প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ মহামারিতে কোরবানিসহ খাবারের সর্তকতা সম্পর্কে জানালেন,পুষ্টিবিধ নাহিদা আহমেদ

শাহীন খন্দকার : [২] কোরনাভাইরাসের কারনে প্রতিবারের ঈদের চেয়ে এবারের ঈদ একেবারেই আলাদা। এই ঈদ উৎযাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সতর্ক না থাকলে কোভিড-১৯ তার বিস্তার দ্রুত গতিতে বেড়ে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি খাদ্য তালিকা কেমন হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ। এই পুষ্টিবিধ বলেন যে স্থানে কোরবানি দেয়া হবে তার পূর্বে স্থানটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং কোরবানির পরে জীবাণুনাশক ওষধ ছিটিয়ে দিতে হবে।

[৩] মাংস কাটার বটি, ছুরিসহ রাখার পাত্র হাড়ি,ঢাকি গরম পানির সাহায্যে ধুয়ে নিতে হবে। এর পরে বাসা-বাড়িতে আনার পর নির্দিষ্ট ব্যক্তিদ্বারা মাংস বন্টনের ও রান্নার যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিলেন। যিনি এই দায়িত্বে থাকবেন কাজ শেষে নিজেদের শরীর ও জীবাণু মুক্ত করতে বললেন। সেই সাথে যদি কেউ মাংস সংরক্ষণ করতে চান তাহলে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

[৪] কোরবানির বর্জ্য নির্দিষ্টস্থানে ফেলতে হবে এবং সেক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। খাদ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানালেন, দৃশ্যমান জমানো চর্বিবাদ দিয়ে কম তেলে মাংস রান্না করতে হবে। রান্নার আগে সম্ভব হলে ৫-১০ মিনিট সিদ্ধ করে পানি ঝড়িয়ে নিলে চর্বির অংশ অনেকটা কমে যায়। উচ্চ তাপে রান্না করতে হবে। মাংসের সঙ্গে ভিনেগার, টকদই, পেঁপে বাটা ও লেবুর রস ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতে চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।

[৫] ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. পিপি দে বলেন, যাদের উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যা আছে বা কো-মরবিডিটি আছে তারা মাংস ভক্ষণ একেবারেই না এড়াতে পারলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে অল্প পরিমাণ বা ১-২ টুকরো খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে মাংস রান্নায় সবজি যেমন কাঁচা পেঁপে, লাউ, চালকুমড়া, টমেটো কিংবা মাশরুম ব্যবহার করতে পারেন। মাংসের সঙ্গে সবজি মিশিয়ে কাটলেট বা চপ করেও খেতে পারেন। তবে একবারে ভুঁড়ি ভোজ না করে অল্প অল্প করে বারেবারে খাওয়া উচিত।

[৬] তিনি বলেন, কোরবানির সময় একবারে বেশি মাংস রান্না করে সেটা বারবার জ্বালিয়ে ঝুরি করে খেতে অনেকেই পছন্দ করি, কিন্তু স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এটি ক্ষতিকর বলে এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিবেলায় মাংসের ৩/৪ পদ না রেখে একবার একবার একটি একটি করে পদ নির্বাচন করুন। খাবারের সাথে শসা, লেবু, টমেটো ইত্যাদির সালাদ রাখা যেতে পারে। তিনবেলা ভারি খাবার না খেয়ে যে কোনো একবেলা হালকা খাবার যেমন সবজির স্যুপ, সবজি ও রুটি রাখতে পারেন।

[৭] প্রত্যেক প্রধান খাবারের ২০ থেকে ৩০ মিনিট পূর্বে কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন যা বিপাক ক্রিয়ার হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। খাবার কিছু সময় পর লেবু পানি বা টকদই খেলে তা হজম প্রক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিবার মাংস খাওয়ার পর গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এক টুকরো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন।
প্রতিদিন সকাল বা বিকেলের নাস্তায় টক জাতীয় মৌসুমি ফল রাখুন। যা রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। দিনে দুই একবার আদা, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা, এলাচ ইত্যাদি মসলা চা যেমন ক্লান্তিভাব কাটাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে, সেই সঙ্গে অবশ্যই সকাল বিকেল ব্যায়াম করে বা হেঁটে অতিরিক্ত ক্যালরি কমানোর চেষ্টা করুন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত