প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিপুল কার্যসূচি নিয়ে বিপাকে সংসদ সচিবালয়

আসাদুজ্জামান সম্রাট: [২] কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও হাতে বিপুল কার্যসূচি থাকায় তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের হাতে বর্তমানে ১২টি বিল রয়েছে। আরো কয়েকটি বিল পাসের জন্য আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে কার্যসূচি কী হবে তা নিয়ে এখনও দোদুল্যমান সংসদ সচিবালয় শেষ পর্যন্ত সংসদ নেতার দ্বারস্থ হতে পারেন সিদ্ধান্তের জন্য।

[৩] আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় শেরেবাংলানগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই এ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা আছে। গত ৯ জুলাই এ বছরের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশন ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত।

[৪] নিয়ম রক্ষার জন্য আহ্বান করা অধিবেশন হবে খুব সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংসদ সচিবালয়ের। এর আগে করোনা মহামারির মধ্যে ডাকা সপ্তম অধিবেশন একদিনেই শেষ হয়েছিল।এবারের অধিবেশন সর্বোচ্চ পাঁচ কার্যদিবস করার চিন্তাভাবনা থাকলেও সংসদের হাতে থাকা বিলগুলো নিয়েই বিপত্তি শুরু হয়েছে। সংসদ সূত্র বলছে, বর্তমানে সংসদের হাতে রয়েছে ১৩টি বিল। নতুন আরো একটি বিল এসেছে। আরো কয়েকটি বিল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

[৫] সংসদের হাতে থাকা বিলগুলো হলো-কাস্টমস (সংশোধনী) বিল-২০১৯, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল বিল ২০১৯, সামুদ্রিক মৎস বিল ২০২০, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল ২০২০, আকাশপথ পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন) বিল ২০২০, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটররি কমিশন (সংশোধন) বিল ২০২০, বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট বিল ২০২০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০, মৎস ও মৎস পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিল ২০২০, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০ ও বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন বিল) ২০২০। এছাড়া কোম্পানি আইন (সংশোধন) বিল নামে আরো একটি বিল এসেছে।

[৬] সংসদ সচিবালয় বলছে, এক কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ২টি বিল পাস হতে পারে। বর্তমানে ১৪টি বিলের জন্য কমপক্ষে ৭দিন সময় প্রয়োজন। এদিকে করোনা সংক্রমণের কারনে সংসদে এমপিদের উপস্থিতি রোটেশন পদ্ধতিতে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চিফ হুইপের কার্যালয় থেকে চারভাগে এমপিদের ভাগ করা হয়েছে। বয়স্ক ও অসুস্থ সংসদ সদস্যদের সংসদে না আসতে বলা হয়েছে। সংসদের কার্যসূচির বিষয়ে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানের সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

 

সর্বাধিক পঠিত