প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা আতঙ্কে সারাদেশে অপরাধ কমেছে, র‌্যাব-পুলিশের কঠোর নজরদারি

বিপ্লব বিশ্বাস : [২] করোনার কারণে গত এক মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে খুন, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ অর্ধেকে নেমেছে। অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ ও তাদের পুরো সিন্ডিকেট ভাঙতে গত বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের সবকটি রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

[৩] কোভিড-১৯ এর পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর করণীয় নিয়ে গত বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। বৈঠক থেকে এসপিদের সঙ্গে ভিড়িও কনফারেন্সে কথা বলেন আইজিপি। পাশাপাশি ফ্যাক্স বার্তায় রেঞ্জ ডিআইজি ও এসপিদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়।

[৪] সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দিন দিন বছরে যাওয়ায় আতঙ্কে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে।

[৫] করোনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে অপরাধীদের মধ্যেও। তারা বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থেমে নেই। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে কোনো মহল যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটাতে পারে, সে জন্য পুলিশের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে পুলিশের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তারা ছুটি নিতে পারবেন।

[৬] গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যে পরিমাণ ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, চলতি মাসে সেই তুলনায় অপরাধ ঘটেনি বললেই চলে। ফাঁকা রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল।

[৭] পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে করোনার প্রভাব অপরাধীরাও আড়ালে চলে গেছে বলে জানানো হয়।

[৮] ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুয়াযী গত এক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো ছিলো। খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা নেই বললেই চলে। থানায় মামলার সংখ্যাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। এক কর্মকর্তা বলেন, আইজিপি স্যার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন পণ্য মজুদকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। যারা এসব অপকর্ম করছে তাদের তালিকা দ্রুত করতে হবে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পরে ওই নির্দেশনাগুলো ডিআইজি ও এসপিদের কাছে কিছু নির্দেশনা ফ্যাক্স বার্তায় পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে পুলিশের ভয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আইজিপি স্যার বলেছেন, যতকুকু সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। পুলিশ সদস্যদের পিপিই পরে ডিউটি করতে হবে।

[৭] কোথাও যাতে জনসমাগম না হয়, সেদিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সজাগ থাকতে হবে করোনাভাইরাস নিয়ে। তাকে সাবধানে আটক করে মেডিকেলে নিয়ে চেকআপ করাতে হবে। তাপমাত্রা পরীক্ষার পাশাপাশি তার সর্দি-কাশি দেখতে হবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না। যেভাবেই হোক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই হবে। করোনাভাইরাস আতঙ্কে আইন প্রয়োগে শিথিলতা চলে এলে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। নিজেদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে দেয়া যাবে না৷

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত