প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাখাইনে সেনা ও বিদ্রোহীদের তুমুল সংঘর্ষ

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মির মধ্যে ফের তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র বলে পরিচিত রাথেদং শহরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষেই বহু হতাহত হয়েছে বলে গতকাল বুধবার খবর প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনপ্রণেতাদের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত রাথেদংয়ের খয়াউকতান এবং অংথারজি গ্রাম সংলগ্ন

এলাকায় তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। উ খিন মঙ লাট নামে রাথেদংয়ের এক আইনপ্রণেতা বলেন, রাথেদংয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ হয়েছে। গত সোমবার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে এভাবে বিমান থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, উভয় পক্ষই খয়াউকতান এবং হিথসুয়ে গ্রামের মাঝামাঝি অংথারজির কাছে একটি পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সংঘর্ষে জড়িয়েছে। খয়াউকতান গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, এই গ্রাম অনেক দিন ধরেই পরিত্যক্ত। আইডিপি (অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত) শিবিরগুলোতে অসুবিধার কারণে খুব কম লোকই গ্রামে ফিরে গেছে। আমার ধারণা সেনা ও বিদ্রোহীরা ওই গ্রামকে কেন্দ্র করেই লড়ছে। আমি যুদ্ধবিমান আর প্রচ- গোলাগুলির শব্দ শুনেছি।

বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল জ্য মিন তুন বলেন, সংঘর্ষ হয়েছে কারণ আরাকান আর্মি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর সিত্তুই, রাথেদং এবং বুথিদংয়ে জল ও স্থলপথ অবরোধ করে রেখেছে। এ কারণে সেনাবাহিনী নিজেদের জাহাজ ও যানবাহনের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর বেশ কিছু সদস্য হতাহত ও কিছু সমরাস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্রোহীরা ওখানে একটি পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করছে। সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা এখনো কিছু জানি না।

এদিকে আরাকান আর্মি তাদের ফেসবুক পেজে দাবি করেছে, গত সোমবার তারা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে একটি পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।

গত মাসে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ও ভারী সমরাস্ত্র সমাবেশ শুরু করে মিয়ানমার। এর মধ্যে সিত্তুই নৌঘাঁটিতে সাবমেরিন, আন ও সিত্তুই বিমান ঘাঁটিতে সু৩০, মিগ ২৯ ও জেএস ১৭ থান্ডার্ড ব্লক-২ জঙ্গিবিমান নিয়ে আসার খবর পাওয়া যায়। এর বাইরে উত্তর কোরিয়া থেকে সংগ্রহ করা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কথাও শোনা গিয়েছিল। যা নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিনানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদও জানিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে মিয়ানমার বলেছিল বিদ্রোহীদের দমনের জন্যই তারা সেনা সমাবেশ করেছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন শুরু করে। এ ঘটনায় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। শুরু হয় একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের। বারবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও রাখাইনের পরিস্থিতি খারাপ বলে এসব রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইছে না। যদিও রাখাইন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করে আসছে মিয়ানমার। তবে তাদের এই ভাষ্য যে ডাহা মিথ্যা তা সেখানকার সাম্প্রতিক সংঘর্ষই বলে দেয়। গত মাসের মাঝামাঝি জাতিসংঘও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাখাইনের মংডুতে আবারও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণহত্যায় জড়িয়ে পড়েছে। আবারও সেখানে গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।সময় নিউজ

 

সর্বাধিক পঠিত