প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোজিনা ইসলাম: বাংলাদেশে হাজারে না, লাখেও একজন করোনা পরীক্ষা করছে না

রোজিনা ইসলাম: আমার এক আত্মীয়ের প্রচন্ড কাশি, জ্বর, কথা বলতে পারে না।করোনা হলে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তার সব উপসর্গ আছে। সে হঠাৎ করেই দুদিন জরুরি কাজে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ঘোরাফেরা করেছে। তারপরই এই ধরনের উপসর্গ দেখা গেছে।

তো যখনই তার সাথে কেউ কথা বলে আমি শুনতে পাই সে খুব কাশছে। আমি তার মেয়েকে বললাম যত দ্রুত সম্ভব করোনা পরীক্ষা করানো দরকার। ওই বাসায় আরও অসুস্থ সদস্য আছে,তারও যেহেতু বয়স হয়েছে পরীক্ষা করলে বুঝতে পারবে যে আসলে কী চিকিৎসা দরকার। করোনা নেগেটিভ হলে তো ভালো। মেয়ে অসহায় মুখ করে বললো,কীভাবে পরীক্ষা করাবে, কোথায় নিয়ে যাবে বা নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই তার মায়ের। আমি তখন বললাম ঠিক আছে আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। নিজের কাজ ফেলে আমি কয়েকজনকে ফোন করে IEDCR এর একজন ডাক্তার পেলাম। তার সাথে কথা বললাম এবং তাদেরকে অনুরোধ করে পরদিন সকালেই একজন লোক পাঠাতে বললাম। আশ্চর্য্যের বিষয় যখন তাদের আমি তাদের বাসার ঠিকানা এসএমএস করতে বললাম, মেয়ে বললো পাঠাবে এখনোই।
এক ঘন্টা পর বাসায় ঠিকানাটা আবারও চাইলাম। মেয়ে বললো ব্যস্ত ছিলো, আমাকে এসএমএস করবে এক মিনিটের মধ্যে। রাত হচ্ছে, তবু পাঠায় না। এক ঘন্টা পর আবার বললাম আপনার বাসায় ঠিকানাটা দিচ্ছেন না কেনো? ফোন কেটে গেলো। কিছুক্ষণ পর ~IEDCR থেকে আমাকে বললো, আপা আপনি কিন্তু ঠিকানাটা এখনো দেননি, ওদেরকে ঠিকানাটা এখনই দিতে হবে।
আমি একটু রাগ করে শেষবারের মতো ফোন দিলাম। তখন গভীর রাত মেয়ে তো ফোন ধরেনা।এরপর বাসার আরেকজনের নম্বরে ফোন করলাম। তখন মেয়েটির পুত্র ফোন ধরে বললো, যে তারা আসলেই করোনা পরীক্ষা করাতে চাচ্ছে না বরং একটু সুস্থ হলে, ভালো লাগলে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাবে। তাদের এই শিক্ষিত সন্তানকেও একই বিষয়ে অনুরোধ করলাম। তারও দেখলাম একইরকম মত। আমি হতবাক! বিষয় কী?
শুনলাম,তাদের এলাকায় কেউ করোনা পরীক্ষা করলে সেখানে এটা নিয়ে নানান কথা হয় এবং তাদেরকে একঘরে করে রাখা হয়।
করোনা পরীক্ষা করতে যদি করোনার কোনো গাড়ি নিয়ে বাসার সামনে যায় তাহলে এটাকে খুব খারাপ ভাবে দেখা হয়।তাদের সাথে কেউ মিশে না।
আমি অবাক হয়ে গেলাম যে একটা পরিবারের বৃদ্ধ মা ভুগছেন, আর বাকীরা লোকলজ্জার ভয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে চাচ্ছেনা।আজব। এই যুগে এমনও হয়।
না আমি তো এটা কোন গ্রাম বা অছপাড়াগায়ের কথা বলছি না। এটা যেখানকার কথা বলছি ঢাকার বেশিরভাগ মানুষই সেই এলাকায় থাকে। এলাকাটার নাম শুনে খুবই অবাক হবেন আপনিও।করোনার পর থেকে এই এলাকায় সব বাড়িতে একই দশা। তাদের কথা শুনে আমি বিষয়টি বুঝতে পারলাম। লোকভয় তাদের পেয়ে বসেছে। অনুধাবন করলাম যে বাংলাদেশে আসলে হাজারে না লাখেও একজন করোনা পরীক্ষা করছে না। করোনা পরীক্ষা করা নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম।এই ঘটনায় নিশ্চিত হলাম।
যাই হোক এবার এলাকাটির নাম বলি। এই এলাকাটির নাম মিরপুর। মিরপুর,পল্লবী।ঘটনাটি পরশুর।
ঢাকার মিরপুরের একটি সচেতন পরিবারের মানুষের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে অন্য পরিবারগুলোর কি অবস্থা? বিশেষ করে গ্রামের? ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত