প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেয়াদোত্তীর্ণ নষ্ট প্রসাধনী দ্রব্য সরবরাহকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, ১০ কোটি টাকার বেশি মালামাল উদ্ধার

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীর ভাটারার সাঈদ নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ন নষ্ট প্রসাধনী দ্রব্য সরবরাহকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শংকর মন্ডল (৩৪), মো. হারুন অর রশিদ (৪৫), মো. সবুজ আহমেদ (৩০), মো. মনিরুজ্জামান (২৩) ও বীরেশ্বর মন্ডল (৩৬)। এসপিএস কর্পোরেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান মেয়াদোত্তীর্ণ বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস পণ্য মেয়াদ টেম্পারিং করে আবারও বিক্রি করছিল।

[৩] মঙ্গলবার সাঈদ নগর এলাকায় এ চক্রের প্রধান সুধীর মন্ডলের নিজস্ব ৫ম তলা ভবনের গুদামে অভিযান চালায় সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের একটি দল। অভিযানকালে ইয়ার্ডলি লোশন, সাবান, পাউডার, বডি স্প্রেসহ ১০ কোটি টাকার বেশি মালামাল জব্দ করে। প্রসাধনীর গায়ে ম্যানুফ্যাকচারিং ও মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ পরিবর্তনে ব্যবহৃত কেমিক্যাল, কালি ও একটি মেশিন উদ্ধার করা হয়।

[৪] বৃহস্পতিবার দুপুরে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জালিয়াতি প্রতিষ্ঠানের দুই মালিক ও তিন কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

[৫] তিনি বলেন, বৈধ আমদানী লাইসেন্সের মাধ্যমে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানীকৃত বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী বাংলাদেশে আমদানী করে খোলা বাজারে বিক্রি করছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সুধীর মন্ডল ও তার সহযোগীরা এসপিএস কর্পোরেশন নামক কোম্পানী খুলে ইপরো এন্টারপ্রাইজ ও হানকেল কোম্পানীর মাল বিক্রি করছে। এসব আমদানীকৃত পন্য রাজধানীর গুলশান-বনানী ও উত্তরার অভিজাত এলাকার বিপনী বিতানসহ বিভিন্ন জেলা শহরগুলোর বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হয়। আমদানীকৃত এসব পন্যের গায়ে প্রায় সব গুলোতেই মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ লেখা থাকে। সচেতন ক্রেতা সাধারন অধিক মূল্যে বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের পন্য দোকান থেকে কেনেন। অধিকাংশ সময় পন্যের মেয়াদের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য মেয়াদের তারিখ লেখা দেখে ক্রেতারা পণ্য কেনেন। আমদানীকৃত এসব পন্যের একটি বড় অংশ বিভিন্ন দোকানে মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ার পর অবিক্রিত থেকে যায়।

[৬] রেজাউল হায়দার বলেন, বিএসটিআইর বিধিমালা ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসব পন্য বিক্রেতারা নিজ উদ্যোগে অথবা সরবরাহকারীর কাছে ফেরত দিয়ে ধ্বংস করে ফেলার কথা। কেননা মেয়াদোত্তীর্ন বডি লোশন, সাবান, পাউডার কসমেটিকস পন্য ব্যবহারে ত্বক ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি বা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল কিছু অবৈধ ও অসাধু ব্যবসায়ী চক্র দোকানে থাকা এসব অবিক্রিত মেয়াদোত্তীর্ন দেশী-বিদেশী পন্য নাম মাত্র মূলে কেনে সেগুলোর মেয়াদোত্তীর্নের সিল বিশেষ পক্রিয়ায় মুছে ফেলে। এরপর সেগুলোতে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত সমমানের মেশিনের সাহায্যে আবারও ইচ্ছে অনুযায়ী নতুন মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ বসিয়ে গুলশান বনানীসহ দেশের অভিজাত এলাকায় নামী-দামী বিপনী কেন্দ্রগুলোতে বিক্রি করতো। এ কাজের জন্য আলাদা বিদেশ থেকে অত্যাধুনিক মেশিনও আমদানি করেছে তারা। যার মাধ্যমে জালিয়াতি করলেও কোনোভাবে ভোক্তাদের বোঝার সুযোগ ছিল না। এসপিএস কর্পোরেশন গত ১০ বছর ধরে বিদেশি কসমেটিকস পণ্য আমদানি ও বাজারজাত করছিল।

[৭] সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি গর্হিত ও দন্ডনীয় অপরাধ এবং সরলমনা ক্রেতা সাধারনের সঙ্গে প্রতারনা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধ। এতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ন অবৈধ পন্য খোলা বাজারে বিক্রির প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত