প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঠাকুরগাঁওয়ে নারী উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছে মধুগাছ স্টেভিয়া

সাদ্দাম হো‌সেন, ঠাকুরগাঁও : [২] দীর্ঘ গবেষনায় ঠাকুরগাঁওয়ে বাণিজ্যিকভাবে কৃষক পযার্য়ে চাষ শুরু হয়েছে চিনি বিকল্প মধুগাছ স্টেভিয়ার । বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঔষুধি গুণ সম্পন্ন গাছ স্টেভিয়া স্বাদে মিষ্টি এ গাছের পাতার নির্যাস ডায়াবেটিস রোগের মহাঔষুধ। পাশাপাশি, দাঁতের ক্ষয়রোধ, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারও পাওয়া যায় স্টেভিয়ার পাতার নির্যাস থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যিকভাবে স্টেভিয়া চাষ বদলে দিতে পারে অনেকের ভাগ্য চাকা।

[৩] রওনক আরা নূর-এ-ফেরদৌস নামে এক নারী উদ্যোক্তা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পারপূগী গ্রামে ২ একর জমিতে স্টেভিয়ার চাষ করেছেন। তাকে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছেন বাংলাদেশ সুগার ক্রপস গবেষণা ইনস্টিটিউট। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ার পর গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এবার কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিক চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। এ চাষে কৃষক লাভবান হবে বলেই মনে করছেন তারা। গত বছর পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা আসে। এরপরই কৃষক পর্যায়ে স্টেভিয়া চাষ ছড়িয়ে দিতে চারা উৎপাদন শুরু হয়। প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। তাই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্টেভিয়া চাষে এলাকার কৃষক।

 

[৪] ঠাকুরগাঁওয়ের সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরিফুল ইসলাম জানান, স্টেভিয়ার সবুজ ও শুকনো পাতা সরাসরি চিবিয়ে কিংবা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে বোতলে সংরক্ষণ করা যায়। স্টেভিয়ার বহুমুখি ব্যবহার রয়েছে। এ গাছের পাতার নির্যাস ডায়াবেটিস রোগের মহাওষুধ। পাশাপাশি, দাঁতের ক্ষয়রোধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের যত্নসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারক হিসেবেও রয়েছে এর ব্যবহার। এছাড়া বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাদ্যেও স্টেভিয়ার ব্যবহার সম্ভব। বর্তমানে স্টেভিয়ার শুকনো পাতার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। বাজার তৈরি করতে পারলে, অনেকেই এর চাষে আগ্রহী হবে বলে দাবি একর্মকর্তার।

[৫] এছাড়াও কনফেকশনারি, ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য চিনির বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। চা ও কফিতে স্টেভিয়ার ব্যবহার বিশ্বব্যাপী।

[৬] দেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুরে একই পদ্ধতিতে তামাক চাষ করা হয়। এসব অঞ্চলে ক্ষতিকর তামাক চাষের পরিবর্তে স্টেভিয়া চাষ হতে পারে একটি লাগসই বিকল্প। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্টেভিয়া চাষ করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের। সম্পাদনা : হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত