প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মানিকগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে অর্ধশত ঘর-বাড়ি

সোহেল হোসাইন: [২] মানিকগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নদীর পানি আবারও বাড়ার কারণে শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙণ দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটাসহ অনেক স্থাপনা কালিগঙ্গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এই চিন্তায় বিভোর ওই এলাকার বসবাসকারীরা।

[৩] মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বোয়ালীয়া এবং বড় সরুন্ডি এলাকার শহর রক্ষা রাঁধে ভাঙণ শুরু হয়েছে। এতে রাহেলা বেগমের মতো শতাধিক স্থানীয়রা বেশ চিন্তায় পড়েছে। গত তিন মাস ধরেই ওই এলাকার চারটি স্থানে ভাঙণ শুরু হয়েছে।

[৪] সোমবার বেলা ১০ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার বোয়ালীয়া ও বড় সরুন্ডি এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে শহর রক্ষা বাঁধের চারটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাদের বাঁধের ধারে বসে থাকতে দেখা য়ায। নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে বলতেই এগিয়ে আসেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

[৫] রাহেলা বেগম বলেন, বাঁধটি হওয়ার পরে বেশ ভালো ভাবেই বসবাস করছি। বাঁধের পাশেই আমার বাড়ি। এখন যদি বাড়ি নদীতে চলে যায় তাহলে মাথা গোঁজার কোন জায়গাও নাই। মাত্র তিন শতক জমির উপর ছোট টিনের ঘরে থাকি। আমাগো আয়-রোজগারও অনেক কম। এই চিন্তাই ঘুম আসে না। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাঁধের ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

[৬] বোয়ালীয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক খলিল বলেন, গত তিন বছর ধরেই এই বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। শহর রক্ষা এই বাঁধে ভাঙনের কারণে এলাকার সকলে ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কখন জানি নিজের বসতবাড়ি কালিগঙ্গা নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

[৭] তিনি আরও বলেন, এবারের বন্যায় বেশি ভাঙন হয়েছে। নতুন করে নদীতে আবারও পানি বাড়ার কারণে ভাঙন তীব্রতর হচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। এখনই বাঁধের ভাঙন রোধ করা না হলে এই এলাকার শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীতে চলে যাবে। অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলে হয়তো এই ভাঙন রোধ করা যাবে বলেও জানান তিনি।

[৮] একই এলাকার আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, এবার নদীতে বসতবাড়ি চলে গেলে থাকার মতো কোন জায়গাও নেই। গত তিন দিনেই অনেক জায়গা নদীতে চলে গেছে। আমরা যাতে এখানে বসবাস করতে পারি এই ব্যবস্থা সরকার যেন করে দেয়। আবেগমাখা কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, বাড়ি ভাঙ্গলে কই যে যামু তা কইতে পারি না। কতো লোকজনই আসে আর বলে ব্যবস্থা নিবো পরে আর কোনো খবর থাকে না। যার বাড়ি নদীতে ভাঙ্গছে সেই বুঝে কতো কষ্ট। তিনিও শহর রক্ষা এই বাঁধের ভাঙন রোধের জোর দাবি করেন।

[১০] মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাঈন উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে পৌর এলাকার বোয়ালীয়া ও বড় শ্বরুন্ডী এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের ভাঙন স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই এলাকার চারটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই শহর রক্ষা এই বাঁধটি ভাঙন রোধে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হবে বলেও জানান তিনি।

[১১] উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে এই শহর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়। শহর রক্ষা এই বাঁধটি নির্মার্ণ করতে ব্যয় হয়েছিল ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত