প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শ্রমিকদের মজুরির হিসেবে নতুন কৌশল

জাগরণ : [২] দেশের পোশাক শ্রমিকরা গত মার্চের বকেয়া বেতন না পেয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন৷ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এর মধ্যে সব তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেয়ার কথা৷

কোনও কোনও মালিক বেতন না দিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করছেন বলে অভিযোগ শ্রমিকদের৷

[৩] বিজিএমইএ অবশ্য দাবি করেছে, তাদের সদস্যভুক্ত কারখানায় কর্মরত ৭৮ ভাগ শ্রমিকই বেতন পেয়েছেন।

তাদের কথা, বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত মোট কারখানা দুই হাজার ২৭৪টি৷ আর এসব কারখানায় মোট শ্রমিক ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১৭ জন৷ কিন্তু শ্রমিক নেতারা বলছেন, বাস্তবে পোশাক কারখানা পাঁচ হাজার এবং শ্রমিক কমপক্ষে ৫০ লাখ৷

[৪] এই পরিস্থিতিতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে কমপক্ষে ৪০টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন৷ তারা কোভিড-১৯ এর পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষোভ করায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়৷ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা স্লোগান দেন, ‘পেটে মোদের ভাত নাই, করোনায় ভয় নাই৷’

[5]ঢাকার মিরপুরের ক্লেমুন গার্মেন্টস-এর অপারেটর রবিউল ইসলাম জানান, আজ (বুধবার) আমাদের বেতনের তারিখ ছিল৷ কিন্তু গিয়ে জানতে পারি বেতন হবে না৷ এরপর আমরা কারখানার সামনের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করি৷ একপর্যায়ে পুলিশ ও মালিক পক্ষের লোকজন এসে আমাদের উঠিয়ে দেয়৷ কারখানার ম্যানেজার জানিয়েছেন, ২৬ তারিখের আগে বেতন দেয়া সম্ভব নয়৷ ২৫ তারিখের পর গার্মেন্টস খোলার কথা রয়েছে৷ যদি খোলে তাহলে তারা বেতন দিতে পারবেন৷ তার আগে নয়৷

তিনি বলেন, করোনার ভয়ের মধ্যেও আমরা বেতনের জন্য রাস্তায় নেমেছি৷ কী করব? আমাদের পেটে ভাত নাই৷ পেতে ভাত না থাকলে করোনার ভয় দিয়ে কী হবে?

[6] কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ওয়েমার্ট ফ্যাশন-এর অপারেটর দোলনা আক্তার বলেন, সকালে কারখানায় গিয়ে আমরা বেতন না পেয়ে সড়ক অবরোধ করি৷ এরপর পুলিশ ও মালিক পক্ষের লোকজন আমাদের কারখানার ভেতরে নিয়ে যায়৷ আমাদের সবাইকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়ে বাসায় চলে যেতে বলে৷ বেতনের বাকি টাকা ২৬ তারিখের পরে দেয়ার কথা জানায়৷

তিনি বলেন, এই টাকা দিয়ে আমরা কী করব? ঘর ভাড়া দেব না খাব? আমরাতো কোনও ত্রাণও পাচ্ছি না৷

[7] উত্তরার টি এন এফ ফ্যাশনের শ্রমিক মাসুদ রানা জানান, ওই এলাকার পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু তাদেরটাসহ কোনও কারখানায় বেতন হয়নি৷ শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করে পুলিশের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত চলে যান৷

তিনি বলেন, মালিক পক্ষের কেউ নেই৷ আমরা কবে বেতন পাব জানি না৷

[8] বিজিএমইএ জানায়, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক হাজার ১৮৬টি কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেয়া হয়েছে৷ ঢাকায় ৩৭২টি কারখানার মধ্যে ২০১ টি, গাজীপুরে ৮১৮ টি কারখানার মধ্যে ৪৩২টি, সাভার-আশুলিয়ায় ৪৯১টি কারখানার মধ্যে ২৪৩টি, নারায়ণগঞ্জে ২৬৯ টি কারখানার মধ্যে ১১৮টি, চট্টগ্রামের ৩২৪টি কারখানার মধ্যে ১৫৬টি এবং বিভিন্ন এলাকার আরও ৪২টি কারখানার মধ্যে ৩৬টি কারখানা মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে৷

বিজিএমইএর দাবি, তাদের সদস্যভুক্ত দুই হাজার ২৭৪টি কারখানার মধ্যে এক হাজার ১৮৬টি কারখানায় বেতন দেয়া হয়েছে৷ সদস্যভুক্ত কারখানায় ২৪ লাখ ৭২ হাজার, ৪১৭ জন শ্রমিক কাজ করেন৷ তাদের মধ্যে ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ শ্রমিক বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন৷ শতকরা হিসেবে ৭৮ ভাগ শ্রমিক বেতন পেয়ছেন৷ আর কারখানা হিসেবে শতকরা ৫২ ভাগের বেশি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন পেয়েছেন৷

[9] জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, তারা এখানে কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরির হিসেব দিচ্ছেন৷ বাস্তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মিলিয়ে কারখানার সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি৷ আর শ্রমিক ৫১ লাখ৷ বিজিএমইএ এর ডাটাবেজেই ৪২ লাখ শ্রমিকের কথা বলা আছে৷ তাদের সংগঠনের নির্বাচনের সময়ই সাড়ে চার হাজারের বেশি পোশাক কারখানার মালিক ভোটার ছিলেন৷ এখন তারা সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছে দায় দায়িত্ব এড়ানোর জন্য৷

তিনি বলেন, আমাদের হিসাবে সর্বোচ্চ ৫০ ভাগের মত পোশাক কারখানায় বেতন হয়েছে বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত৷ বেতন পেলে শত শত শ্রমিক এই করোনার মধ্যে রাস্তায় নামবেন কেন?

[10] বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, আগামীকালের (১৬ এপ্রিল) মধ্যে ৮০ ভাগ কারখানায় বেতন হয়ে যাবে৷ বাকি কারখানাগুলোতে কবে হবে এখনও নিশ্চিত নয়৷ তবে কেউ বেতন ছাড়া থাকবেন না৷

তিনি দাবি করেন, যেসব কারখানার শ্রমিকরা এখন রাস্তায় নামছেন ওইসব কারাখানা বিজিএমইএর সদস্য নয়৷ তারপরও আমরা চেষ্টা করছি তারাও যাতে মজুরি পান৷ ব্যাংকে বলছি তাদের ঋণ দিতে৷ কারণ শ্রমিকতো শ্রমিকই৷ আর আমরা যারা বেতন দিচ্ছি তারা নিজেদের ফান্ড থেকে দিচ্ছি৷ প্রণোদনার টাকা এখনও প্রসেস হয়নি৷

[11] তিনি বিজিএমইএর সদস্যের ব্যাখ্যায় বলেন, যারা সরাসরি এক্সপোর্টার তারাই সদস্য৷

সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, অনেক ছোট এবং মাঝারি কারখানা আছে যারা এক্সপোর্টারদের হয়ে কাজ করে৷ তাদেরতো এখন অস্বীকার করলে চলবে না৷

[12] যেসব গার্মেন্টস মালিকদের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনার মধ্যে শ্রমিকরা বেতনের জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হচেছন তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি জানান তিনি৷

তিনি বলেন, সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে৷ সব পোশাক শ্রমিককে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে হবে৷ ডয়েচেভেলে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত