প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বৈধভাবে বিদেশ গিয়েও জেলে শ্রমিকরা দায় কার?

শিমুল মাহমুদ: [২]করোনা ঝুকির মাঝেও বরিশাল থেকে ৮ বার ঢাকা সিএমএম আদালতে ছুটে বেড়াচ্ছেন আলামিন। তার অসহায় বোনটির একমাত্র অবলম্বন কুয়েত প্রবাসী স্বামী কবির হোসেন। যিনি কুয়েত থেকে ফিরার পর কোয়ারেন্টাইন শেষে ৫৪ দ্বারায় জেল হাজতে আটকে আছেন। এদিকে স্ত্রী-সন্তানের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে।একি অবস্থা মুন্সীগঞ্জের দিল মোহাম্মদের। ছোট ভাই আব্বাসের মুক্তির জন্য এক আদালত থেকে আরেক আদালতে ছুটছেন তিনি। কুয়েত-কাতার-বাহরাইন থেকে ফিরে আসা ৩৮৪ জন প্রবাসীদের স্বজনদের এখন একই অবস্থা।

[৩] বিদেশে থাকা অবস্থায় অবৈধ হওয়াসহ নানা কারণে তারা সেসব দেশে জেলে আকটে ছিলেন। দেশে ফেরার পর ১৪ দিন দিয়াবাড়ির কোয়ারেন্টিন শেষে গেলো ৪ জুলাই তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করে তাদের জেলে পাঠায় পুলিশ। এদের মাঝে কুয়েত থেকে ১৪১, কাতার থেকে ৩৯ এবং বাহারাইন থেকে আসা ৩৯ জন প্রবাসী শ্রমিক।

[৪] অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরীফুল হাসান জানান, ৪ জুলাই ২১৯ জন, ২১ জুলাই ৩৬ জন, ৯ আগস্ট ৪০ এবং ১ সেপ্টেম্বরের ৮৩জন সহ মোট ৩৮৪ জন শ্রমিক বাংলাদেশে ফেরত আসে। এদর বিরুদ্ধে ৫৪ ধারার অভিযোগে বলা হয়েছে, দিয়াবাড়ির কোয়ান্টাইনে সেন্টারে তারা গোপনে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র করছিলো, ভয়াবহ অপরাধসহ তারা দেশের ক্ষতি করতে পারে।

[৫] ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনজীবী জীবন আনন্দ জয়ন্ত বলেন, ৫৪ ধারার বিধান অনুযায়ি ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতেই হবে। যদি কোনো কারণে দিতে না পারেন তাহলে অপরাধ রয়েছে এমন যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে সময় প্রার্থনা করতে পারেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ পর্যন্ত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। ৪ বার শুনানির আবেদন করে ৬ বার শুনানি করেছে।এ পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ কোনো উপযুক্ত কারন জানিয়ে আদালতের কাছে সময় নেননি। এটি ৫৪ ধারার আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

[৬] শরীফুল হাসান বলেন, ভিয়েতনাম ৩৭ টি প্রতিষ্টানে চাকরি আছে জানিয়ে সরকারে কাছে আবেদন করেছে রিকোটিং এজেন্সি। তখন বিএমইটি (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে এখানে চাকরি আছে। এরপর শ্রমিকরা ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা দিয়ে ভিয়েতনামে গেলো। কিন্তু সেখানে চাকরি পেলো না। তখন তাদের কয়েক দফায় বিক্রি করে দেওয়া হলো। এরপর জেলজুলুমসহ নানা অত্যাচার সহ্য করে তারা দেশে ফিরেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত