শিরোনাম
◈ আসামে বুলডোজার অভিযান : মসজিদসহ গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শত শত মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ◈ দালাল ছাড়াই বিনা খরচে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ◈ ক্রিকেট থে‌কে অ‌স্ট্রেলিয়ান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বিদায় ◈ দ্বিতীয় পদ্মা, যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ শত্রুর বস্তুগত ও অবস্তুগত সব সম্পদ ইরা‌নের নিশানায়: মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি  ◈ ঢাকার চালে ২৭% ও চিড়ায় ৫৫% ক্যান্সার সৃষ্টিকারী আফলাটক্সিন, গবেষণায় মিলল উদ্বেগজনক তথ্য ◈ আগামী চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর গুজব, কমতে পারে সরবরাহ: পেট্রোবাংলা ◈ মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটাল কয়েকজন, গ্রেপ্তার ৫ ◈ পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: মিরপুর-গাজীপুরে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, খুলেছে মেট্রো স্টেশন

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২০, ০৬:৪৫ সকাল
আপডেট : ২৫ মে, ২০২০, ০৬:৪৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] দৈনিক আমাদের সময়.কম এ প্রকাশিত সংবাদের পর কোটালীপাড়ার সেই নুপুরের বাড়ী গেলেন দুই জেলার প্রশাসন

আসাদুজ্জামান বাবুল, মাহাবুব সুলতান: [২] প্রধানমন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ার ছিকটি বাড়ী গ্রামের দরিদ্র নুপুরের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো  খোলা চিঠি,“হয় চাকুরী না হয় আত্নহত্যা”  শিরোনামে দৈনিক আমাদের সময় .কম”এ  প্রকাশিত সংবাদের পরদিন গতকাল ২৪শে মে রোববার আনুমানিক  বিকাল ৪ টার দিকে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরের প্রশাসন ছুটে যান নুপুরের বাড়ীতে।

[৩] তারা জেনেছেন নুপুরের জীবন সংগ্রামের ঘটনাসহ পারিবারিক অবস্থা। বেশ কিছুক্ষন কথা বলার পর নুপুরের সিভিও নিয়ে গেছেন তারা। যাওয়ার আগে তারা বলে গেছেন,সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আশা করি আপনার জব হবে। রোববার রাতে আমাদের এ প্রতিনিধিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নুপুর।

[৪] দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় নুপুর কান্না ভরা চোখে দৈনিক আমাদের সময়.কমসহ দেশের বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এরআগেও একটি পত্রিকা ও একটি অনলাইন পত্রিকায় তার এই খোলা চিঠি প্রকাশিত হলেও এ ভাবে আবেগ দিযে আমাকে নিয়ে কেউ লেখেননি। ২৩ মে দৈনিক আমাদের সময় .কম ও নিউজ একাত্তর ২৪.কম এ প্রকাশিত সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

[৫] এরপর রোববার আনুমানিক বিকেল ৪ টার দিকে একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরের র‌্যাব-পুলিশ সদস্যরা তাদের বাড়ীতে যায়। আমার বাড়ীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোক আসায় আমি খুব খুশি হয়েছি। আমি আসাবাদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্যতা অনুযায়ী আমাকে একটি সরকারী চাকুরী দিবেন।

[৬] উল্লেখ থাকে যে, গত ২৩ মে শনিবার দৈনিক আমাদের সময়.কম এ     প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরিদ্র নুপুরের খোলা চিঠি,“হয় চাকুরী না হয় আত্নহত্যা”শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। নুপুরের খোলা চিঠিটি হূবুহ তুলে ধরা হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমার নমস্কার নিবেন।

[৭] অত্যন্ত দুঃখ-কষ্ট ও হাতাশা নিয়ে আপনার কাছে একটি খোলা চিঠি লিখছি। আপনার নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ার ছিকটি বাড়ি গ্রামের এক কৃষক পরিবারের সন্তান আমি। বাবা-কালিদাস বিশ্বাস ও মা-মলিনা বিশ্বাস। দুই ভাইবোনের মধ্যে আমি বড়। ছোট বেলা থেকেই মানুষ নানান সপ্ন দেখে। ঠিক আমিও সপ্ন দেখেছিলাম বড় হয়ে লেখা পড়া শিখে রাজনীতি-সামাজিকতার পাশাপাশি একটি সরকারী চাকরি করবো। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বেশ কিছু দিন যাবত কিন্ত সরকারী কোন চাকুরী মিলছেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি একজন নারী। আমি যতোটুকু জানি নারীদের বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন আপনি। এমনকি সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়েও নারীদের স্থান করে দিয়েছেন।

[৮] আমার এসএসসিতে জিপিএ-৩.৯৪ ও এইচএসসিতে ৩.২০। বাংলায় অনার্স-৩.১৩ ও মাস্টার্স-এ ৩.২২ জিপিএ পেয়েছি। কিন্তু কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ফল মিলে না। আমার চাকরির বয়সও প্রায় শেষ। বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের কষ্ট আর আমার সহ্য হয় না। ছোটবেলা থেকেই দুঃখ-কষ্ট ও অর্থনৈতিক অনটনের মধ্য দিয়েও লেখা-পড়া ছাড়িনি। এক বেলা বা আধ পেটা খেয়ে স্কুল-কলেজে গিয়েছি। মা-বাবার প্রেরণা ও আমার অদম্য ইচ্ছা শক্তি থাকায় অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য এ পর্যন্ত অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন সহ লিখিত পরীক্ষাও দিয়েছি।

[৯] এর মধ্যে অন্তত ১৫টিরও বেশি মৌখিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেছি। পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। কিন্তু আমার ভাগ্যে চাকুরী জোটেনি।  তাই মাঝে মধ্যে নিজেকে সামলে রাখতেও কষ্ট হয়। হাতাশায় ভুগি। এমনকি আত্মহত্যার মতো বিষয়টিও মাথায় আসে। কিন্তু মা-বাবা ও ছোট ভাইয়ের কথা চিন্তা করে সব ভুলে যাই। কিন্তু এখন আর কোনো উপায় দেখছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার ও আমার গরীব পরিবারের কথা বিবেচনা করে অন্তত্য পক্ষে একটা চাকরির ব্যবস্থা করুন, প্লিজ। না হলে আমার পরিবারটি  টিকবে না, ধুঁকে ধুকে মরবে। আপনার সদয় দৃষ্টিই পারে একটি অসহায় পরিারের দুঃখ দিনের পরি সমাপ্তি ঘটাতে। অন্যথায় পরিবারের জন্য শেষ পর্যন্ত আমাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

 

 

 

  • সর্বশেষ