শিরোনাম
◈ বার্সার কাছে হারের পর জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করল রিয়াল মাদ্রিদ ◈ অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ: ৫ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করল মেটা ◈ বাংলাদেশি শনাক্তে এআই টুল তৈরি করছে ভারত ◈ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ ঢাকা–করাচি ফ্লাইটের সব টিকিট ◈ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশকে বড় দুঃসংবাদ দিল অস্ট্রেলিয়া ◈ নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন বিদ্রোহীরা, স্বস্তিতে বিএনপি-জোট ◈ মহাকাশ অভিযানে বড় ধাক্কা, যান্ত্রিক ত্রুটিতে ১৬ স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ হারাল ভারত ◈ ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’—মুসাব্বির হত্যা মামলায় বিস্মিত আদালত ◈ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া নিয়ে বাক-বিতন্ডা, সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত ◈ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২০, ০২:১৫ রাত
আপডেট : ০৬ জুলাই, ২০২০, ০২:১৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মেজর খোশরোজ সামাদ: কোভিড-১৯ যুদ্ধে শহীদ জননীর সন্তানের গীতিকা

মেজর খোশরোজ সামাদ: [১] সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা যেদিন মায়ের সম্ভাব্য পরিণতির কথা জানিয়ে দিলেন সেদিন আমার যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলো। যে করেই হোক, মাকে বাঁচাতে হবে। আইসিইউতে আমি মায়ের পাশে দাঁড়াই। টুকটাক কথা বলি। নিয়মিত ওষুধ-পথ্য খাচ্ছেন কিনা জিজ্ঞেস করি। মা আমাকে মনে করিয়ে দেন, আমি সুপারম্যান নই। এই ছোঁয়াচে ভয়াল ব্যাধি আমারও হতে পারে। আমি কী করে চলে যাই? মা, আমি যে তোমারই স্তন্যপান করা অর্বাচীন এক সন্তান।

[২] ‘আজ কেমন আছো, মা?’ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে করোনা আক্রান্ত আমার বাবা আর বোনের আরোগ্য সম্ভাবনার কথা তিনি উৎকণ্ঠার সাথে জানতে চান। মায়ের রোগাক্লান্ত মুখচ্ছবিতে করোনা বিধ্বস্ত এক পরিবারের দুমড়ে মুচড়ে ফেলা মানচিত্র দেখতে পাই।

[৩] বিরলপ্রজ ওষুধ দরকার। আমি উন্মত্তের মতো মধ্যরাতে ঢাকা চষে ফিরি। প্লাজমা দরকার, আমি উন্মাদ হয়ে যাই। যে করেই হোক প্লাজমা যোগাড় করতেই হবে। নিজে চিকিৎসক হিসেবে সবকিছু বুঝলেও মায়ের চিকিৎসকদের রাতবিরেতে বারবার অধীর হয়ে ফোন করি।

[৪] যখন মায়ের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হলো তখন আমি মায়ের পাশে। গ্রাফগুলো আর উঠছে না, নামছে না। ফ্ল্যাট। Our sweetest songs are those that tell of saddest thaught| আমি গ্রাফে মধুরতম সংগীতের স্বরলিপির আঁকিবুঁকি দেখতে পাই।

[৫] মাকে মরচুয়ারিতে রাখা হলো। মা তো কখনো একা ঘরে থাকেননি। উনি তো ভয় পাবেন। আচ্ছা, ওরা কি মায়ের সাথে আমাকে থাকতে দেবে?

[৬] মাকে সিএমএইচ মসজিদে জানাজা পড়ানো হলো। এই তো অল্প কদিন আগেই মায়ের সাথে সারাদিন কাটালাম। এক বিছানায় ঘুমালাম। তার শরীরে কেমন মা মা গন্ধ। তিনি খাটিয়াতে শুয়ে আছেন। আমি দূর থেকেও সেই মা মা সুবাসিত গন্ধ আবার পেলাম।

[৭] মাকে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হলো। আমার শরীরে তখন হাজার হাতির শক্তি। মাটির জমিনে মাকে নিজ হাতে শুইয়ে দিলাম। কবর মাটি দিয়ে ঢেকে দিচ্ছি। কে বলেছে, এটা কবর? এখানে মা ঘুমাবেন। ওরা কারা? যারা মায়ের লাশ রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়?

[৮] শিশুকালে মা গল্প বলে আমায় ঘুম পাড়াতেন। আজ আমি মাকে যুদ্ধজয়ের গল্প বলবো। মা তুমি জীবনের অনেক সময়ই জায়নামাজে কাটিয়েছো। জানো মা, মহামারীর মৃত্যু সেতো শহীদের মৃত্যু। আমি সেই শহীদ জননীর নাড়ি ছেঁড়া ধন। আমার কীসের ভয়? ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়