শিরোনাম
◈ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার ◈ বিশ্বের ধনীতমদের একজন, বিলাসবহুল প্রাসাদ নয়, ছোট্ট ঘরেই থাকেন ইলন মাস্ক, কারণ কী? ◈ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ এখন বাংলাদেশ, বিশ্বের সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশ রাশিয়া ◈ ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ এআই মডেল নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র, চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ক্লড ফেবল ৫’ স্থগিত, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন! ◈ বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পাবেন পেনশন! ◈ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বিএসএফের ১১ জনের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি ◈ গণমাধ্যম এখন বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল ◈ আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত? যা জানাগেল ◈ এবার পরিবর্তন হচ্ছে যে উপজেলার নাম ◈ ফজরের নামাজের সময় খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২০, ০৫:৩৯ সকাল
আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০২০, ০৫:৩৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] কোভিডের ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ মোকাবিলার প্রস্তুতি প্রয়োজন: বিশেষজ্ঞ মত

সালেহ্ বিপ্লব: [২] শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত ‘কোভিড-১৯: দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কি প্রস্তুত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, করোনাকে স্বাভাবিক রোগ হিসেবে নিয়ে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। তারা মনে করছেন, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

[৩] ওয়েবিনারে অতিথি ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক পরামর্শক ডা. এম মুজাহেরুল হক, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরামর্শক ডা. মো. মুশতাক হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

[৪] অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক বলেন, দেশের ২২টি জেলায় এখনও করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর টেস্ট ল্যাব নেই। তার ওপর ফি ধরে দেয়া হয়েছে, যাতে জনগণ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। যে কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ধীরগতিতে হলেও বাড়ছে। করোনা এখন একটা জায়গায় ওঠানামা করছে নমুনা পরীক্ষা সেভাবে না হবার জন্য।

[৫] তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় সমন্বয়হীনতা সবার নজরে পড়েছে। শুরু থেকে আমরা বিভিন্ন মুখ থেকে শুনলাম বাংলাদেশ প্রস্তুত অথচ দীর্ঘদিন পর্যন্ত মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানে পিসিআর মেশিনে টেস্টের সুযোগ ছিল। আবার কতগুলো পিসিআর মেশিন ব্যবহারযোগ্য সেটা পর্যন্ত জানা ছিল না। ‘ফার্স্ট ওয়েভ’ আমাদের চলছে, কতদিন চলবে জানা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা উচিত এবং জনগণকে যেভাবে মানানো উচিত সেই সমন্বয় হচ্ছে না। বাংলাদেশের মানুষ সচেতন কিন্তু মোটিভেটেড না। তারা জানে মাস্ক না পরলে সমস্যা হবে কিন্তু তারা পরছে না। আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণকে বাধ্য করার চেষ্টা তাতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

[৬] অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদস্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার ফলে একটি করে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। যে ব্যাখ্যা হয়েছে, সেগুলো করোনা মোকাবিলায় ক্ষতিকর হয়েছে। মন্ত্রী যখন একটা কথা বলেন, তখন আমরা ধরে নিতে পারি এটি স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ কথা। আমরা ধরে নিতে পারি, তার বক্তব্যে মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের সমর্থন আছে। তিনি আরও বলেন, ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ আসার আগে একটি শর্ত প্রথম ওয়েভটাকে কার্যকরভাবে কমিয়ে আনা কিন্তু বাংলাদেশ প্রথম ওয়েভ নিয়ন্ত্রণ করার কাছাকাছিও নেই। যদি ধরে নিই, বাংলাদেশ সামনে প্রথম ওয়েভ নিয়ন্ত্রণ করবে। তাহলে দ্বিতীয় ওয়েভ এলে তিনটি সমস্যা দেখছি। ব্যবসায়ী, পোশক ও পরিবহন সংগঠন নেতাদের কাছ থেকে বাধা আসবে। দীর্ঘ দিন তারা নানা বিধিনিষেধ মেনে চলেছে। সীমিত আকারে কিছু বিধিনিষেধ এখনো আছে। বহু লোক চাকরিচ্যুত হলো, ফল পেল কী? পরে গিয়ে আবারো একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে গেলে স্বাভাবিক কারণেই বাধা আসবে। আবার স্বাস্থ্যকর্মীদের চরমভাবে ডিমোটিভেট করা হয়েছে, তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাই তাদের রেসপন্স কেমন হবে বলা মুশকিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এই ধারা চলতে থাকলে সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।

[৭] আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, দেশে করোনা মোকাবিলোতে পরিকল্পনা হয়েছে একটা কিন্তু কাজ হয়েছে আরেকটা। পরিকল্পনা ছিল যখন মহামারির চতুর্থ স্তরে যাব, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হবে তখন সোস্যাল ডিসটেন্সিং করা হবে। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিং বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং হলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহে অন্তত দুবার প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকা উচিত, এতে করে জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব হয়, জবাবদিহিতাও হয়। আবার যারা কাজ করেছেন জানুয়ারি থেকে তাদের পরিশ্রম ম্লান হয়েছে জেকেজি ও রিজেন্টের দুর্নীতির কারণে। তবে দুর্নীতিই একমাত্র সমস্যা না। লোক বদল হয়েছেন কিন্তু সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়