প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিগারেটের প্যাকেটে সুইসাইড নোট লিখে ধরা খেলো খুনি

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীতে সংবাদ সম্মেলন করে গৃহবধূ আকলিমা হত্যারহস্যের জট উন্মোচনের ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান।

নিহত নারীর কোমরে গুঁজে রাখা ছিল সিগারেটের ফয়েল পেপারে লেখা সুইসাইড নোট। তাতে লেখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না’। অধূমপায়ী একজন নারীর কোমরে অস্বাভাবিক মৃত্যুর এমন একটা নোট পেয়ে তাকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ এভিডেন্স হিসেবে গ্রহণ করেন মামলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এরপর এই সুইসাইড নোট ধরেই বের হয়ে আসে ওই নারীকে হত্যার পুরো বৃত্তান্ত। এই নারীর নাম আকলিমা বেগম। নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শনিবার (২৯ আগস্ট) তার সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেননি। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তিন দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় তার স্বামী জড়িত নন।

রহস্যঘেরা এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি বিষয় পুলিশ উন্মোচন করেছে দাবি করে পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের মৎস্য খামারের পেছনের বাঁশঝাড় থেকে গত ২৩ আগস্ট সকালে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার হয়। লাশের কোমরে পাওয়া যায় একটি সুইসাইড নোট। একটি সিগারেটের প্যাকেটের ফয়েল পেপারে ওই সুইসাইড নোটটিতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না’।

পরে পুলিশ জানতে পারে, নিহত নারী কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামার পুকুর গ্রামের মৃত আবেদ আলীর মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবরা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার।

পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী শরিফুল ইসলাম সন্তানদের রেখে ঘটনার ১০ থেকে ১২ দিন আগে আকলিমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ অবস্থায় আকলিমা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু বাবার বাড়িতেও পরিবারের লোকজন তাকে মেনে না নিয়ে গালমন্দ করেন। এই দুঃখে আকলিমা গত ২২ আগস্ট বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে কামারপুকুর মৎস্য খামার এলাকায় ঘুরতে থাকেন।

সেখানে একই গ্রামের কাঙ্গালু পাড়ার আনারুল ইসলাম (৩৫), মো. শুভ (২০) ও মো. হৃদয় (১৮) তাকে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকা দিতে চায়। এক পর্যায়ে তারা তাকে পাশের বাঁশঝাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

আকলিমা এ ঘটনার কথা প্রকাশের হুমকি দিলে তারা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় আনারুল নিজ হাতে সুইসাইড নোট লিখে আকলিমার কোমরে গুঁজে দেয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘নিহত আকলিমার মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ২৩ আগস্ট নিহতের স্বামী শরিফুল ইসলামকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। আমরা তার স্বামীকে ওই মামলায় গ্রেফতার করি। এরপর সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে ওই এলাকায় যে ব্র্যান্ডের সিগারেটের ফয়েল পেপারে সুইসাইড নোটটি লেখা ছিল সেই ব্র্যান্ড কারা কেনেন সেসব ধূমপায়ীর একটি তালিকা করি। এ তালিকায় ৫০ থেকে ৬০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করি। আমাদের ধারণা ছিল খুনি এদের মধ্যেই কেউ হতে পারে। এরপর আমরা সুইসাইড নোটের লেখার সাথে কৌশলে তাদের হাতের লেখা মেলানোর চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে আনারুল ইসলামের হাতের লেখার সঙ্গে সুইসাইড নোটের লেখা মিলে যায়। আমরা তাকে গ্রেফতার করলে সে ঘটনার সঙ্গে তাদের তিনজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে মো. শুভকেও গ্রেফতার করি। তারা দুইজন গত ২৮ আগস্ট ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এঘটনায় জড়িত হৃদয় পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর রহমান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত