প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোভিডে ভারতের অর্থনৈতিক সংকটেও পুনরুদ্ধারের আশা, জিডিপি কমবে ৯.৫ শতাংশ

রাশিদ রিয়াজ : ব্যবসায়ী ও শিল্প নেতারা বলছেন গত ত্রৈমাসিকে কোভিড সংকটে ভারতের অর্থনীতির এক চতুর্থাংশ নিশ্চিহ্ন হলেও তারা তা পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখছেন। তারা বলছেন চতুর্থ ত্রৈমাসিকে কোভিড অতিমহামারীর প্রভাব থেকে মুক্ত হবে ভারতের অর্থনীতি। শুক্রবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস সতর্ক করে এও বলেছেন, চলতি আর্থিক বছরে সামগ্রিকভাবে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে ৯.৫ শতাংশ। বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোই জানানো হয় শুক্রবার। আরটি

ইকোনমিক টাইমসকে এ্যাক্সিস ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও এমডি অমিতাভ চৌধুরী বলেন বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে ভারতের ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বিশেষত গত একমাস বা তারও বেশি সময় ধরে। ভারতে অর্থণৈতিক সংকোচনের মধ্যে ঋণের মাত্রা জিডিপির ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এমন আশঙ্কা আগেই করেছিল পশ্চিমা বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ কোম্পানি এসএন্ডপি। ব্যাংকাররা ভারতে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার মনে করার কারণ হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড ব্যয় বাড়ছে, এ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। ধীর গতিতে হলেও অনেকটা ‘এল’ আকৃতির মত অর্থনীতি নড়াচাড়া করতে শুরু করেছে। গত আগস্টে ভারতের অটোমোটিভ খাতের প্রবৃদ্ধি রেকর্ডে পৌঁছে। সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বাড়ছে। গ্রামীণ বাজারে প্রবৃদ্ধি আংশিক হলেও বাড়ছে।

ভারতের অর্থনীতিবিদ শক্তিকান্ত দাস বলেন, কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েকটি খাত ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিকাশের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা পরিষ্কার ইঙ্গিত পাচ্ছি, প্রথম ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির যে সংকোচন দেখা গিয়েছিল, তা এখন অতীতের বিষয় হয়ে উঠেছে। মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে শক্তিকান্ত দাস বলেন, সেপ্টেম্বরে তা কমবে না। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে জিনিসপত্রের দাম কমতে পারে। করোনা সংকট সম্পর্কে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর বলেন, অন্ধকারে আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। দেশে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা কমেছে। মানুষ আগে আতঙ্কিত ছিল। এখন আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। সবাই আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

টাটা স্টিলের সিইও টিভি নরেন্দ্রন বলছেন রফতানির ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে তার কোম্পানি। ভরসা হিসেবে দেখছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতের ওপর। কারণ কৃষি আবহাওয়া বা মৌসুম ভালই আছে। কারখানাগুলোর কার্যক্রম গত ৮ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উৎপাদনশীল খাতে সূচক বৃদ্ধি ঘটেছে সেপ্টেম্বরে ৫৬.৮ শতাংশে। যা আগস্টে ছিল ৫২ শতাংশ। এধরনের ৫০টি ব্যবসায়ী সূচকের অনেকগুলোর পরিবর্তন ইতিবাচক। তবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন ভারতের অর্থনীতিবিদরা। গত ত্রৈমাসিকে জিডিপি যেখানে ২৩.৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, সেখানে কৃষিতে বিকাশ হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার চিফ ইকনমিস্ট সৌম্যকান্তি ঘোষ বলেন, কৃষিতে যে ভাল বিকাশ হবে, তা প্রত্যাশিত ছিল। কারণ সরকার ওই ক্ষেত্রে নানা বাধা সরিয়ে নিয়েছিল আগেই। কিন্তু একই সঙ্গে সৌম্যকান্তি ঘোষ বলছেন, গত ত্রৈমাসিকে জিডিপির মাত্র ৫.৭ শতাংশ এসেছে কৃষি থেকে। কিন্তু তার আগের দু’টি ত্রৈমাসিকে জিডিপির ১৩.৫ শতাংশ কৃষি থেকে এসেছিল। তার ওপরে গ্রামাঞ্চলে যেভাবে কোভিড ছড়াচ্ছে, আগামী দিনে কৃষির বিকাশ রুদ্ধ হবার আশঙ্কা এখনো দূর হয়ে যায়নি।

এদিকে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর জানিয়েছেন, রেপো রেট অপরিবর্তিত অর্থাৎ ৪ শতাংশই থাকছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্যান্য ব্যাঙ্ককে যে সুদে ধার দেয়, তাকে বলে রেপো রেট। অন্যদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে যে সুদে ধার নেয়, তাকে বলে রিভার্স রেপো রেট। সেই রেটও আগের মতোই ৩.৩৫ শতাংশ রাখা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত