প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিসিজি ভ্যাকসিন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে দুনিয়ার আশার আলো

বিপ্লব পাল : ১. আপাতত ইধপরষষঁং ঈধষসবঃঃব–এঁল্কৎরহ াধপপরহব বা বিসিজি ভ্যাকসিন হচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে গোটা পৃথিবীর আশার আলো। এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মা প্রতিরোধে। অস্ট্রেলিয়াতে ৪০০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে দেওয়া হয়েছে ট্রায়াল বেসিসে। ভারতেও শুনছি স্বাস্থ্যকর্মীরা আগে পাবেন। জার্মানি, হল্যান্ডও ট্রায়াল শুরু করছে। এই ভ্যাকসিন এক্সাক্টলি কোভিড-১৯ আটকাবে না। কিন্তু ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে, ভাইরাসের প্রকোপ কম করে দেবে। অর্থাৎ করোনায় ধরবেÑ কিন্তু ওই সর্দিজ্বর হয়ে কানের কাছ দিয়ে বার করে দেবে। আপাতত বিজ্ঞানীরা বলছেন, ট্রায়াল করে, এটাই ভরসা। নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো। ফলে প্রায় সব দেশেই ট্রায়াল শুরু হবে।১৯৮৭ সাল থেকে ভারতের প্রতিটা শিশুকেই বিসিজি দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তাতে লাফিয়ে নির্বান পাওয়ার কিছু নেই। চীনেও দেওয়া হতো। তাহলে চীনে মহামারী হলো কেন? লক্ষ্য করুন চীনের ডেটা থেকে আমরা প্রথম জানতে পারি বাচ্চাদের কম হয়েছে। যতো বয়স বেশি, ততো করোনাতে মৃত্যু বেশি। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিসিজি ভ্যাকসিনটা বহু বছর টানতে পারে না। এর কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়। ফলে চীন এবং ভারতের বাচ্চাদের কোভিড-১৯ ধরার চান্স কম। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষত যাদের জন্ম ১৯৮৭ এর আগে, তাদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার চান্স বেশি। ভারতীয়দের মধ্যে ৩৩+ লোকেরা সব থেকে বেশি ভালনারেবল। কিন্তু ১৯৮৭ সালে ভ্যাকসিন দিয়েছে মানেই বেঁচে যাবে তা নয়। বিসিজি ভ্যাকসিন বয়সের সঙ্গে কার্যকারিতা হারায়। তবে আপাতত সব দেশে ওটাই আশার আলো। বিসিজি দিয়ে বেসিক ইমিউনিটি বাড়িয়ে মৃত্যুহার, হসপিটালাইজেশন কমাও।২. আমেরিকাতে এই মহামারী ঠেকানোর জন্য সিডিসি বা সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলে একটি সংস্থা আছে। সবাই সিডিসি গাইডলাইন ফলো করে। তারাই এতোদিন বলে এসেছেন মুখোস পরলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এখন বলছেন মাস্ক পরতে। কারণ এখন তাদের বিদ্যা দিয়ে আমেরিকাতে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে পারেনি। এশিয়ার প্রতিটা দেশÑ কোরিয়া, জাপান পেরেছে। রাশিয়া পেরেছে। তাদের দেশগুলোতে জনগণ মাস্ক ব্যবহার করেছে। এখন বলছে, ওহ আমরাই তাহলে ভুল। নাও হে এখন মাস্ক পরো। এদিকে বাজারে মাস্ক নেই। আজকে ১১০০ মৃত। ২৯,০০০ আক্রান্ত। এতোদিনে তারা বুঝেছে, তারাও কোভিড-১৯-এর বিজ্ঞান বোঝেনি।এদিকে এতোদিন হু বলে এলো, তিন বা ম্যাক্সিমাম ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কথা বললেই হবে। কিন্তু এমআইটির বিজ্ঞানীরা দেখাচ্ছেন হ্যাঁচ্চো থেকে বেরোনো অ্যারোসল ২৫ ফুট অব্দি যেতে পারে। সবটাই নির্ভর করছে অনেক কিছু ফ্যাক্টরের উপর। সুতরাং এ সব এক্সপার্টরা ঘরে থাক। আসল ব্যাপার হচ্ছে কোভিড-১৯ নিয়ে এখনো অনেক কিছুই জানা বাকি আছে বিজ্ঞানীদের। সুতরাং সেফেস্ট পলিসি হচ্ছে চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। বাজারে গেলে, বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক ছাড়া যাবেন না। রোগ ঠেকানোতে আমেরিকার সর্বোচ্চ সংস্থাই ভুল গাইডলাইন দিয়ে হাজার হাজার লোককে বিপদে ফেলেছে। এখন ও যা ভুল হয়ে গেছে করছে। ভারতে খুব সম্ভবত আবার সবাইকে বিসিজি ভ্যাকসিনেশন করবে দ্রুত। যদি ট্রায়াল সফল হয়। আমেরিকাতে সেটুকু নেতৃত্বও দেখছি না।বেসিক্যালি মেডিকেল সায়েন্সটাতে কিছুটা সায়েন্স কিছুটা তুকতাক। দেখছেন তো আমেরিকার অত্যাধুনিক মেডিকেল সায়েন্স ও কোভিড-১৯ থেকে সবাইকে বাঁচাতে পারছে না। সুতরাং সতর্কতা নিন। বাইরে না বেরিয়ে বেশিদিন থাকা যাবে না। সুতরাং মাস্ক পরুনÑ কান, নাক, চোখ, মুখ সব কিছু যেন ঢাকা থাকে। না বেরোনোই ভালো। কিন্তু বেরোতে তো একদিন হবেই। তখন যেন প্রোটেক্টিভ গিয়ার থাকে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত