প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামনাশীষ শেখর: বঙ্গবন্ধু হত্যার সশস্ত্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন

কামনাশীষ শেখর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে মুজিব ভক্তরা গড়ে তুলেছিলেন সশস্ত্র প্রতিবাদ। ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের পর পর বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ চলেছে ’৭৭ সালের মে মাস পর্যন্ত। প্রায় দুই বছর এই আন্দোলনে জীবনদান করেন শতাধিক যোদ্ধা। বাংলাদেশের আদিবাসীরা এ প্রতিবাদ আন্দোলনে ছিলেন অন্যতম প্রধান শক্তি। এ সশস্ত্র আন্দোলনে জীবন দেয়া যে ৮৬ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ২৫জনই আদিবাসী।

যেভাবে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ : ১৫ আগস্ট ভোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর গোটা দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়। ঘাতকদের পক্ষে মেজর ডালিম বার বার রেডিওতে ঘোষণা করছিল এ হত্যাকাণ্ডের খবর। অনেকেই আশা করেছিল এই হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ হবে। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই আত্মগোপণ করেন। তৎকালীন সেনা, বিমান, নৌ বাহিনী প্রধান, বিডিআর এর মহাপরিচালক, রক্ষীবাহিনী, পুলিশের আইজি সহ সরকারি সব বাহিনীর প্রধান গিয়ে একে একে খুনীদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের শীর্ষ কয়েকজন মোস্তাকের মন্ত্রীসভায় যোগদান করেন। এসব দেখে হতাশ হয়ে পরে সারা দেশের অগণিত মুজিব ভক্ত। তবে ছাত্রলীগ, যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কিছু একটা করার জন্য তৎপর হন। নিজেদের মধ্যে তারা যোগাযোগ শুরু করেন। ২২ আগস্ট টাঙ্গইলের তৎকালীন জেলা গভর্নর প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ছয়জন সঙ্গী নিয়ে জামালপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে ‘হত্যাকারী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে’ সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দেন।

সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু : শুরুতে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী ভারতে গিয়ে যোগদেন কাদের সিদ্দিকীর সাথে। ৭৫এর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই বাহিনীর একটি গ্রুপ যমুনা নদী হয়ে নৌপথে দেশে প্রবেশ করে। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর চরে বাংলাদেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এতে বগুড়া জেলা যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক খসরু নিহত হন। প্রচন্ড যুদ্ধের মুখে তার লাশ সহযোদ্ধারা যমুনা নদীতে ভাসিয়ে দেন। পরে তারা সেখান থেকে পিছু হটে টাঙ্গাইল হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় চলে যায়। পথে হালুয়াঘাটে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধ হয়।
জাতীয় মুক্তিবাহিনী গঠন : হালুয়াঘাট সীমান্তে গিয়ে গোবড়াকুড়া গ্রামে গারো আদিবাসী প্রবোধ দিও-র বাড়িতে প্রতিরোধ ব্যুহ (ডিফেন্স) তৈরি করে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা। তখন থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের পাশাপাশি দলে দলে আদিবাসী যুবকরা সেই প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগদান শুরু করে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতের তিনমাইল অভ্যন্তরে চান্দুভুই নামক স্থানে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। এ বাহিনীর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় মুক্তিবাহিনী’। এবাহিনীর লগো ও ব্যাচ নির্বাচন করা হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। বাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ নির্বাচিত হন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।

এছাড়া ৩৬জনকে এই বহিনীর বিভিন্ন কমান্ডার করা হয়। এরা হলেন, সুনীল কুমার গুহ, ফারুক আহমেদ, আ.হ সেলিম তালুকদার, সৈয়দ নূরুল ইসলাম, আরিফ আহেমদ দুলাল, কবিরুল ইসলাম বেগ, সাইদুর রহমান মহারাজ, খোরশেদ আলম আর.ও, মাহবুব আহমেদ, আলী হোসেন, মীর দেলোয়ার, আব্দুল বাতেন, জয়নাল আবেদীন, বিজন সাহা, নাসিম ওসমান, অলোক দত্ত, দীপংকর তালুকদার, মোঃ আব্দুল্লাহ, পংকজ আজিম, আব্দুল হক, জীতেন ভৌমিক, বাবুল হক, লুৎফর রহমান, মোঃ আমান উল্লাহ, তমছের আলী, আলবার্ট ম্রং, গাজী লুৎফর, সুকুমার সরকার, হাসেমী মাসুদ জামিল, জগলুল পাশা, বিজন সরকার, আব্দুল হালিম, এম.এ মান্নান, আব্দুর রব, সুলতান মোহাম্মদ, এম.এ জলিল ও প্রবোধ দিও।

জাতীয় মুক্তিবাহিনীর প্রতি সংহতি প্রকাশ : চান্দুভুই হেড কোয়ার্টার থেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করা হতো। হেড কোয়ার্টারে গিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার চৌধুরী, ফরিদপুর জেলা গভর্নর শামসুদ্দিন মোল্লা, রাজবাড়ী জেলা গভর্নর ডা. এস.এ মালেক, সাংসদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, চট্টগ্রামের এমবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ (সাবেক সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম) বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগে বিভিন্ন স্তরের নেতারা জাতীয় মুক্তিবাহিনীর সাথে সংহতি জানিয়েছেন।

প্রথম শোক দিবসে প্রতিশোধের পরিকল্পনা : ৭৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ জাতীয় মুক্তিবাহিনী বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। সে বছর আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোকদিবস ঘোষণা করে অনেকগুলো সশস্ত্র গ্রæপকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব গ্রæপের সাথে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে জাতীয় মুক্তিবাহিনীর বেশ কিছু সদস্য নিহত, আহত ও গ্রেফতার হন। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিশ্বজিৎ নন্দীর নেতৃত্বে একটি গ্রæপ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে বানারপাড়া সেতু আক্রমণ করতে আসেন। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তাদের যুদ্ধ হয়। সে যুদ্ধে বিশ্বজিৎ নন্দীর সাথে আসা চার জন জীবন দেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে বিশ্বজিৎ নন্দী গ্রেপ্তার হন। সামরিক আদালতে তার ফাঁসির আদেশ হয়। ১৪ বছর কনডেম সেলে কাটিয়ে ৯০ সালে তিনি মুক্তি পান।

যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন : প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদের সূত্রে জানা যায়, এই সশস্ত্র আন্দোলনে শতাধিক যোদ্ধা জীবন দেন। এদের ৮৩জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছেন বগুড়ার আব্দুল খালেক খসরু, নজিবুর রহমান নিহার, গাইবান্ধার ইবনে সাউদ, রেজাউল করিম (১), মিজানুল হক মুকুল, মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, আলী আযম আলমগীর, মোঃ বাবুল, মোঃ সোলায়মান, আব্দুর রহিম আজাদ, কুড়িগ্রাম জেলার রেজাউল করিম (২), নূরুল ইসলাম, নরুল আমিন, নেত্রকোনা জেলার আব্দুল খালেক, রাধারমন রায় ঝন্টু, বামুন সরকার, রজব আলী, আবুল কাশেম, হামিদুল ইসলাম, ফজর আলী, শান্তি বিকাশ সাহা পলটু, আব্দুল হেকিম, মুসলিম উদ্দিন তালুকদার, সুব্রত, টাঙ্গাইল জেলার সাখাওয়াত হোসেন মান্নান, সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ আহমেদ, কুমিল্লার সুশীল ভৌমিক বেলু, সুনামগঞ্জের নিরানন্দ দাশ, মতি লাল দাশ, আখলমন মাঝী, বলরাম সরকার, শেরপুর জেলার বিপ্লব কুমার দে দুলাল, দুলাল মিয়া, মনোরঞ্জন সরকার, হাবিবুর রহমান, বীরেন্দ্র চন্দ্র পাল, কছর আলী, আলী হোসেন, শওকত আলী, মোতালেব, ধীরেন্দ্র চন্দ্র শীল, রুস্তম আলী, মোজাম্মেল হক, জামালপুর জেলার নজরুল ইসলাম, আলতাফুর রহমান, ময়মনসিংহ জেলার আব্দুল হামিদ, আব্দুল আজিজ, সুশীল চন্দ্র দত্ত, রঞ্জিত কুমার এস, মজিবুর রহমান খান, সুবোধ চন্দ্র ধর, আলকাস উদ্দিন সরকার, দ্বীপাল চন্দ্র দাশ, জোবেদ আলী, সিরাজুল ইসলাম। শহীদদের মধ্যে ২৫জন আদিবাসী রয়েছে। এরা হচ্ছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার রঞ্জিত সাংমা, অনন্ত বর্মণ, জয়েশ্বর বর্মণ, সপ্রæ সাংমা, কাশেম সাংমা, নিরঞ্জন সাংমা, পিটারসন সাংমা, প্রাণবল্লভ বর্মণ, প্রটিন দিও, শ্রীদাম রিছিল, চিত্তরঞ্জন ডালু, শ্রীবর্দী উপজেলার সম্রাট সাংমা, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ফনেস সাংমা, তপন চাম্বুগং, অ্যালিসন মারাক, গোবিনিক মারাক, সুদর্শন মানকিন, হারু সাংমা, হযরত সাংমা, জবিনাশ তেলসী, অগাস্টিন চিছিম, সুধীন কুবি, ডমিনিক চাম্বুগং, নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার হেনরী সাংমা এবং ধোবাউড়া উপজেলার পংকজ আজিম। এদের মধ্যে অবশ্য কেউ কেউ অন্তর্দলীয় কোন্দলে নিহত হন।

