিলে নেশাতুর অবস্থায় খানিক ফুর্তি করতে যখন কোনো মেয়েকে ধরে আনা হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন মন। প্রেমিকা বা স্ত্রীর প্রতি বিশেষ মুহূর্তে বলপ্রয়োগ করা বা নিজের অধীনস্থ কারো অসহায়তার সুযোগ নিয়ে, হয়তো বা কিছু পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাকে যৌন সংসর্গে বাধ্য করা। কিংবা নিজের অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে নিজের চেয়ে ওপরতলার কোনো নারীকে ধর্ষণ করার পেছনেও কিন্তু আলাদা আলাদা মন। আবার অসহায় অল্পবয়সী কোনো নারীকে ধর্ষণের পেছনে রয়েছে আরেক ধরনের মন। সুতরাং ধর্ষণ মানেই যৌন ক্ষুন্নিবৃত্তির তাড়না যেমন নয়, একইভাবে ধর্ষণ মানেই শুধু ক্ষমতা কায়েম বা বাগে আনার চেষ্টাও নয় বোধ হয়। বাবা যখন মেয়েকে ধর্ষণ করছে বা দাদু নাতনিকে, তার পেছনে কোন মন? যে মন বা মনের অভাব থেকে হুলো বেড়াল মাঝে মাঝে নিজের ছানাদের খেয়ে ফেলে, সেটাই কী।

কোনো ধর্ষণকারীই তো চাঁদ থেকে পড়ে না। তারা আমাদের এই সমাজেই জন্ম নেয়, বেড়ে ওঠে। তাদের মনস্তত্ত্বে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শ্রেষ্ঠত্বের বোধ, পুরুষ হয়ে জন্মানোর অহং। যার বীজ শুধু ধর্ষণকারীর ভেতরেই নয়, বিচারব্যবস্থা ও পুলিশি ব্যবস্থার মধ্যেও রয়েছে। শহর, গ্রাম সর্বত্র পুলিশ কনস্টেবল, বিচারব্যবস্থার, কর্মী সবাই আসছেন এই মানসিকতা নিয়ে। পুলিশ নিজেই ধর্ষণ করছে এমন অভিযোগও তো কম নয়। আবার যিনি ধর্ষিতা হচ্ছেন সেই নারীর নৈতিকতা (অর্থ্যাৎ তিনি কুমারী কিনা, তার পোশাক কী রকম, পেশা কী, কেন রাত করে বাড়ি ফেরেন) এ বিষয় গুলো নিয়েও চুলচেরা আলোচনা আর বিচারও তো জোরেশোরেই চলছে। ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় যেন, যে ধর্ষণ করেছে, সে নিগৃহীতার তুলনায় অনেক বড় মাপের মানুষ। এই সামাজিক অসুখ থেকে উদ্ধারের কোনো শর্টকাট পদ্ধতি আছে বলে মনে হয় না। তবে দেখেশুনে যেটুকু মনে হয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। যার মধ্যে রয়েছে পুরুষ ও নারীকে সমান চোখে দেখার মূল্যবোধ তৈরি, পুলিশসহ সমাজের সকল ব্যক্তির মানসিকতার বদল, বিচারব্যবস্থার সংস্কার। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