প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের ছেলে আশরাফুল আবির বললেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে হয়তো কোনো বাজে একটা স্বপ্ন দেখলাম; আশা করি আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি ও সরকার আমাদের পাশে থাকবে

আমিরুল ইসলাম : ফেসবুক স্ট্যাটাসে আবির আরও বলেন, আমি ও আমার পরিবারের কাছে মনে হচ্ছে যে আমরা হয়তো কোনো বাজে স্বপ্ন দেখলাম। কিন্তু এইটা যে আসলেই বাস্তবেই হয়ে গেলো আমরা এখনো বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমার কাছে এখনো মনে হচ্ছে যেন একটা বাজে স্বপ্ন দেখে হয়তো ঘুমটা ভাঙলো। আমার বাবা একজন অত্যন্ত সৎ,নিষ্ঠাবান,পরিশ্রমী একজন ব্যক্তি ছিলেন। সারা জীবনে হয়তো তিনি নিজের কথা কখনো ভাবেননি। আমাদের জন্যই হয়তো সারাটা জীবন উৎসর্গ করে গেলেন। এই করোনা সংকটময় দিনেও তিনি ঝুঁকি নিয়েও প্রতিটা দিন অফিসে গেছেন বাসায় এসেছেন। আমি এই নিয়ে আমার বন্ধুদেরও বলেছিলাম যে আমরা খুব ভয়ে আছি। কারণ আমার আব্বু আর আম্মু দুজন চাকুরীজীবী পরিবারে এবং তারা প্রতিদিনই অফিসের গাড়ি দিয়েই অফিসে আসা-যাওয়া করেছেন।
বাবা ৩-৪ দিন ধরে কাশছিলেন, পরিমাণটা দিন দিন বেড়েই চলছিলো। আমার তখনই সন্দেহ হচ্ছিলো। আমি বাবাকে বললাম, আপনার করোনা হয়নি তো? তিনি হেসে বললেন, আরে ধুর, বেটা টন্সিলের ব্যথা, এইটা আগের থেকেই ছিলো, ওই রকম কিছু না। কারণ তিনি চাচ্ছিলেন বাসায় থেকেই ট্রিটমেন্ট নিয়ে সুস্থ হতে। কারণ করোনা পজেটিভ হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াবে। লজ্জার ভয়ে তিনি তখনও এইটা সাধারণভাবেই দেখছিলেন। আমিও ভাবলাম হয়তো সাধারণ জ্বর-কাশি, বাসায় ওষুধ ও গরম পানি খেলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবেন। আমি এই কয়দিন বাসায় সাধারণ ভাবেই কাটাচ্ছিলাম বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপেড করার জন্য অনেক কিছু শিখছিলাম। কিন্তু বাবার কাশি বেড়েই চলছিলো। আম্মুও জ্বর অনুভব করতে শুরু করলেন তার দুই দিন আগে। তখন আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আম্মুকে বললাম, বললো যে কোরোনার নমুনা দুই একদিনের মধ্যেই নিতে আসবে। কিন্তু বাবার কাশি বেড়েই চলছিলো। কাশির সাথে সাথে ফুসফুস মারাত্মকভাবে আক্রমণ করছিলো মনে হলো। হয়তো বাবার গলায় চুলকাচ্ছিলো। আমি এরপরের দিন একটু দেরিতে উঠলাম। দেখলাম আম্মু বাবাকে ভাতের ঝাউ রান্না করে খাওয়াচ্ছে। হঠাৎ দেখলাম তিনি জানি কেমন করছেন। মনে হচ্ছে অনেক কষ্ট হচ্ছে। মনে হলো শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। তিনি ওই মুহূর্তে এই লড়াইয়ের সাথে পেরে উঠতে পারেননি। আম্মুকে বললাম, বললো সকালে অ্যাম্বুলেন্স খবর দেওয়া হইসে। উত্তরার রিজেন্টে ব্যবস্থা করা হইসে। অ্যাম্বুলেন্স আসতেসে। আম্মু বললো, তোর কাছে কী ভাংতি টাকা আছে, আমাকে দে তো। আমার কাছে ৩৫০০ টাকা ছিলো, আমি পুরাটাই আম্মুকে দিয়ে দিলাম সাথে সাথে।
আমি ঘরে পড়ার জামা পরেই অ্যাম্বুলেন্সে উঠে গেলাম। কারণ আমার মনে হচ্ছিলো এমনিতেই দেরি হয় গেসে। আমি ভাবলাম হাসপাতালে হয়তো অনেকেই থাকবেন আব্বুর জন্য অফিসের লোক। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম, আমি আর আম্মু ছাড়া পরিচিত কেউ নেই। কারণ লকডাউন থাকার জন্য গাড়ি তেমন চলে না রাস্তায়। লক্ষণের বর্ণনা শুনে হয়তো কেউ আসতে সাহস করছিলেন না। এদিকে সাবান আঙ্কেল সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলো ওইখানে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টাই করেছিলেন আইসিউইতে রেখে অক্সিজেন দেওয়ার কিন্তু ডাক্তার বললেন, তার পালস নেই এবং ব্রেনও অক্সিজেন নিচ্ছে না। ডাইরেক্টলি বললেন না যে, বাবা আগেই মারা গেছেন। বললেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, দোয়া করেন যদি ব্রেইন হঠাৎ মিরাকেলভাবে কাজ করতে শুরু করে। রাত ১০ টার দিকে আম্মুকে উপরে ডাকলেন শেষবারের মতো দেখার জন্য। তখন আম্মু ফোনে কয়েকজনকে জানিয়ে দেন।
এছাড়া টেলিভিশন নিউজ স্ক্রলগুলাতেও অফিসিয়ালি আপডেট দিয়ে দেয় যে, বাবা আর নেই, মারা গেছেন। এখন বাবার করোনা টেস্ট হওয়ার আগেই মারা গেছেন, তাই এইটা অফিসিয়ালি বলা হয়নি। বলা হয়েছে যে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করেন। তার মতো ভালো, সৎ এবং নিষ্ঠাবান মানুষ খুব কমই আছে সমাজে। এছাড়া আমি চাই না এখন সবাই আমাদের ডিমোটিভেট বা ভয়ভীতি দেখাক। আমরা এমনিতেই অনেক কঠিন সময় পার করছি। আমরা সবাই সতর্কতা অবলম্বন করেই বাসায় আছি। বাসা বা এলাকা হয়তো লকডাউন হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে মনে করি সবাই আমাদের জন্য দোয়া করুক। আমার বন্ধুরা অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েছে আমার জন্য, আমাদের সামনের দিনগুলো নিয়ে। আশা করি পরিবার, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি ও সরকার আমাদের পাশে থাকবে। বাস্তবতা কঠিন হয়ে গেছে, তবুও বাস্তবতার সাথেই সব কিছু এখন এডজাস্ট করে নিতে হবে। সবাই ভালো থাকবেন এবং সচেতন হবেন। আপাতত আর কিছু লিখতে চাচ্ছি না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত