প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরকারের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী এবং বিভ্রান্তিকর : জ.ই. মামুন

রায়হান রাজীব : [২] এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান আরো বলেন, নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের চেয়ে বড় বিষয় সরকার বা প্রশাসনের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং তা বাস্তবায়নে নাগরিকদের বাধ্য করা, প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করা। সরকার যে তা করছে না তাও নয়, কিন্তু এই সাধারণ ছুটি বা লকডাউনকালে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বাংলাট্রিবিউন।

[৩] এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমন্বয়হীনতা তো আছেই, একই মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সেই সমস্যা রয়েছে। সবশেষ উদাহরণ ২৮ মে জারি করা প্রথম প্রজ্ঞাপনের ২নং বিষয়ে বলা হয়, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। প্রতিটি জেলার প্রবেশ ও বহির্গমন পথে চেকপোস্টের ব্যবস্থা থাকবে। জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এ নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে চলাচল নিষেধাজ্ঞাকালে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। এতে এ কথাও বলা হয় যে নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৪] অন্যদিকে, একই প্রজ্ঞাপনের ১৩নং ধারায় বলা হয়, উক্ত সময়ে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে। তবে এ সময় সবাইকে মাস্ক পরতে হবে।

[৫] একই প্রজ্ঞাপনে যখন এমন দুটো পরস্পরবিরোধী ধারা থাকে তখন জনগণের বিভ্রান্ত হওয়া ছাড়া কী করার থাকে?

[৬] তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হলো, করোনা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষে সরকার ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলি এবং জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সময় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।

[৭] সরকারের এই তিনটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী এবং বিভ্রান্তিকর। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিক হিসেবে আমরা সরকারের কাছ থেকে সুচিন্তিত এবং সুসমন্বিত নীতি এবং নির্দেশনা আশা করি, এমন এলোমেলো সিদ্ধান্ত নয়।

[৮] মামুন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায় ঘরে থাকা এবং মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু মাসের পর মাস লাগাতার দেশকে লকডাউন করে রেখে মানুষকে তো না খাইয়েও মারা যাবে না। তাই একটা মধ্যবর্তী সমাধান হচ্ছে জীবনের চাহিদা, কাজ, উৎপাদন এবং ব্যয় সবকিছু কমিয়ে নিয়ে আসা। যুদ্ধের মধ্যে যেমন বিলাসিতা করা যায় না সে রকম এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতি ভেবে সবকিছু সীমিত করা।

সর্বশেষ