প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : করোনাকালে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে শিক্ষা, ইতিবাচক পদক্ষেপ জরুরি

দীপক চৌধুরী : শিক্ষা নিয়ে সারাবিশ্ব সংকটে। শেষ পর্যন্ত কী করতে হবে এটাই ভাবনা শিক্ষাবিদদের। করোনার কারণে সারাবিশ্বেই সবকিছু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সারা পৃথিবী এখন একটা বিচিত্র সময়ের ভেতর যাচ্ছে। পৃথিবীতে এমন দুঃসময় আসেনি। শিক্ষাবিদেরা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে ভাবনা এবং দুর্ভাবনা করছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, সেখানে প্রথম পদক্ষেপই ছিল বৃত্তিমূলক এবং কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সুশিক্ষিত হলেই জাতি আত্মনির্ভরশীল হবে-এটাই ছিল জাতির পিতার ভাবনা। করোনা পরবর্তী সঙ্কট মোকাবিলায় একাধিকবার কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে বয়সে একজন জ্যেষ্ঠ ও অপরজন তরুণ হলেও দুজনই মননে, কর্মে, চিন্তায় আধুনিক ও বাস্তবমুখী। সমাজে কারিগরি শিক্ষার একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘এটাকে যদি আমরা মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসি বা নিয়ে আসতে চাই, তাহলে কিন্তু মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এটা কেন আমরা পারবো না?’ ভার্চুয়াল আলোচনায় যোগ দিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, ‘একটি দেশের বেশিরভাগ জনগণ যেখানে বৃত্তিমূলক একং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে সেখানে আমাদের এখানে ঠিক উল্টো চিত্র।’

করোনার প্রাদুর্ভাবে বন্ধ থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সৃষ্টি হলে করণীয় কী এটিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধারণা, একটি সেমিস্টার পিছিয়ে যেতে পারে। এ জটের ধাক্কা সামাল দিতে অন্তত এক বছর লাগবে বলে আশঙ্কা করেন অনেকে। তবে বাড়তি ক্লাস আর নির্ধারিত ছুটি বাতিল করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলে এ সংকট এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইউজিসির চেয়ারম্যান ছিলেন এমন একজন শিক্ষাবিদ মনে করেন, এক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে- সাধারণ ছুটির আগে নেয়া শ্রেণি কার্যক্রমে শেষ করা কোর্সের ওপর বিশেষ ব্যবস্থায় চলতি সেমিস্টারের পরীক্ষা নিয়ে রাখা। আসলে একধরনের ‘হজবরল’ অবস্থা বিরাজ করছে বর্তমানে। কিছু পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাশ হলেও পরীক্ষা হচ্ছে না। কিন্তু একশ্রেণির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে নামকোয়াস্তে ক্লাশ হচ্ছে আবার পরীক্ষাও নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে যুক্তিসংগত নানান কারণে ক্লাশ-পরীক্ষা কোনোটাতেই কোনো কোনো শিক্ষার্থী পুরোপুরিভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে ত্রুটি থাকাও একটি কারণ। ফলে তারা অনিচ্ছাকৃত কারণে বিপদের মুখেই পড়বেন। এক্ষেত্রে যে শিক্ষকদের বা বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি তাও কিন্তু নয়। গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না।’ কোনো কোনো ক্ষেত্রে অক্টোবর-নভেম্বরে নতুন সেমিস্টার শুরু করা যাবে। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে সাধারণভাবে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রলম্বিত হবে বিদ্যমান সেমিস্টার। কেননা প্রতিষ্ঠান খুলেই পরীক্ষা নেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে প্রস্তুতির সময় দিতে হবে। সেই সময়টা কতদিন তাও একটি প্রশ্ন। এ ব্যাপারে কিছুই বলা সম্ভবও নয়। একাধিক শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া যায় যে, ৩১ আগস্টের পর যদি আর ছুটি নাও বাড়ে, তবু ৬ মাসের ছুটিতে ৯ মাস থেকে এক বছরের সেশনজট হবে।

করোনার এই বিপদে আমাদের অনেক বিষয়ই মাথায় আনতে হবে। কৃষির আধুনিকায়ন নিয়ে, জনগণের চিকিৎসাসেবা নিয়ে, কারিগরি শিক্ষার প্রসারের কথা চিন্তা করে বিশ^বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। যদিও এটা সত্য, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছে, পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে আসন সঙ্কট থাকায় নতুন বিশ^বিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে সব জেলায় একটি করে বিশ^বিদ্যালয় চালু করার কথা। করোনার কারণে সবকিছুই স্থবির। আমাদের দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে, আরো তিনটির অনুমোদন আছে, যদিও কার্যক্রম শুরু হয়নি। শুধু পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় নয়, দেশে ১০৬টি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। এগুলো নিয়ে ভাবা উচিত। এগুলো একটি গ্রহণযোগ্য ও যুগোপযোগী কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। করোনার পরই এটা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আর্থিক ও পরিবেশ-প্রতিবেশ কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকের শিক্ষাপথ থেমে যাবে, ঝরে পড়বে। সুতরাং আগে থেকেই একটি প্রস্তুতি রাখা দরকার। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, করোনাকালে কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন এডুকেশনের জন্য বিষয়বস্তু পুনঃনির্ধারণ করে না। অর্থাৎ সবকিছুই যেনো কারো কারো কাছে দায়সারা গোছের। শিক্ষাগ্রহণ কীভাবে দায়সারা হতে পারে? গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন আলোচনায়- ডিজিটাল মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করে চলছেন শিক্ষাবিদেরা। কিন্তু যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা কতটা সিরিয়াস! শুধু কথাই নয়, পুঁথিগত বিদ্যার পরিবর্তে আরও বেশি আলোচনাভিত্তিক ও অনুকরণমূলক শিক্ষা চালুর ওপর জরুরি আলোকপাত করা উচিৎ।

স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য নেই, সরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের এমন শিক্ষার্থীদের তালিকা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশ নিতে যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইস কেনার সক্ষমতা নেই, তাদের তালিকা পাঠাতে গত রোববার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি। কিন্তু বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ নেই। বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মত করে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে। কোনো কোনো বিশ^বিদ্যালয়ে নামমাত্র অনলাইন। তবে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ভার্চুয়ালী শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি।

কিছুদিন পরপরই শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে। এটা এমন একটি বিষয় যে, সরকার, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবক যেখানে শিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আক্রান্ত করতে ও বিভ্রান্ত করতে একশ্রেণির ‘দুষ্টু লোকের’ কাজ এটি। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, গুজব ছড়ানো হলে বা এমন চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ডা. দীপু মনি র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুজব ও মিথ্যা প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সম্প্রতি। এটা বলার বাকি নেই যে, করোনার কারণে স্বাস্থ্যখাতের মতো শিক্ষাখাতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের সততা-নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষকরা কতটুকু প্রস্তুত এটাও ভাবনার বিষয়। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘সরকার প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীকে জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ দায়বদ্ধ থেকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে আত্মনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব কর্মচারীকে সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।’ ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী যুক্ত ছিলেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পাবলিক পরীক্ষাগুলো। জেএসসি ও জেডিসিতে এবার মোট পরীক্ষার্থী প্রায় ২৬ লাখ। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতে এবার প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট অষ্টম শ্রেণি শেষে অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট ( জেডিসি) পরীক্ষা নিয়ে ছয়টি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি সংকোচন এবং বিষয় কমিয়ে আগামী ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনেকে আবার মন্ত্রণালয়কে বোঝাবার চেষ্টা করছেন, যদি সেপ্টেম্বরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে পাঠ্যসূচি কমিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে এ পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। তবে এটি কী বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। মোটেই না। এসব ক্লাশের ছেলে-মেয়েরা এবছর ক্লাশ করছে মাত্র ছয়ত্রিশ দিন। নতুন বইয়ের সঙ্গে আর শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয় হতে না হতেই করোনায়া আক্রান্ত হয়েছি আমরা।

তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পরীক্ষা ছাড়াই নবম শ্রেণিতে উঠবে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু) উল্লেখ করেছে, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির কারণে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮৪টি দেশ পাবলিক বা এ ধরনের পরীক্ষা হয় বাতিল নয়তো স্থগিত করেছে।

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর দেশ একজন নারীকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়। নবম জাতীয় সংসদে ডা. দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দায়িত্ব পালনে ছিলেন সফলও। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের এই দেশে প্রথম কোনো নারী হলেন শিক্ষামন্ত্রী। আর সেই দায়িত্বটা পেয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি ডা. দীপু মনি।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ এবং শিক্ষিকা রহিমা ওয়াদুদের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয়া শিশুটিই আজকের দীপু মনি। এই শিক্ষামন্ত্রীর মা রহিমা ওয়াদুদও ছিলেন একজন মানুষ গড়ার কারিগর। জ্ঞানের আলো বিলিয়েছেন দীর্ঘসময়। সাদামাটা তার জীবন-যাপন। তার মধ্যে কখনোই পরশ্রীকাতরতা দেখা যায়নি। কারো কিছু দেখলে পাওয়ার কোন লোভও নেই। অন্যের সফলতা দেখে ঈর্ষান্বিত হন না, বরং খুশি হন। সেই শিক্ষিকার মেয়েই শিক্ষামন্ত্রী- এটা অনেক বড় বিষয়।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় নারীরা এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ডা. দীপু মনি। একাধারে তিনি দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম কুড়িয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছেও প্রিয় নেত্রী আরেকধাপ পরীক্ষার দোরগোড়ায়। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন । অন্যদিকে রয়েছেনÑ পিতার পাশে হেঁটে উচ্চতার শিখরে বেয়ে ওঠা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে (চট্টগ্রাম-৯) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে নওফেল। তাঁর রাজনীতির শুরুটা হয়েছে চট্টগ্রামের মাটিতে বাবার পাশে থেকেই। লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে স্নাতক করে পরে ব্যারিস্টারিও সম্পন্ন করেন তিনি।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত