প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হোসেনপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে পাকা ধান কেটে নিলো প্রতিপক্ষ; ভুক্তভোগী কৃষকের আহাজারি 

আশরাফ আহমেদ, হোসেনপুর প্রতিনিধি :  [২] ভয়াবহ করোনা দুর্যোগকালে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় ক্ষেতের ধানগুলোই আশা দিচ্ছিল সহায় সম্বলহীন কৃষক রুস্তম আলীর। কিন্তু পূর্ব  বিরোধের জেরে তার সব ধান জোর করে কেটে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। খেতের ফসল হারিয়ে একেবারে দিশাহারা তিনি।

[৩] ঘটনাটি ঘটেছে , কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সিদলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া গ্রামে। ঘটনার প্রতিকার চাইতে থানাও যেতে সাহস পাচ্ছেন না রুস্তম আলী। এলাকার প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে তাঁকে।

[৪] স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ত্রিশ শতাংশ জমি নিয়ে রুস্তুম আলীর সাথে একই গ্রামের তারু মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। তবে ধান চাষের সময় বাধাও আসেনি প্রতিপক্ষের তরফ থেকে। তিনি ধারকর্জ করে এই জমিতে এবার বোরো ধান চাষ করেছিলেন। জোর করে ধান কাটা কৃষক  রুস্তুম আলীর বাবা বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায় জোর করেই জমির সব ধান কেটে নিয়ে যায় তারু মিয়া ও তার লোকজন।

[৫] ভুক্তভোগী রুস্তুম আলী জানান, এ জমিটুকু তার পৈত্রিক সম্পত্তি। গত ৬০ বছর ধরে  তার বাবা-চাচারা এটি ভোগদখল করে আসছে। কিছুদিন আগে তারু মিয়া এ জায়গার মালিকানা দাবি করলে স্থানীয়ভাবে একটি শালিস হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম নুরু মিয়া উপস্থিতিতে এ সালিশে তারু মিয়া জমির কাগজপত্র দেখাতে না পারায় রুস্তুম আলীকে ভোগদখলের সিদ্ধান্ত দেয়।

[৬] সিদলা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষক যেন তার ধান ফিরে পায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।

[৭] এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ তারু মিয়ার ছেলে নাঈম ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের জমির দখল না ছাড়ায় আমরা আমাদের জমির ধান কেটে নিয়ে এসেছি।’

[৮] উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম নুরু মিয়া বলেন, গত কিছু দিন আগে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হয়েছিল। করোনার সময় এভাবে অন্যের ধান কেটে নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি।

[৯] হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।সম্পাদনা: ইস্রাফিল হাওলাদার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত