ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের ডাকা ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। রোববার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা সড়কের একটি মাঠে আহব্বান করা ওই ইফতার অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায় । একই মাঠে দুটি পক্ষ ইফতার মাহফিল ডাকলেও শুধুমাত্র সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পক্ষই ওই মাঠে ছিল। এনিয়ে আইনশৃংখলা অবনতির আশংকায় সংঘাত এড়াতে রোববার সকাল ৮ট থেকে ওই মাঠে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ, র্যাব ও যৌথবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। শেষ অবধি বেলা পৌনে তিনটার দিকে প্রশাসনের অনুরোধে ফিরোজ পক্ষ মাঠ ত্যাগ করে ইফতার সামগ্রী বিভিন্ন এতিমখানাতে বিতরন করেন। পরে সন্ধ্যায় তারা ওই রোডে অস্থায়ী অফিসে নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার করেন।
জানা গেছে, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ রোববার বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা সড়কের একটি মাঠে ইফতার মাহফিল ডাকেন। তিনি প্রশাষন ও মাঠের জমি মালিকের নিকট থেকে মৌখিক অনুমতিও নেন। কিন্তু একদিন আগে একই স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের পক্ষে স্থানীয় নেতা জালাল উদ্দিনও ইফতার মাহফিল আয়োজনে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। একই স্থানে দুই পক্ষের ইফতার আয়োজন উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুবির কুমার দাস ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই মাঠে ও আশপাশ এলাকায় জনসমাগম বা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই মাঠে ও সড়কে পুলিশের কড়া নজরদারি বসানো হয়েছে সেখানে। জেলা থেকে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সহ যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও যোগ করেন তিনি।
ইফতার মাহফিলের জন্য নির্ধারিত মাঠের জমির মালিক শওকত হোসেন বলেন, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার কাছ থেকে আগেই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছেন। তবে রাশেদ খানের পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
১৪৪ ধারা জারি বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ নিশ্চিত করে বলেন, দুই পক্ষ একই মাঠে একই সময়ে ডাকা ইফতার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের শংকা দেখা দেয়। এজন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি জনগণকে অবহিত করাতে শহরে মাইকিং বের করা হয়েছে। তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও একই স্থানে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের ডাকা ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে কাপ-পিরিচ’ প্রতীক নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন করেন। তবে নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
তার ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারার বিষয়ে ফিরোজ বলেন, তিনি শহিদ জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের দল করেন। একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত ভাবেই তার ইফতার মাহফিল বন্ধ করতে এ নোংরামী করছে। এমন অবস্থায় মাহফিল বন্ধ ঘোষনা করবেন কি না উত্তরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন বলে জানান তিনি।