প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: উচ্চশিক্ষায় ফ্রান্সের মডেলটি ব্যবহার করতে হবে

কামরুল হাসান মামুন: এইমাত্র খ্যাতিমান পত্রিকা ইকোনমিস্টে প্রকাশিত একটি আর্টিকেল পড়ছিলাম। সেখানে কিভাবে ২০টি ছোট শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে একটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায় তার গল্প। ২০১৭ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্মানুয়েল মার্কোন একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেয়। এই পদক্ষেপের উদ্যেশ্য হলো ফ্রান্সে আমেরিকার এমআইটি মানের একটি প্রতিষ্ঠান করা। সেই লক্ষে প্যারিসে আশেপাশের প্রায় ২০ মোটামোটি ভালো প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে, বিশাল বাজেট ইঞ্জেক্ট করে ইউনিভার্সিটি অফ প্যারিস-সাক্লায় নামক একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করে। তার ফলও এই বছর পেয়েছে। বিশ্ব রেঙ্কিং-এ এটি ইতিমধ্যে ১৪তম স্থান দখল করে ফেলে। শুধু তাই না ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডের পরপরই তার অবস্থান নিশ্চিত করে। অর্থাৎ ইউরোপিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রেঙ্কিং-এ ইউনিভার্সিটি অফ প্যারিস-সাক্লায় তৃতীয় অবস্থানে।
কি অভূতপূর্ব উন্নতি বুঝতে পারছেন? এর নাম নেতৃত্ব! মার্কোন বুঝতে পেরেছে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে শুধু টাকা থাকলেই হয় না। টাকাতো সৌদি আরবেরও আছে। তারাতো দেখছেন কি বর্বর! আমাদের দেশ থেকে নারী শ্রমিকদের নিয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কি অমানবিক নির্যাতন করে অনেকের জীবন পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতির আগে মানবিক উন্নতির মাধ্যমে উন্নত মানুষ তৈরী করতে হবে। একটি দেশে যখন উন্নত মানুষ থাকে তখন অর্থনতিক উন্নয়ন হবে ন্যাচারাল consequence হিসাবে।
আমাদেরও এখন ফ্রান্সের এই মডেলটি ব্যবহার করতে হবে। ঢাকায় ৭টি কলেজ আছে এই ৭টি কলেজকে একীভূত করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করুন। প্রয়োজনে আরো কয়েকটি কলেজকে সাথে নিন। এদের বিশাল বিশাল ক্যাম্পাস আছে। এই ৭টি ক্যাম্পাস মিলে বিশাল বড় একটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার মত জায়গা হবে। তারপর বর্তমানের সকল শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করুন আন্তর্জাতিক কমিটির মাধ্যমে মূল্যায়ন করে যোগ্যদের শিক্ষক হিসাবে রেখে দিন। তারপর দেশবিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক নিয়োগ দিন। বিশেষ বেতনের প্যাকেজ ঘোষণা করুন। গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই ৮-১০ কলেজকে একীভূত করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করুন। টার্গেট আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিশ্ব রেঙ্কিং এর সম্মানজনক অবস্থান অর্জন ঠিক যেমন ইউনিভার্সিটি অফ প্যারিস-সাক্লায় করেছে।
একটি দেশ যদি উন্নত হতে চায় তার প্রথম এবং প্রধানতম লক্ষ হওয়া উচিত দেশের মানুষকে শিক্ষিত করা। আর সেই শিক্ষিত মানুষ তৈরির কারখানা হলো বিশ্ববিদ্যালয়। ১৭ কোটি মানুষের দেশে যদি ৫-১০ টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব রেঙ্কিং-এ না থাকে তাহলে এটি বিশ্ব লজ্জার বিষয়। এইটা কি আমাদের নীতি নির্ধারকরা বুঝে? যদি বুঝে থাকেন তাহলে টার্গেটসহ একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম নিন যেন আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে অন্তত ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব রেঙ্কিং-এর ৫০০-র মধ্যে থাকে। সঠিক পরিকল্পনা এবং আর্থিক প্রণোদনা থাকলে এটা মোটেও অসম্ভব না। কিন্তু তার জন্য প্রথম যেই জিনিসটি দরকার সেটি হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দলান্ধ বানানোর প্রক্রিয়া সরকার থেকে বন্ধ করতে হবে।
পৃথিবীতে ব্যাংক merging, ইন্সুরেন্স কোম্পানি merging, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান merging ইত্যাদি একটি কমন ফেনোমেনা। কিন্তু বাংলাদেশে কেবল disintegrate হয় integration হয়না। কেন? খালি সংখ্যা বাড়ানো হয় মান দেখা হয়না। কেন? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত