প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্দামানের লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ের আলামত!

ডেস্ক রিপোর্ট: উত্তর আন্দামান সাগর ও এর সংলগ্ন এলাকায় গতকাল শুক্রবার একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া-জলবায়ু সংস্থা-নেটওয়ার্ক সূত্রগুলো জানায়, উত্তর আন্দামান সাগরের লঘুচাপটি ঘনীভ‚ত হয়ে নিম্নচাপ আকারে আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বঙ্গোপসাগরের উপরিতলে বর্তমানে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেশিই রয়েছে। যা লঘুচাপ থেকে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ারই উপযোগী ও সহায়ক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশি^ক উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টর যোগ হওয়ায় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ-ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসের মতো দুর্যোগের ঘনঘটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সহ অতীতের দুর্যোগক্রম অনুযায়ী, সচরাচর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এই সমুদ্রে সৃষ্ট লঘুচাপ-নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসে রূপ নেয়ার আশঙ্কা বেশিই থাকে। যা এদেশে ‘আশ্বিন-কার্তিকের তুফান’ কিংবা ‘অক্টোবর-নভেম্বর বিপদ’ হিসেবে পরিচিত। অতীতে বেশ ক’টি প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস এ সময় বাংলাদেশে আঘাত হানে। সর্বশেষ গত ৯ নভেম্বর-২০১৯ইং ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এবং ২০ মে-২০২০ইং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছাস ‘আম্পান’ ভারত হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানে।

চলতি অক্টোবর (আশি^ন-কার্তিক) মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দু’টি নিম্নচাপ সৃষ্টি এবং এরমধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। নভেম্বর মাসেও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানা গেছে। সাধারণত উত্তর আন্দামান সাগরের কাছে-কিনারে সৃষ্ট লঘুচাপ বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হতে হতে ক্রমেই ঘনীভ‚ত হয়ে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এরজন্য ঝুঁকি বা শঙ্কার মৌসুম এখন।

এদিকে বৃষ্টিবাহী মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় নয়। এরফলে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় মাত্র ২ মিলিমিটার ছিটেফোঁটা বৃষ্টি ছাড়া দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। তাপমাত্রার পারদ সর্বোচ্চ ছিল রাঙ্গামাটিতে ৩৬.৩, ঢাকায় ৩৪.৭ এবং সর্বনিম্ন ২৭.২ ডিগ্রি সে.। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, মংলা, বরিশাল, স›দ্বীপসহ দেশের সমুদ্র উপক‚ল, চর ও দ্বীপাঞ্চলে ৩৫ ডিগ্রির ঊর্ধ্বে আশি^নের শেষের দিকে এসে বর্তমানে তীব্র ও গুমোট ধরনের গরম অনুভ‚ত হচ্ছে। যা আলামত দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের মতো সম্ভাব্য দুর্যোগের।

আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, দেশের দুয়েক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অনেক জায়গায় আবহাওয়া থাকতে পারে শুষ্ক।

সারাদেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এবং এরপরের ৫ দিনে আবহাওয়ায় পরিবর্তন হতে পারে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

নামছে বানের পানি

গতকালসহ বেশ কয়েকদিন যাবত উজানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং দেশের অভ্যন্তরেও বৃষ্টিপাত তেমন নেই কিংবা স্তিমিত রয়েছে। এরফলে প্রধান নদ-নদীসমূহের বানের পানি ক্রমাগত নামছে ভাটির দিকে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। দেশের প্রধান সব নদ-নদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

গতকাল পাউবো’র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টায়ও অব্যাহত থাকতে পারে। নদ-নদীসমূহের ১০১টি পানির সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গতকাল ৮৫টি পয়েন্টে পানি হ্রাস ও ১৫টিতে বৃদ্ধি পায়। একটি স্থানে পানির সমতল অপরিবর্তিত থাকে। বৃহস্পতিবার ৮০ পয়েন্টে পানি হ্রাস ও ১৭টিতে বৃদ্ধি পায়।

দেশের উত্তর, উত্তর-মধ্য ও মধ্যাঞ্চল হয়ে ভাটির দিকে বানের পানি হ্রাসের সঙ্গে প্রবল চাপ, স্রোত ও ঘূর্ণিস্রোতের কারণে অনেক জায়গায় নদ-নদীর দুই তীরে তীব্র নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী হারাচ্ছে ভিটেমাটি। বিলীন হচ্ছে বাপ-দাদা, পূর্বপুরুষের আশ্রয়ের ঠাঁই-ঠিকানা। প্রমত্তা নদ-নদী গ্রাস করছে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, মসজিদ, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, আবাদী জমি, বিভিন্ন স্থাপনা। গত জুন মাস থেকে এ বছর দফায় দফায় বন্যার সঙ্গে ব্যাপক নদীভাঙনে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি।ইনকিলাব

 

সর্বাধিক পঠিত