প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাভাইরাস : বাচ্চাদের দেহে নতুন উপসর্গ

শেরেনি ফেরদৌস : চলতি সপ্তাহেই কানাডিয়ান পেডিয়াট্রিক সারভিল্যান্স প্রোগ্রাম (সিপিএসপি) চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্ক বার্তা জারি করেছে। সেই বার্তায় শিশু-কিশোরদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের হাতে-পায়ে বিশেষ করে চামড়ায় কোনো ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিনা সেদিকে তীক্ষè নজর রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিপিএসপি হচ্ছে কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তদারকি কর্মসূচি। শিশু-কিশোরদের মধ্যে নতুন ধরনের কিংবা জরুরি কোনো রোগের উপসর্গ দেখা দিলে সেগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব এই সংস্থার। শিশু-কিশোরদের চামড়ার পরিবর্তনের দিকে তাদের নজর পড়লো কেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এটিও একটি উপসর্গ বলে তারা মনে করছেন। সবাই জানি বাচ্চারা বড়দের তুলনায় করোনায় কম আক্রান্ত হয়। কিন্তু করোনার উপসর্গ বাচ্চাদের শরীরে কম দেখা দিলেও বাচ্চারা করোনার বাহক হতে পারে সহজেই। শিশুদের করোনার বাহক হওয়ার এ সম্ভাবনাটি সম্প্রতি কানাডার চিকিৎসালয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে তীব্রভাবে। করোনা বিস্তারের এই সময়ে সবাই যখন ব্যস্ত বয়স্ক এবং অসুস্থদের জীবন বাঁচাতে, তেমন সময় শিশুদের শরীরেও নতুন আবিষ্কৃত কিছু পরিবর্তন শিশুবিষয়ক ডাক্তারদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
একেবারেই সম্প্রতি অনেক শিশুর পায়ের আঙুলের ত্বকে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগেরই পায়ের আঙুলের ডগা লালচে অথবা বেগুনি রঙের হয়ে যাওয়া। সেখানে ছোট ছোট ফোস্কামতোও দেখা দিচ্ছে। আবার কারও কারও হাতের আঙুলেও দেখা গেছে এটি। কারও কারও ক্ষেত্রে শুধু রংটাই পরিবর্তিত হয়, আবার কারও কারও বেলায় জায়গাটা গরম হয়, ব্যথা থাকে। পাশাপাশি কেউ মৃদু শাসকষ্টে ভুগতে পারে। এছাড়া শিশুটির হয়তো আর অন্য কোনোই উপসর্গ দেখা দিতে নাও পারে। শিশুদের একটি বড় অংশেরই কফ অথবা জ্বর নাও থাকতে পারে। দেখা যায়, দুসপ্তাহ পর চামড়ার এই ব্যাপারটা আপনাআপনি সেরে যায়। কানাডার চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। বাচ্চাদের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত খ্যাতিমান হাসপাতাল হচ্ছে টরন্টোর সিক কিডস হাসপাতাল। বাবা-মায়ের নির্ভরতার স্থানও এটি। সিক কিডস হাসপাতালের শিশুচর্ম বিশেষজ্ঞ এবং ডাক্তার এলেনা পোপ বাচ্চাদের নতুন উপসর্গের বিষয়টি মিডিয়ার নজরে আনেন। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা শিশুদের ভেতর চামড়ায় নতুন এই উপসর্গ দেখতে পাচ্ছি। আগে বছরে গড়ে ৫টি শিশু এ রকম পাওয়া যেতো। এখন কয়েক সপ্তাহে প্রচুর বাচ্চা আসছে এ রকম উপসর্গ নিয়ে। দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ভেতরে এই লাল হওয়া ফোস্কাপড়া অংশ বাড়তে থাকে, তারপর আপনাআপনি কমে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই শিশুদের অনেকেই করোনা জীবাণুর বাহক (ক্যারিয়ার) হতে পারে। তবে তাদের করোনায় আক্রান্ত রোগী হিসেবে ভাবা হচ্ছে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেহেতু তারা রোগী নয়, তাই পিতা-মাতা ও আশপাশের মানুষ বুঝে উঠতে পারার আগেই আক্রান্ত হতে পারেন। কানাডার চিকিৎসকরা বাচ্চাদের চামড়ায় কোনো ধরনের পরিবর্তন দেখলেই করোনার সংক্রমণ ঘটেছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদেরও করোনা টেস্ট করানোর জন্য সুপারিশ করেছেন। করোনা টেস্টের আগ পর্যন্ত ‘কোভিড-আঙুল’ বলে একে শনাক্ত করা হচ্ছে। আর টেস্ট যদি পজেটিভ আসে তবে বলা হচ্ছে ‘কোভিড-রোগী’। তবে অতি অল্প সংখ্যক যেসব শিশু আক্রান্ত, তাদের বেলায় বড়দের মতো সব উপসর্গই বিদ্যমান থাকে। ইতোমধ্যেই কানাডায় যেসব শিশু ও কিশোর আক্রান্ত হয়েছে, তাদের নিয়ে নানা পর্যায়ের গবেষণা চলছে। কানাডিয়ান পেডিয়াট্রিক সোসাইটির স্বাস্থ্য বিষয়ক ডাইরেক্টর ডা. শার্লোট মুর হেপবার্ন বলেন, যদিও অতি অল্প সংখ্যক বাচ্চাদের শরীরে এই উপসর্গ দেখা গেছে, তারা অসুস্থ হোক বা না হোক, তবুও তাদের হাসপাতালেই পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত