প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘‌ফেলুদা’‌র আবিষ্কারককে দেশের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান সম্মান, পুরস্কৃতদের তালিকায় ৬ বাঙালি

ডেস্ক রিপোর্ট : তরুণ গবেষক ডক্টর দেবজ্যোতি চক্রবর্তীর কাজকে স্বীকৃতি দিতে তাঁকে এ বার পুরস্কৃত করতে চলেছে কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (CSIR)। করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট ‘‌ফেলুদা’‌ আবিষ্কারের জন্য তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে দেবজ্যোতি এই সম্মান পাচ্ছেন।

কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ‘শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার’ (Shanti Swarup Bhatnagar Award) দেওয়া হয়। পুরস্কৃতদের তালিকায় ফের জয়জয়কার বাঙালির। সাতটি বিভাগে মোট ১৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ছ’জনই বাঙালি গবেষক।

জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং,গণিত, চিকিত্‍সা ও পদার্থবিজ্ঞানের মতো ৭টি ক্ষেত্রে অসামান্য গবেষণার জন্য ভারতীয় বিজ্ঞানীদের শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার দেওয়া হয়। ৪৫ বছরের কমবয়সি গবেষকদের এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫ লক্ষ টাকা।

শনিবার দিল্লির ‘বিজ্ঞান ভবন’-এ কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-এর ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে এ বছরের ভাটনগর পুরস্কারজয়ীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল শেখর মান্ডে বলেন, ‘ভারতে এই পুরস্কারকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ সম্মানের মর্যাদা দেওয়া হয়।’

কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (CSIR) দিন কয়েক আগেই ঘোষণা করেছিল, করোনার SARS-CoV-2 ভাইরাসের জিনোমিক ক্রম শনাক্ত করবে টাটার ‘ফেলুদা’। ট্র্যাডিশনাল RT-PCR টেস্টের মতোই নির্ভুল ভাবে পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জন করেছে টাটা গোষ্ঠীর CRISPR টেস্ট। ফেলুদার ক্ষেত্রে সুবিধা হল, অনেক দ্রুত কোভিড টেস্টের ফল পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে টেস্টের খরচও অনেক কম। এটি কোভিড রোগ নির্ণয়ের একটি জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে CSIR-IGIB (ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি ইনস্টিটিউট)।

ICMR গাইডলাইন অনুসারে, টাটার ‘ফেলুদা’ করোনভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য ৯৬ শতাংশ সংবেদনশীলতা (sensitivity) এবং ৯৮ শতাংশ নির্দিষ্টতা (specificity)-র উচ্চমানের মানদণ্ডগুলি পূরণ করেছে। তার পরেই অনুমোদন দেয় DCGI। এই CRISPR টেস্টকে ভবিষ্যত্‍‌ প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে একাধিক অন্যান্য রোগজীবাণু শনাক্তকরণের জন্যও কনফিগার করা সম্ভব।

টাটা মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস লিমিটেডের সিইও গিরিশ কৃষ্ণমূর্তি দাবি করেন, ‘Made in India’ পণ্যে নিরাপদে নির্ভুলতার সঙ্গে যে কেউই কোভিড টেস্ট করাতে পারবেন। টেস্টের খবর ব্যয়বহুল নয়। রিপোর্টের জন্যও দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হবে না। এই আবিষ্কারের নেপথ্যের মানুষটি তরুণ বাঙালি বিজ্ঞানী দেবজ্যোতি চক্রবর্তী।

ঘোষিতা তালিকা অনুযায়ী, এ বছর জীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই পুরস্কার পাচ্ছেন সেন্টার ফর ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ডায়াগনস্টিক্স-এর ড.‌ শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের ড.‌ ভাতসালা থিরুমালাই।

ভূবিজ্ঞানের পক্ষে আইআইটি খড়্গপুরের ড.‌ অভিজিত্‍ মুখোপাধ্যায় এবং আইআইটি বম্বের ড.‌ সূর্যেন্দু দত্তকে মনোনীত করা হয়েছে। রসায়ন বিজ্ঞানের জন্য সম্মানিত করা হবে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের ‌ড.‌ জ্যোতির্ময়ী দাসকে। জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চ থেকে ড. সুবি জ্যাকব জর্জের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পুরস্কার পাবেন জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চের ড.‌ রাজেশ গণপতি এবং হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড.‌ সুরজিত্‍ ধারা। ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্সেসের জন্য সিএসআইআর ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরির ড.‌ অমল অরবিন্দ রাও কুলকার্নি এবং ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টারের ড.‌ কিংশুক দাশগুপ্তের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

গণিত বিজ্ঞানের জন্য মনোনীত হয়েছেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের ড.‌ রজতশুভ্র হাজরা এবং আইআইটি বম্বের ড.‌ ইউ কে আনন্দবর্ধন। মেডিক্যাল সায়েন্সেসের জন্য আইআইটি কানপুরের ড. ‌বুশরা আতিক এবং চণ্ডীগড় পোস্টগ্র‌্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ড.‌ রীতেশ আগরওয়াল পুরস্কৃত হবেন।এই সময়

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত