প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হাইড্রোক্লোরোকুইনের ওপর চালানো কিছু জরিপে দেখা গেছে এর ব্যবহারে হৃদপিণ্ডের সমস্যা দেখা দিতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : [২] ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এমন ওষুধ,যেমন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইন, এগুলোকে বেশ কিছু দিন ধরেই করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রতিষেধক বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহ বেশ কিছু দেশের নেতা এর পক্ষে কথা বলেছেন। মি. ট্রাম্প তো হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু এগুলো আসলে কতটা নিরাপদ এবং কার্যকর তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

[৩] তাহলে কথা উঠছে, এই ওষুধগুলো সম্পর্কে আমরা আসলে কতটুকু জানি? কেন এই ওষুধগুলো নিয়ে এত আলোচনা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মে মাসের প্রথম দিকেই বলেন, তিনি কোভিড ১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খেয়েছেন, তবে পরে তিনি তা খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

[৪] মি. ট্রাম্প হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন হোয়াইট হাউসে তার ব্রিফিংগুলোতে। এপ্রিল মাসে তিনি বলেন, “এটা খেয়ে দেখুন। আপনার তো হারানোর কিছু নেই।“ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বোলসোনারো এক ভিডিওতে দাবি করেন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সব জায়গায় কাজ করছে।

[৫] পরে অবশ্য ফেসবুক ওই ভিডিওটি মুছে দেয়, কারণ তা তাদের ভুয়া তথ্য সম্পর্কিত গাইডলাইনের লঙ্ঘন। তবে মি. ট্রাম্পের মন্তব্যের পর খবর বেরোয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশনে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইনের উপস্থিতি বেড়ে গেছে।এসব কারণে এই ওষুধ দুটি যে প্রচার পায়-তাতে বিশ্বব্যাপী এর চাহিদাও বেড়ে যায়। তথ্য বিবিসি বাংলা,

[৬] তাহলে এ দুটি ওষুধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কেন? বৈজ্ঞানিক মহলে এসব ওষুধ দিয়ে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার ব্যাপারে উদ্বেগ ক্রমশ:ই বাড়ছে। এটা ঠিক যে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার জন্য নিরাপদ। তা ছাড়া লুপাস বা আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্যও এটা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু কোভিড -১৯ চিকিৎসায় এর প্রয়োগ নিয়ে কোন ক্লিনিক্যাল জরিপ চালানো হয়নি।

[৭] কোন পরীক্ষাতে এমন সুপারিশও করা হয় নি যে কোভিড সারাতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা যেতে পারে। মাত্র কয়েকদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশ কয়েকটি জরিপ সামায়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর কারণ হলো হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ওপর চালানো কিছু জরিপে দেখা গেছে এর ব্যবহারের ফলে হৃদপিণ্ডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খেয়ে কোভিড-১৯ সারানোর চেষ্টা করার বিরুদ্ধে এর আগে সতর্কবাণীও দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর পর একটি জরিপে আভাস দেয়া হয় যে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বরং কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

[৮] এর পরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ নিয়ে জরিপ বন্ধ করে দেবার কথা ঘোষণা করে। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল করোনাভাইরাস রোগীদের মেডিক্যাল রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখতে পেয়েছে যে এই দুটি ম্যালেরিয়ার ওষুধ খেয়ে কোন সুফল পাওয়া যায় না বরং এতে হৃদপিণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ দুটি ওষুধ যে কোভিড-১৯এর বিরুদ্ধে কার্যকর এমন কোন প্রমাণ আছে কি?

[৯] একাধিক দেশে করোনাভাইরাস-জনিত অসুস্থতা রোধ করতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইন ব্যবহারের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এসব জরিপের অংশ হিসেবে যারা ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্য কর্মী-অর্থাৎ যারা সরাসরি সংক্রমিত রোগীদের সংস্পর্শে আসেন-তারা এ ওষুধ দুটি ‘নিরোধক’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় একটি জরিপ শুরু হয়েছে যাতে ৪০ হাজার লোককে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, ক্লোরোকুইন অথবা একটি প্লাসিবো দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে যে কোভিড-১৯ ভাইরাস ঠেকাতে এ দুটি ওষুধ কার্যকর কিনা।

[১০] যে রোগীরা ইতোমধ্যেই কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এ দুটি ওষুধ কোন ভাবে সহায়ক কি না তা নিয়েও কয়েকটি পরীক্ষা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্লোরোকুইন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং এ্যাজিথ্রোমাইসিন নামে একটি এ্যান্টিবায়োটিক এই তিনটি ওষুধ মিলিয়ে ব্যবহার করে কোভিড রোগীর চিকিৎসা করা যায় কি না – তার একাধিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

[১১] নাইজেরিয়া বলেছে তারা এ দুই ওষুধের যে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পরিকল্পনা করেছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা তা চালিয়ে যাবে। নাইজেরিয়ার ওষুধ প্রশাসন বলেছে, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে না তবে তারা স্থানীয় জনগণের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করতে চায়। মরক্কো, আলজেরিয়া ও সেনেগাল তাদের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালিয়ে যাবার কথা বলেছে। শুধু কেনিয়া বলেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শের পর তারা তাদের জরিপগুলো স্থগিত করছে। তথ্য বিবিসি।

সর্বাধিক পঠিত