প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমাজের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ

ড. রফিকুল ইসলাম : এম.সি. কলেজের ঘটনার প্রেক্ষিতে সেখানকার অপরাধ প্রবণতা, ডাটা ও রিপোর্টগুলো দেখে চমকে উঠি। প্রশ্ন জাগে এই পুণ্যভূমিকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদা, খুন ও অপরাধ চক্রে নারী-সম্পৃক্ততার নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হলো কিভাবে? এর পৃষ্ঠপোষকরা এই পুণ্যভূমিকে কলুষিত করার সাহস পেল কোত্থেকে? এখানেতো অনেক গুণীজন আছেন, অন্যান্য দলসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতা আছেন।

শুধু একটা আবাসিক কলেজের তারুণ্য শক্তিকে ও স্থানীয় যুব সমাজকে চরম অপব্যবহার করে কারা এখানে এত বড় অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছে? এখন সময় এসেছে সমাজ নষ্টকারীদের মুখোশ উম্মোচিত করার। “বদলে যাও বদলে দাও” এবং “জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো।” প্রত্যাশা রাখি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই মাদক সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত এবং ধর্ষণ ও সামাজিক নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষিত ও রোডম্যাপ রচিত হবে।

এই প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও কমিটি পুনর্গঠন থেকেই শুরু করতে হবে। দলীয় সংস্কার ছাড়া বৃহত্তর আকারের বা বড় মাপের রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্ভব না। কারণ এটি বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। দ্বিতীয় সংস্কারটি করতে হবে দলীয় মনোনয়নে – বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে উচ্চ শিক্ষিত, তরুণ ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের প্রাধান্য দিতে হবে।

সিলেটের পর নোয়াখালীর বর্বরতা –স্তম্ভিত ! এই নষ্ট তরুণ-যুবসমাজ – মূলত মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির হাতিয়ার হচ্ছে। এদেরকে নষ্ট করা হয়েছে, নষ্ট করা হচ্ছে। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবেনা – এটা তরুণ সমাজকে নষ্ট করার ফসল। এখন তার এক্সটার্নালিটির খন্ড চিত্র দেখা যাচ্ছে ।

ভাল মন্দ মিলেই সমাজ – কিন্তু এটা এখন চরম অধ:পতনশীল ও একেবারে ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে। আর ধৈর্য ধরা যায়না – মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকদের মুখোশ উন্মোচন করা হউক, লাগাম টানা হউক, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সরকারকে আপন স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে তা অবশ্যই করতে হবে – তা না করতে পারলে গণমানুষের দল হিসেবে আওয়ামীলীগের যে ভাবমূর্তি তা আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যাবে – কয়েকজন ব্যক্তির কাছে দল ও সরকার জিম্মি থাকতে পারে না।

ডারউইনের তত্ত্বের অনেক সমালোচনা থাকলেও তার “সারভাইভাল অফ দি ফিটেস্ট” কিন্তু সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে – এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওপেন সিস্টেম তত্ত্ব “পপুলেশন ইকোলজি” এন্ড “স্ট্রাকচারাল কন্টিনজেন্সী থিউরি”র প্রাসঙ্গিকতা। সময়ের নির্দেশ না মানতে পেরে একসময়ের মার্কেট লিডার “নকিয়া” বিলীন হয়ে গেছে।

এখন সময়ের নির্দেশ হচ্ছে – “চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী, মাদকব্যবসায়ী-দুর্নীতিবাজ, ঠগ-প্রতারক এবং অযোগ্য-অকালকুষ্মান্ডদের নিয়ে রাজনীতির দিন শেষ।“ সময়ের দ্বিতীয় নির্দেশ হচ্ছে – “আত্নপর্যালোচনা ও শুদ্ধির – বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ক্ষেত্রে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে জাতির পিতা কালজয়ী কবি-পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূল চেতনায় কার্যকরঅর্থে দলকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। ” সময়ের তৃতীয় নির্দেশ হচ্ছে – “পৃথিবী এখন অনেক এডভান্সড এবং চরম বিরূপও বটে- এখানে সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা প্রাসঙ্গিক।“

করোনা পরবর্তী নিউ-নরমাল বিশ্বে – ডিসরাপ্টিভ ইনোভেশন এন্ড টেকনোলজি, টেকসই উন্নয়ন-ভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক প্রতিযোগিতা এবং অধিকতর মানবিক ও পরিবেশবান্ধব আচরণের বিকাশে সভ্যতা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম হবে মূল প্রতিপাদ্য। তাতে যে ধরনের লিডারশিপ প্রয়োজন হবে তা হলো – “এজাইল এন্ড ইমপ্যাক্ট লিডারশিপ,” “সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এবং কন্টিনজেন্সি ফ্যাক্টর ড্রিভেন লিডারশিপ” এবং “ট্রান্সফর্মেশনাল ও ব্রিজিং লিডারশিপ।”

লেখক পরিচিতি : ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৌশলগত ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক, রাজনৈতিক অর্থনীতি, স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতি বিষয়ে গবেষক, একজন প্রাবন্ধিক এবং সুনামগঞ্জ জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহবায়ক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত