প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের দ্বন্দ্বে করোনা চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] সরকারি হাসপাতালগুলোয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারে সরবরাহ করা (আউটসোর্সিং) কর্মীদের নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ এখন চরমে। দুই পক্ষের মধ্যকার দ্বন্দ্বে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালগুলোর সেবামান। এমনকি বিষয়টি কর্মবিরতির দিকে গড়ানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

[৩] জানা যায়, সরকারি হাসপাতালগুলোর আউটসোর্সড কর্মীদের নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল সরকারি কর্মচারীদের মাঝে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মীরা সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

[৪] চলতি মাসে টঙ্গীর শহীদ আহ্সান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স আউটসোর্সিং কর্মীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে টঙ্গী থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহেই নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এ নিয়ে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

[৫] শহীদ আহ্সান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক খাদিজা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করে বলা হয়, গত ১৬ মে বিকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করার সময় সিনিয়র স্টাফ নার্স মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় আউটসোর্সিং কর্মী তৌহিদুল ইসলাম হৃদয়ের। কাজ শেষে বের হওয়ার সময় মশিউরকে তুলে নিয়ে মারধর করেন হৃদয়। পাশাপাশি তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছে নার্সদের সংগঠনগুলো। অন্যথায় কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

[৬] নার্সদের সংগঠন সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, করোনা মহামারীতে নার্সরা যখন রোগীর সেবায় নিয়োজিত, তখন আউটসোর্সিং কর্মীদের হাতে একজন নার্সিং কর্মকর্তার ওপর শারীরিক নির্যাতন একটি লজ্জাজনক ঘটনা। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ও মদদদাতা, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

[৭] নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি আমাকে জানানোর পর পরই এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৭] স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মূলত হাসপাতালের নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করতে এবং সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে আউটসোর্সড কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ বন্ধের কারণ হচ্ছে তারা কাজ না করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় না। কারণ তাদের চাকরি বদলিযোগ্য নয়। এছাড়াও নানা অভিযোগ থাকায় তাদের নিষ্ক্রিয় করতে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ শুরু হয়। তবে এতে করে সেবার মান বাড়ার বদলে হয়রানি বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বণিকবার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত