প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]‘এ প্লাস গুরু’ পরিচয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফল পরিবর্তন চক্রের সদস্যকে আটক করেছে সিআইডি

সুজন কৈরী : [২] এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ প্লাস’ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের সদস্য মনিরুজ্জামানকে আটক করেছে সিআইডর সাইবার পুলিশ সেন্টার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি ‘এ প্লাস গুরু’ হাসান মাহমুদ নামে ভুয়া আইডি চালাতেন। ওই আইডি দিয়েই প্রতারণা করতেন।

[৩] মনিরুজ্জামান ঝিনাইদহ থেকে ডিপ্লোমা ও ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাশ করেছেন। গ্রামের বাড়িতে থেকে প্রতারণাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

[৪] শুক্রবার দুপুরে সিআইডির পশ্চিম বিভাগের (ক্রাইম) ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ থেকে মনিরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে।

[৫] সিআইডি জানায়, ফেসবুকে এসএসসি পরীক্ষা খারাপ হলেও পাশ করিয়ে দেয়াসহ ফলাফল আপগ্রেড করা ও ‘এ প্লাস’ পাইয়ে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পোস্ট দিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন মনিরুজ্জামান। পোস্টে তিনি লিখতেন- ‘আপনার কি পরীক্ষা খারাপ হয়েছে? আপনি কি ফলাফল আপগ্রেড করে এ প্লাস প্রত্যাশী? তাহলে আজই যোগাযোগ করুন এ প্লাস গুরুর সাথে। কাজ হবে, শতভাগ গ্যারান্টি’।

[৬] এরকম মেসেজ দিয়ে তিনি প্রতারণার জাল বিছিয়েছিলেন। আগ্রহীদের তার ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলতেন। যোগাযোগ করলে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন। অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়েও নিয়েছেন। টাকা নেয়ার পর যোগাযোগকারীদের ফেসবুক আইডি ব্লক করে দিয়ে নতুন আইডি দিয়ে প্রতারণা চালাতেন।

[৭] আটক মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, নিজেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন ফলাফল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশকে সামনে রেখে ফেসবুকে ফাঁদ পাতেন মনিরুজ্জামান।

[৮] সিআইডির কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর আইডিটি শনাক্ত করা হয়। পরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপার গোলক নগরের নিজ বাসা থেকে মনিরুজ্জামানকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

[৯] এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এছাড়া এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তানের প্রতি তাদের খেয়াল রাখতে হবে। সন্তান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কি করছে, সে নজরদারিও অভিভাবকদের করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত