প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রণোদনার গড়িমসিতে ব্যাংকে বাড়তি করারোপের দাবি

মো তৌহিদ এলাহী : [২] করোনায় বিশ্ব জুড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতি । এ অবস্থায় সরকার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেয় ।যার আকার ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও অঙ্কটি বেশি নয়।এ পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৭৫টি আবেদন বিবেচনা করা হয়েছে।

অর্থনীতির সাথে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটাতে প্রণোদনার সাথে ব্যাংকগুলোকে কিছু সুবিধা দেয় সরকার। এছাড়াও এক অঙ্কে ব্যাংক ঋণের সুদ হার নামিয়ে আনার ঘোষণা বাস্তবায়ন করার কথা বলে আগেই নানা সুবিধা নিয়ে রেখেছিল ব্যাংকিং খাত। তবে সরকারের কাছ থেকে সব সুবিধা গ্রহণ করলেও ঠিকমতো কাজ করছে না ব্যাংকগুলো। প্রণোদনা পাচ্ছে না সবাই। যার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতি।

[৩] গত শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমও এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে আনেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট নিয়ে আসলে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।

প্রণোদনার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো প্রণোদনার অর্থ সঠিকভাবে ছাড় করছে না। অথচ নানা সুবিধা নিয়েছে। তাই যেসব ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করবে না সেসব ব্যাংকে রাখা সরকারের আমানত প্রত্যাহার করা উচিত ও বাড়তি করারোপ করা উচিত। যারা বাস্তবায়ন করবে সেসব ব্যাংকে সরকারি আমানত বাড়ানো এবং কর ছাড়ের প্রস্তাব করেন তিনি।

[৪] অর্থনীতি টিকিয়ে রাখাই যখন চ্যালেঞ্জ, তখন নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হলো। প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের বড় টার্গেট স্থির করা হলো। কিন্তু ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, এমনকি বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, বাজেটের কিছু পদক্ষেপের কারণে রাজস্ব কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বাড়বে। তাদের দাবি, রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তসহ শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা আবশ্যক। মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ভ্যাট-ট্যাক্স ইস্যুতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা এটাও বলছেন, বাড়তি সুদ নেওয়া, জরিমানা করাসহ প্রণোদনার অর্থ ছাড় নিয়ে ব্যাংকগুলো গড়িমসি করছে। কাজেই ব্যাংকগুলোর ওপর বাড়তি করারোপ যুক্তিসঙ্গত হবে। সরকার কঠোর অবস্থানে না গেলে ব্যাংকগুলো একের পর এক অজুহাত দেখিয়ে যাবে। যারা বাস্তবায়ন করবে তাদের বরং কিছু সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

[৫] করোনার বিদ্যমান অভিঘাতে প্রণোদনার পাশাপাশি রাজস্ব খাতে সংস্কারের দাবিও ব্যবসায়ীদের। প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট কর্মকর্তাদের বাড়তি ক্ষমতা প্রদানসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের সমালোচনা করে ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, এমনিতেই ব্যবসাবাণিজ্যের ত্রিশঙ্কু অবস্থা। এ অবস্থায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের এমন ক্ষমতা তাদের স্বেচ্ছাচারী করে তুলবে। উেস কর, আগাম কর, ভ্যাটের আপিল করতে গেলে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং সহকারী কমিশনারের নিচের কর্মকর্তাদেরও ঢালাও ক্ষমতা দিয়ে দেওয়ায় মানুষ বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়ে নিরুত্সাহিত হবে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী কেউ রাজস্ব কিংবা ভ্যাট ইস্যুতে কোনো বিরোধে আপিলে যেতে হলে তাকে তর্কিত অর্থের প্রায় অর্ধেক আগে জমা দিতে হবে। আগেই এত টাকা বন্দি হয়ে গেলে মানুষ আপিলে যেতে চাইবে না। কর্মকর্তাদের এত বেশি ক্ষমতায় দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি বাড়বে। ব্যবসায়ীদের আস্থা নষ্ট হবে।

[৬] এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমও বলেন, ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত বেশকিছু সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ে অহেতুক জটিলতা তৈরি হবে। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত স্বছতা ব্যাহত করবে এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে। অর্থবিলে এনবিআরের পরিবর্তনের বিষয়গুলো সহজসাধ্যভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি কমা বুঝতে হলে দশটা বই দেখতে হয়। এনবিআরের কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সহজ করার বদলে তারা বসে বসে ‘দুষ্টামি প্যাঁচ’ মারে, আমাদের বুঝতে সময় লাগে। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় যেসব কর্মকর্তা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পে যুক্তদের অনেকে চাকরিতেও রয়েছেন। আবার অনেকে অবসরে গিয়ে পরামর্শক হিসেবে রয়েছেন। ব্যর্থদের বাদ দিয়ে যোগ্য কর্মকর্তাদের এসব প্রকল্পে যুক্ত করতে হবে। তাতে রাষ্ট্রের সাশ্রয় হবে। ইতিমধ্যে এর পেছনে রাষ্ট্রের কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।

[৭] এদিকে, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিকল্প নেই। ব্যবসায়ী সূত্রগুলো রাজস্ব প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযানও দাবি করেছে। এবারের পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী-রাজস্ব বোর্ড একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সূত্রগুলো। সহনীয় এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোই যেন লক্ষ্য হয়। এমনিতেই রাজস্ব আদায়ে গতি নেই। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যে কোনো পদক্ষেপেই বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। ভ্যাট আদায় বিষয়ে একটা খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। এটার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ অন্যদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ভ্যাট আইনে ২০১২ অনুযায়ী ডিভিশনাল পর্যায় বা তার ওপরের লোকদের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল এখন তা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হচ্ছে। যা খুব খারাপ হবে বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, এতে ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রেই অযথা হয়রানির শিকার হবেন। আর তাতে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হবে। একটি দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাত তথা ব্যবসায়ীরা বড় ভূমিকা রাখেন। একটি আইনের মাধ্যমে যদি সে ভূমিকা রাখার কাজে বাধা সৃষ্টি হয় তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ বিষয়, এটি দুঃখজনক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত