প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সাব্বিরের বাড়ি থেকে ময়লা নেবেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা!

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের বাড়ি থেকে ময়লা নিতে এসে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে তার বাড়ি থেকে আর ময়লা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা!

[৩]রোববার (৩১ মে) বিকেলে মারধরের ঘটনার পরপরই সাব্বিরের বাড়ির সামনে জড়ো হন শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী। সাব্বিরের অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তাকে এবং তার বাবাবে হুমকি দিয়ে গেছেন। সাব্বিরও সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) অবগত করেছেন।

[৪] জানা গেছে, বিকেলে ওই ঘটনার পরপরই পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঘোষণা দিয়েছেন, সাব্বির রহমান দুঃখ প্রকাশ না করা পর্যন্ত তার বাসার ময়লা নিতে যাবেন না তারা। এ বিষয়ে সাব্বিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, এ ক্রিকেটার বলেন, স্যরি বলাটা তো বড় বিষয় না। কিন্তু কথা কাটাকাটির পর তারা অন্তত ১০০ জন আমার বাসার সামনে এসে আমাকে থ্রেট দিয়ে গেল। আমার বাবাকেও থ্রেট দিয়েছে। দেশের মানুষের কাছে কি এটাই আমার প্রাপ্য?

[৫]সাব্বির জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম হাফিজ আক্তার এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম-উল-আযীমকে জানিয়েছেন। তারা সমাধান করে দিতে চেয়েছেন।

[৬]এদিকে, মারধরের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন সাব্বির রহমান। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটির বেশি কিছুই হয়নি। আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর গায়ে হাত-ই তুলিনি। কিন্তু আমার তো ‘শত্রুর’ অভাব নেই। তারা তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করছে, যেন আমার ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে।

[৭]সাব্বিরের বর্ণনা মতে, রোববার (৩১ মে) বিকেলে তিনি এবং তার স্ত্রী গাড়িতে চড়ে বাইরে থেকে আসেন। এসময় তার বাড়ির সামনে সিটি করপোরেশনের ময়লা নিয়ে যাওয়ার একটি ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। যার কারণে তিনি বাসায় গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারছিলেন না। দুই মিনিট ধরে হর্ন দেওয়ার পর আসেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাদশা। তখন তার সঙ্গে শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে দাবি সাব্বিরের।

[৮]সাব্বির রহমান বলেন, আমি দেখলাম ভ্যান রেখে বাদশা দূরে একজনের সঙ্গে গল্প করছে। দুই মিনিট হর্ন দেওয়ার পর সে আসে। তখনও গাড়ির কালো গ্লাসের কারণে সে আমাকে চিনতে পারেনি। হর্ন দিয়ে ডাকার কারণে সে বিড় বিড় করে কিছু একটা বলছিল আর চোখ রাঙাচ্ছিল।

[৯]গাড়ির গ্লাস নামিয়ে আমি বললাম, তুমি যে এভাবে ভ্যান বাড়ির সামনে রেখে দূরে গল্প করছ, তাতে তো আমি ঢুকতে পারছি না। সে বলল, দুই-এক মিনিটে কী আসে যায়! আমি বললাম, দুই মিনিটে মানুষের জীবন চলে যায়। গাড়িতে যদি কোনো পেসেন্ট বা বৃদ্ধ মানুষ থাকত, তাহলে কি আটকে থাকতাম? এরপর বাদশাই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখন আমি গাড়ি থেকে নামি এবং কথা কাটাকাটি হয়, যোগ করেন সাব্বির।

[১০]তিনি আরও বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাঝ রাস্তায় কাউকে কি মারধর করা এতই সহজ? আর বাদশা আমার পরিচিত। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করি। লকডাউন চলা অবস্থায় তাকে ডেকে টাকা দিয়েছি। কিন্তু তার কাছ থেকে এমন আচরণ আমি প্রত্যাশা করিনি।

[১১]মূলত ঘটনা কিছুই না, কিন্তু আমার শত্রুর অভাব নেই। তারা বিষয়টাকে বড় করার চেষ্টা করছে, যেন এক সময় সবাই বলে দোষ সাব্বিরেরই। কিন্তু আগে যা করেছি, ছোট ছিলাম। এখন কেন এসব করতে যাব? গরিব মানুষকে মেরে লাভ আছে?

[১২]রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ‘ম্যাও’ বলে ডাকার কারণে এক কিশোরকে মারধর করেছিলেন সাব্বির রহমান। এ কারণে ছয় মাসের জন্য জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি। তারপর ফিরেছেন জাতীয় দলে। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হলো।

সূত্র-বার্তা24

সর্বাধিক পঠিত