শিরোনাম
◈ প্রতি তিনজন স্নাতকের একজন বেকার: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শ্রমবাজার ◈ মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা বাড়লেও বাড়ছে ঋণের দায় ◈ সস্তায় পেয়ে ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, পরে জানলেন বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই ◈ বিসিবির প‌রিচালকরা কে কোন ক‌মি‌টির দায়িত্ব পে‌লেন ◈ নির্বাচনের আগে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে দেড়গুণ বাড়ানো হলো বিজিবি মোতায়েন ◈ ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, ব্যাংকটি বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী ◈ কী থাকবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চার বিষয়ের মধ্যে? ◈ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান, নাহিদ-মোসাদ্দেকের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ◈ এবার বাতিল হ‌লো ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা ‌বিশ্বকা‌পের টিকিটও

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২০, ০৪:৫৯ সকাল
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২০, ০৪:৫৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিররঞ্জন সরকার: পুরুষদের মনস্তত্ত্বে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শ্রেষ্ঠত্বের বোধ, পুরুষ হয়ে জন্মানোর অহং

চিররঞ্জন সরকার : ধর্ষণের মতো অপরাধকে কোনো অভিন্ন খোপে বুঝতে চাওয়া উচিত নয়। যুদ্ধ বা দাঙ্গাহাঙ্গামার সময়ে ধর্ষণকে যখন পরিকল্পিত রণকৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে এক রকমের মন। নারী এখানে সম্প্রদায়ের ‘ইজ্জতের’ প্রতীক হয়ে উঠছে। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বা পুরনো কোনো অপমানের বদলা নিতে যখন নির্দিষ্ট কাউকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, তার পেছনে আর এক রকমের মন। নারী সেখানে শত্রুবিশেষ। আবার বন্ধুরা মিলে নেশাতুর অবস্থায় খানিক ফুর্তি করতে যখন কোনো মেয়েকে ধরে আনা হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন মন। প্রেমিকা বা স্ত্রীর প্রতি বিশেষ মুহূর্তে বলপ্রয়োগ করা বা নিজের অধীনস্থ কারো অসহায়তার সুযোগ নিয়ে, হয়তো বা কিছু পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাকে যৌন সংসর্গে বাধ্য করা। কিংবা নিজের অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে নিজের চেয়ে ওপরতলার কোনো নারীকে ধর্ষণ করার পেছনেও কিন্তু আলাদা আলাদা মন। আবার অসহায় অল্পবয়সী কোনো নারীকে ধর্ষণের পেছনে রয়েছে আরেক ধরনের মন। সুতরাং ধর্ষণ মানেই যৌন ক্ষুন্নিবৃত্তির তাড়না যেমন নয়, একইভাবে ধর্ষণ মানেই শুধু ক্ষমতা কায়েম বা বাগে আনার চেষ্টাও নয় বোধ হয়। বাবা যখন মেয়েকে ধর্ষণ করছে বা দাদু নাতনিকে, তার পেছনে কোন মন? যে মন বা মনের অভাব থেকে হুলো বেড়াল মাঝে মাঝে নিজের ছানাদের খেয়ে ফেলে, সেটাই কী।

কোনো ধর্ষণকারীই তো চাঁদ থেকে পড়ে না। তারা আমাদের এই সমাজেই জন্ম নেয়, বেড়ে ওঠে। তাদের মনস্তত্ত্বে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শ্রেষ্ঠত্বের বোধ, পুরুষ হয়ে জন্মানোর অহং। যার বীজ শুধু ধর্ষণকারীর ভেতরেই নয়, বিচারব্যবস্থা ও পুলিশি ব্যবস্থার মধ্যেও রয়েছে। শহর, গ্রাম সর্বত্র পুলিশ কনস্টেবল, বিচারব্যবস্থার, কর্মী সবাই আসছেন এই মানসিকতা নিয়ে। পুলিশ নিজেই ধর্ষণ করছে এমন অভিযোগও তো কম নয়। আবার যিনি ধর্ষিতা হচ্ছেন সেই নারীর নৈতিকতা (অর্থ্যাৎ তিনি কুমারী কিনা, তার পোশাক কী রকম, পেশা কী, কেন রাত করে বাড়ি ফেরেন) এ বিষয় গুলো নিয়েও চুলচেরা আলোচনা আর বিচারও তো জোরেশোরেই চলছে। ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় যেন, যে ধর্ষণ করেছে, সে নিগৃহীতার তুলনায় অনেক বড় মাপের মানুষ। এই সামাজিক অসুখ থেকে উদ্ধারের কোনো শর্টকাট পদ্ধতি আছে বলে মনে হয় না। তবে দেখেশুনে যেটুকু মনে হয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। যার মধ্যে রয়েছে পুরুষ ও নারীকে সমান চোখে দেখার মূল্যবোধ তৈরি, পুলিশসহ সমাজের সকল ব্যক্তির মানসিকতার বদল, বিচারব্যবস্থার সংস্কার। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়