ভারত সরকারের অসহযোগিতা : ’৭৭ সালে নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের পরাজয়ের পর ক্ষমতায় আসেন মোরারজী দেশাই। নতুন সরকার জাতীয় মুক্তিবাহিনীকে তাদের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। জাতীয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকীকে আলোচনার কথা বলে মেঘালয়ের তুরায় নজরবন্দী করেন। বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের চান্দুভূই হেড কোয়ার্টারে বিএসএফ সদস্যরা ঘিরে রাখে। এক পর্যায়ে ’৭৭ এর মে মাসে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। বাহিনী প্রধান কাদের সিদ্দিকীসহ নেতৃস্থানীয় কয়েকজনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় ভারত সরকার। আর এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে প্রতিরোধ যুদ্ধের।

খুনীরা বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে পারেনি : প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদের আহ্বায়ক আ হ সেলিম তালুকদার বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। সারা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল এর প্রতিবাদে কি হয় তা দেখতে। যাদের ভূমিকা রাখার কথা ছিল তারা অনেকেই সে ভূমিকা রাখতে পারেনি। আমরা প্রতিরোধ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেইনি। জাতিকে কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা করেছি।

অগ্রণী ভূমিকায় ছিল আদিবাসীরা : এই বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে বাঙালিদের পাশাপাশি আদিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৩৬ জন কমান্ডারের মধ্যে অন্যতম চার কমান্ডার ছিলেন আদিবাসী। এরা হচ্ছেন, দীপংকর তালুকদার (সাবেক পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী), পংকজ আজিম, আলবার্ট ম্রং, প্রবোধ দিও। এছাড়া নরবাট ম্রং, হরিষ সাংমা, চিত্ত সাংমা, মনোজ সাংমা, তরুণ সাংমা, রঞ্জিত সাংমা, জয়েশ্বর বর্মণ, সুদর্শন সাংমা, প্রদীপ সাংমা, প্রাণবল্লভ বর্মণ, সন্যাস হাজং, অমায়ুষ চিসিম, হলুদ আজিম কমান্ডার তালিকার সদস্য ছিলেন। জাতীয় মুক্তিবাহিনীর প্রতিটি অপারেশনে আদিবাসীরা বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

জাতীয় মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার হাশমী যুগল মাসুদ জানান, প্রতিরোধ যুদ্ধের যোদ্ধাদের ৩০ ভাগই ছিল আদিবাসী। তারা সেসময় বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হতো তা পরিপূর্ণভাবে পালন করত। প্রতিরোধ যোদ্ধা সুসং দূর্গাপুরের যতীন্দ্র সাংমা (বর্তমানে বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির পরিচালক) জানান, ৭৫সালের অক্টোবরে আরও অনেক আদিবাসীর মত তিনিও যোগ দেন সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে। কলমাকান্দা, দূর্গাপুর, ধোবাউড়া সহ বিভিন্ন স্থানে ৮/৯টি যুদ্ধে অংশ নেয়। ভবানীপুরের যুদ্ধে সহযোদ্ধা ডমিনিক চাম্বুগং তার চোখের সামনেই শহীদ হন। তিনি বলেন, কিছু পাওয়ার জন্য সেদিন প্রতিরোধ যুদ্ধে যাইনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতেই যুদ্ধে গিয়েছিলাম। সুসং দূর্গাপুরের হাজং মাতা রাশিমনি কল্যান পরিষদের সভাপতি মতিলাল হাজং বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকার আদিবাসীরা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে যুদ্ধে অংশ নেয়ায় সেখানকার আাদিবাসীদের চরম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়। মামলায় পড়ে সর্বশান্ত হয় অনেকে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এর প্রতিবাদে গড়ে উঠা সশস্ত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সমর্থন জানানোর অপরাধে সাধারণ আদিবাসীদেরও সে সময় অনেক নির্যাতন, হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। অনেক আদিবাসী দেশ ত্যাগ করতে পর্যন্ত বাধ্য হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের মধ্য থেকে তেমন কোন প্রতিবাদ প্রতিরোধ দেখা যায়নি। কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে যে সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল তার প্রধান শক্তি ছিল আদিবাসীরা। এর মধ্যদিয়ে দেশের প্রতি, দেশ নায়কের প্রতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি আদিবাসীদের যে কমিটমেন্ট তাই প্রকাশ পেয়েছে। এজন্য তাদের অনেক অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এই ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এটা খুবই অনভিপ্রেত। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত