প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিরূপ পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

ডেস্ক রিপোর্ট : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় ধানমন্ডিতে বসে আছেন দু’জন সাংগঠনিক সম্পাদক। সামনে মোবাইল ফোন। অনলাইনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক জেলার নেতাদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে ব্যস্ত তারা। দিচ্ছেন দলের নানা নির্দেশনা। পাশাপাশি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশও শোনাচ্ছেন। সাংগঠনিক ও করোনায় মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হবে তার গাইডলাইনও দিচ্ছেন তাদের। কিছু সময় পর উত্তরাঞ্চলের এক জেলার নেতাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন ওই দুই সাংগঠনিক সম্পাদক। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বন্যা পরিস্থিতির।

কীভাবে চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে সহায়তা করতে হবে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। অন্যদিকে সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সরকারি বাসভবন থেকে প্রায় প্রতিদিনই ব্রিফিং করছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সাংগঠনিক নির্দেশনার পাশাপাশি বিএনপি’র সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। এভাবেই অনলাইনের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিষয়টি নতুন মাত্রার চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন দলটির নেতারা।

তারা বলেন, অতীতে এ ধরনের অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। জনসমাবেশ, মিটিং, মিছিল ছাড়া সাংগঠনিক শক্তি টিকিয়ে রাখা সত্যিই দুরূহ বিষয়। পরিস্থিতির কারণে আমরা সেই কাজটি করছি খুবই সতর্কতার সঙ্গে।

তারা জানান, দলীয় সভাপতির নির্দেশে প্রায় প্রতিদিনই জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সাংগঠনিক কোনো দূরত্ব যেন তৈরি না হয় সেদিকে আমাদের কড়া দৃষ্টি রয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ডিজিটালে পরিণত করেছে। এর সুফল আজ সবাই পাচ্ছে। আর এটাকেই কাজে লাগিয়ে করোনার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সব দলই একইভাবে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, দেশব্যাপী জেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা কথা বলে সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

দেশের বেশ কয়েকটি জেলার আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, দেশের এই সংকটের সময় জনগণের পাশে থাকতে কেন্দ্রীয় অফিস থেকে বারবার তাগাদা দেয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক বিষয়গুলো ঐক্যবদ্ধভাবে করার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। আমরা ওইসব নির্দেশনা মেনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। সংকট শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মানুষের পাশে থাকবো। গত মার্চে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকার মুজিববর্ষের জনসমাগমপূর্ণ সব কর্মসূচি স্থগিত করে আওয়ামী লীগ। সেই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগও জনসমাগমের কর্মসূচি পরিহার করে চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেসব কর্মসূচি পালন করা যায় শুধু সেগুলোই চলমান রয়েছে। ফলে একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। মুজিববর্ষের কর্মসূচি স্থগিতের পাশাপাশি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করা হয় সীমিত আকারে। এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় দলীয় ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সমসমায়িক ইস্যুতে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম শুরু হয় ডিজিটাল মাধ্যমে। যা সমন্বয় করা হয় জুম বৈঠক বা ডিজিটাল কনফারেন্সের মাধ্যমে। আবার করোনায় সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের অনুষ্ঠানও চলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার জন্য জুম মিটিং শুরু করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের কিংবা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় ব্রিফিং সারছেন অনলাইনে। অনলাইন প্রযুক্তিতে দলের বক্তব্য তুলে ধরছেন।

এদিকে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিং, ভিডিও কনফারেন্স ও জুম বৈঠকের মাধ্যমে ব্রিফিং, উদ্বোধন এবং বৈঠকের কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণের কাজও অনেকটা চলছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। অতিথিরা ভিডিও কনফারেন্সেই এসব অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন। আর সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত হতে না পারলে ভিডিও কনফারেন্সেই প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দিচ্ছেন। সর্বশেষ ২১শে জুলাই করোনা ভাইরাস, সুপার সাইক্লোন আম্ফান ও সাম্প্রতিক বন্যা এই তিন দুর্যোগের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সরকারের ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’-এর দ্বাদশ পর্বের আলোচনা সভা। বরাবরের মতোই পর্বটি সরাসরি প্রচারিত হয় আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে। অনুষ্ঠানটি নিয়মিত সঞ্চালনা করছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ্ আলী ফরহাদ। অনুষ্ঠানে দর্শকরা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানের আগে দলের ফেসবুক পেজের পোস্টেও প্রশ্ন করতে পারছেন তারা। দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নের ভিত্তিতেই এই অনুষ্ঠান সাজানো হয়। অনুষ্ঠানটির নবম পর্বে ‘করোনা সংকট মোকাবিলায় তৃণমূলের ভূমিকা’- শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন, ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু এবং বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি।মানবজমিন,

সর্বাধিক পঠিত