প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাফর ওয়াজেদ: শিল্প-সাহিত্যকে যারা দমিয়ে রাখতে চায়, তাদের পরিণতি কখনও ভালো হয় না

জাফর ওয়াজেদ: ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জেল থেকে বের হয়ে কিছুদিন পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেডিও ও বেতারের উদ্দেশ্যে জানান, রবীন্দ্রসংঙ্গীত শুনবেই। তখন রবীন্দ্রসংঙ্গীত রবীন্দ্রচর্চা রীতিমতো নিষিদ্ধ ছিলো পূর্ব বাংলায়। স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মুক্তি বলা হয় এই পয়েন্টের কারণে। ৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পর রবীন্দ্রসংঙ্গীত নিষিদ্ধ করা হয়। সে ভারতীয় কবি এই অজুহাতে। তার আগ থেকেই অনেক নিষেধাজ্ঞা ছিলো। কিন্তু ৩০ বছর আগে দেশ ভাগের আগে মারা যাওয়া কবির কাব্য, গান এইসবের সাথে যুদ্ধের কী সম্পর্ক। অন্যদিকে বাঙালি ছিলো সাহিত্য প্রেমী, সাহিত্য চর্চায় সবসময় এগিয়ে বাঙালিরা। তারা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অনেকে রবীন্দ্র চর্চা চালিয়ে যায়। ১৯৬৭ সালের ২২ জুন পাকিস্তানের তথ্য ও বেতার মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন জাতীয় পরিষদে ঘোষণা করেন যে, ১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক চক্রের তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন আহমদ পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে মন্তব্য করে বসলো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির কেউ নন। পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক মর্যাদার পরিপন্থী এমন সকল রবীন্দ্রসংঙ্গীত ভবিষ্যতে পাকিস্তান বেতারে প্রচার করা হবে না এবং অন্যান্য সংঙ্গীতেরও প্রচার হ্রাস করা হবে। খাজা শাহাবুদ্দিনের এই মন্তব্যে সারাদেশ ক্ষেপে উঠলো। ঢাকায় ৩ দিন ব্যাপী রবীন্দ্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে আইয়ুব খানের গভর্নর মোনায়েম খান কয়েক ট্রাক গুন্ডা পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বানচাল করার চেষ্টা করেন। অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীরা চলে যাওয়ার পরে অনুষ্ঠান স্থলটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক স্মৃতি চারণে জানান হাই সঙ্গীতের কথা।

তিনি বলেন একসময় রবীন্দ্রনাথের গান, সাহিত্য সব নিষিদ্ধ ছিলো। স্মৃতিকে সজাগ রেখে তিনি আরও বললেন, আইয়ুব খানের প্রতিনিধি মোনায়েম খান মোহাম্মদ আবদুল হাইকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি সুপন্ডিত অধ্যাপককে বলেছিলেন, এই রবীন্দ্রসংঙ্গীত বস্তুটি কী, এটিকে নিয়ে আপনাদের এতো মাতামাতি কেন? আপনি নিজে কয়েকটা রবীন্দ্রসংঙ্গীত লিখতে পারেন না? আবদুল হাই বলেছিলেন, ‘লিখতে তো পারি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমি যা লিখবো, তা রবীন্দ্রসংঙ্গীত হবে না। হবে হাই সংগীত। নানান দিক দিয়েই তৎকালীন আইয়ুব, মোনেম শাসকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিলো। তখনকার প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্র চর্চার সুযোগ প্রেস্টিজের লড়াইও হয়ে গিয়েছিলো বাঙালি ও পাকিস্তানিদের মাঝে, একদল বলে সাহস থাকলে করে দেখো পাকিস্তানে রবীন্দ্র চর্চা, আরেক দল পারলে ঠ্যাকাও রবীন্দ্র চর্চা। শিল্প-সাহিত্যকে যারা দমিয়ে রাখতে চায় তাদের পরিণতি কখনো ভালো হয় না। বাঙালি স্বাধীনতায় বিশ^াসী, যার ইচ্ছা রবীন্দ্রনাথ পড়বে, যার ইচ্ছা নজরুল পড়বে, কেউবা পড়বে হুমায়ূন, কেউ সুনীল। বাধা দিয়ে লাভ নেই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত