প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অপরূপ সৌন্দর্যের ধানমন্ডি লেক

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] মোহনীয় সৌন্দর্যের আধার রাজধানীর ধানমন্ডি লেক। এটি ঢাকাবাসীর জন্য অন্যতম একটি বিনোদনের স্থান। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিনোদনপ্রেমীরা অবসর সময় কাটাতে এখানে ছুটে আসেন। ইট পাথরের এই শহরের অনেকে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য আসেন এখানে। নাগরিক সচেতনতার কারণে দিন দিন এ লেকের পানি টলটলে স্বচ্ছ এবং পরিবেশে সৌন্দর্য বাড়ছে। ফলে বদলে যেতে শুরু করেছে লেকের সার্বিক চিত্র। এ লেকের অপর একটি অংশে আছে রবীন্দ্র সরোবর নামে উন্মুক্ত বিনোদন মঞ্চ। এ স্থানকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষ আসতেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিত্তবিনোদনের জন্য প্রায় ৫৪.৬০ একর নয়নাভিরাম সুবিশাল লেকসহ সর্বমোট ৮৫.৬০ একর এলাকা নিয়ে গঠিত ধানমন্ডি লেক, যা নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আয় থেকে ব্যয় নির্বাহ বিবেচনায় সমগ্র লেকটিকে ৭টি সেক্টরে বিভক্ত করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুবিধা প্রধান করে ইজারা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

[৩] গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, লেকের দুই পাশের সবুজ গাছ-গাছালিতে ভরপুর। সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান (এসটিএস) পাশে বড় বড় নারিকেল গাছ লেকের শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে। লেক এলাকায় অবস্থিত খাবার হোটেল, ফুচকার দোকান, চায়ের দোকান বসানোর কারণে অনেকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে অবসর কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক বর্ষায় গাছের পাতা সবুজ রং ধারণ করেছে। ফলে নান্দনিক রূপ পেয়েছে এ লেকটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অঞ্চল-১ এর সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, ইজারাদার থেকে প্রতি বছর ১০-১২ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়। এ টাকায় লেকের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এতে লেকের পাড় বাঁধাই করা, ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ সামগ্রিক উন্নয়ন করা হচ্ছে।

[৪] লেকে ঘুরতে আসা শামীম জামান বলেন, অফিস শেষে আমি মাঝে-মধ্যে অবসর কাটাতে এখানে আসি। এ এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করায় দিন দিন লেকের পরিবেশ উন্নতির পথে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, লেকের পরিবেশ ভালোই রয়েছে। এখানে যে ডাস্টবিনগুলো ছিল সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য আমরা সার্বক্ষণিক স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছি। এ ছাড়া লেকটির কোল ঘেঁষেই আছে উন্মুক্ত রবীন্দ্র সরোবর নামের মঞ্চ। দেখে মনে হবে তার সমস্ত বুক ছড়িয়ে রেখেছে দর্শনার্থীদের জন্য। সরোবরের গাছ ও জলের মেলবন্ধনের এমন দৃশ্য কদাচিৎ চোখে পড়ে অন্য শহরে। নগরবাসী এখানে আসেন কিছুটা সময় প্রকৃতির মাঝে নিজেকে হারাতে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আগমন হতে থাকে সরোবরটিতে। কেউ আসে সকালের শরীরচর্চা শেষে বিশ্রাম নিতে। আর নীরবে প্রকৃতির এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে। কেউ বা আসেন ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের নিয়ে কিছু সময় কাটাতে। আর কিছু খাওয়া-দাওয়া করতে। আবার কেউ কেউ আসেন বিকালের সময়টা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, আড্ডা, গান করতে। সরোবরটির পাশেই দৃষ্টিনন্দন এক সেতু যেন এপার-ওপারের জনস্রোত যোগ করেছে। আর কোনো এক বিকালে যদি হাজির হওয়া যায় এখানটায়, আগত সবার মুগ্ধতায় কেটে যাবে অনেকটা সময়। সময় করে প্রিয়জনকে বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা হলে উপভোগ্যই হবে সময়টা। লেকটির আধুনিকায়ন হওয়ার সময়টাতেই রবীন্দ্র সরোবর ও পাশের জায়গাগুলো নতুন রূপে সাজানো হয়। পাশেই ডিঙি নামের রেস্তোরাঁ। সেই সঙ্গে ঘাট ধরে নৌকা সারি সারি। ইচ্ছা করলে একটায় চেপে বসতে পারেন। জলে আপনার ঘুরে বেড়ানো আনন্দময় হবে। এমন দৃশ্য এখানে কোনো এক বিকালে আপনারও চোখে পড়বে। রবীন্দ্র সরোবরের আরেক আকর্ষণ আশপাশের সব খাবার-দাবার।

[৫] বাদাম থেকে শুরু করে কাবাব, চটপটি, ফুচকা, পুরি, সিঙ্গারা, ধোঁয়া ওড়ানো চা, কফি, ঠান্ডা শরবত অথবা আইসক্রিম। সবকিছুই এখানে মিলবে। এমন উন্মুক্ত জায়গাতে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। পাশেই অবস্থিত ঢাকা আর্ট সেন্টার। আর্ট সেন্টার লাগোয়া গ্রামীণ আবহের এক রেস্তোরাঁ অজো। সময়-সুযোগ হলে লেকে ঘুরে উপভোগ করে যেতে পারেন নিরিবিলি কিছুটা সময়।বিডি প্রতিদিন, প্রিয়ডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত