প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নূরী জাহানারা: যেসব নারী সাহসী এবং শক্তিশালী তারা জটিল

নূরী জাহানারা: তাদের বুঝতে হলে বুদ্ধি ব্যবহার করতে হবে। তাদের হয়ে ওঠার এক একটি অনন্য পটভূমি আছে। তাদের বাস্তবতাই তাদের প্রতিভা দিয়েছে, জটিল করেছে, তাদের নতুন সময়ের উপযোগী করে তুলছে এবং সে কারণেই তারা কাজে, আচরণে ও সম্পর্কে আবেগী । সে কারণেই তাদের প্রায় পুরুষ মনে হয়। কিন্তু শক্তিশালী হওয়রা সংজ্ঞা তো তাই। শক্তিশালী হওয়া মানে পুরুষ হওয়া। পুরুষ হওয়া মানে ভায়োলেন্ট হওয়া, উপরে থাকা, অন্যকে কেয়ার না করা, এটি আমার কথা নয় আপনাদের-সমাজের লোকদের- কথা।

নারী যদি যোগ্যতায় পুরুষের সমকক্ষ হয় কিংবা তাকে ছাড়িয়ে যায়- কেউ কেউ তো যায়ই, তাহলে পুরুষদের খুশি হওয়া উচিত। কেননা পুরুষরা অন্য পুরুষদের ছাড়িয়ে গেলে খুশি হয়। তার চেয়ে যোগ্যতর নারীকে ছাড়িয়ে যাওয়া পুরুষদের পক্ষে সহজ রাস্তায় কঠিন হতে পারে। কেন? কারণ পুরুষটায় নয়, তার সমাজে। যে এ্যামপ্যাথি নারী শিশু বয়স থেকে লালন করে, সমঝোতার মনোবৃত্তি যা সে শেখে, বহু ধরনের সমস্যা মোকাবেলার যে অনুশীলন তাকে ব্যক্তিগত জীবনে করতে হয়, তার সাথে বাস্তব জীবনের যোগ্যতাগুলো যুক্ত হয়ে নারীকে অনেকবেশি সক্ষম করে। কিন্তু ওই গুণগুলোর বিপরীত মেসোজিনিস্ট, সুপিরিয়র, হামবড়ামি, এ্যামপ্যাথিবিহীন আচরণ শিখে বড় হওয়ার কারণেই পুরুষদের যোগ্যতা হয় একমুখী, আত্মকেন্দ্রিক। নারীর এই যে বাস্তবতা যা তাকে ‘আমি’ হয়ে উঠতে দিয়েছে সেটিকেই যারা বোঝার প্রয়োজন মনে করে না, তাদের চোখে এটা অপরাধ হিসেবে এবং পিতৃতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য বিবেচিত। অনলাইনের গালিগালাজগুলো এই ক্ষমতা প্রয়োগের ও শাস্তি প্রদানের এক একটি প্রবণতাকে নির্দেশ করে।

আমি বলবো, মেয়েরা, তোমরা যারা সাহসী এবং শক্তিশালী হতে চাও, পিতৃতন্ত্রের প্রকাশ্য ও গোপন এজেন্টদের সামনে বুক ফুলিয়ে বলো- [১] আমি নিজের জন্য দাঁড়াই। [২] আমি নিজের জন্য আমার শিক্ষা, আবেগ, সচেতনতা, চিন্তা, শ্রম ও আয় বিনিয়োগ করি। [৩] আমার সীমানা আছে, সেটি আমি মনে রাখি, সেই সীমানার ওপর নতুন সীমানা নির্ধারণের ভারও আমারই, সেটিও আমি ভুলি না। [৪] আমার মতোই আর সব নারীর জীবনের লড়াইকেও আমি উদ্যাপন করি। [৫] আমি আমার মূল্য জানি। অন্য নারীদেরও মূল্য দিই। [৬] আমি আমার জীবন সম্পর্কে অন্যের মতামত কী হবে সেটা নিয়ে ভেবে কেঁদে-কেটে দিন যাপন করি না। [৭] আমি আত্মবিশ্বাসী। [৮] আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেহ, মন এবং যৌক্তিক নৈতিকতায় শক্তিশালী হবার, আমাকে তা হতে হবে।

বলার পর এই কাজগুলো প্রতিদিন করার চেষ্টা করো। যদি মুখে বলো কাজে না দেখাও, তাহলে তোমরা তথাকথিত পিতৃতন্ত্রের সহায়ক শক্তিগুলোর মধ্যে পুঁজিবাদের ডানহাত নারীবাদীরাও আছেন, পক্ষেই কাজ করছো। তাহলে তুমি দ্বিচারী- যাকে ইংরেজিতে বলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। নারীর আসল যুদ্ধ সমাজের ও ধর্মের ওই দ্বিচারী ভূমিকার বিরুদ্ধেও। মতলববাজ পুঁজিবাদের ফাঁদে আটকা পড়ে থাকলে তোমার স্বাধীনতাকে তুমি কোনোদিনই বুঝতে পারবে না। তুমি স্বাধীনতার একটা পোশাক গায়ে জড়িয়ে থাকবে। দরকারে পুঁজি তোমাকে দিয়ে সেটি পাল্টিয়ে নেবে। অন্যান্য নারীকে যদি তুমি সম মূল্য ও সম্মান না দিতে শেখো, তাহলে তুমি সম্মান শব্দটার পিতৃতান্ত্রিক অর্থ নিয়ে এটাকে নিজের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছো। বাঁচা ও বলা এবং চলার মূল বিষয় হলো ডিগনিটি নিয়ে বাঁচা, বলা ও এগিয়ে চলা, যা স্বাধীনতা আমাদের দিয়ে থাকে। বি. দ্র. নৈতিকতা বলতে আমি ধর্মীয় নৈতিকতা বুঝাইনি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত