প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিমান বাহিনী ও বিজিবির ১১৮৮ জন সদস্যের মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ বাতিল

আনিস তপন ও আব্দুল্লাহ মামুন  : [২] দুই বাহিনীর এক হাজার ১৮৮ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধার বিদ্যমান গেজেট আগামী ২/১ দিনের মধ্যে বাতিলের আদেশ জারি হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে এ তথ্য।

[২] যাদের সনদ বাতিল হয়েছে তার মধ্যে বিমান বাহিনীর ৪৭ জন এবং বিজিবির এক হাজার ১৩৪ জন সদস্য রয়েছেন।

[৩] জানাগেছে, বুধবার বিমান বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র এক হাজার ১৮৮ জন কর্মকর্তা ও সৈনিকের সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের নথি অনুমোদন করেছে সরকার।

[৪] এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিমান বাহিনী ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে ১৯৭১ সালের পরবর্তী সময়ে যেসব সদস্য বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন তাদের তালিকা চেয়ে পাঠায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।
চিঠিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে যেসব সদস্য বাহিনীতে যোগ দিয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সুবিধা নিচ্ছে তাদের তালিকা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

[৫] এরই ধারাবাহিকতায়, এসব সদস্যদের নাম, যোগদানের তারিখসহ আনুষাঙ্গিক প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এসব সদস্যের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করে জামুকা।

[৬] এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের ঊর্ধ্ববতন এই কর্মকর্তা বলেন, যাদের নাম বাতিল করা হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দুই বাহিনীর সদস্য ছিল না।

[৭] এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামুকার গত বছেরর ১০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের সুপারিশ অনুযায়ি তাদের সনদ বাতিল করা হয়েছে।

[৮] তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সময়ে এই দুই বাহিনীতে যোগ দিয়েছে এমন সদস্যের নামও তালিকায় রয়েছে। যে ৭৭ সালে বাহিনীতে ১৮ বছর বয়স হিসেবে যোগ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ১১ বছর ছিল। এখন তার কি বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া সম্ভব? অথচ তিনি বাহিনীর সদস্য হিসেবে এতদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সব সুযোগ নিয়েছেন এমন সদস্যদের নামও বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এমন নাম তালিকায় অনেককেই পাওয়া গেছে।

[৯] অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর মধ্যে কেউ যদি সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা থেকে থাকে সে তার প্রমাণাদিসহ জামুকাতে আবেদন করতে পারেন। যাচাই-বাছাই করে যদি সঠিক পাওয়া যায় তবে আবার তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত করা হবে। তবে বাহিনীর সদস্য হিসেবে নয়, বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হবেন।

[১০] উল্লেখ্য, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের পর যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন তারা সামরিক মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গণ্য হবেন না।

সর্বাধিক পঠিত