প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হঠাৎ বিরোধীদলের তিন নেতার মোদিতোষণ

ইনকিলাব : [২] সারাবিশ্বের মতো দেশ এখন করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আচ্ছন্ন। দেশজুড়ে একটাই খবর, করোনা। পত্র-পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেলজুড়ে করোনার সংবাদ। প্রতিদিন কতজন আক্রান্ত হচ্ছে, কতজন কোয়ারেন্টিনে যাচ্ছে, কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে-এর আপডেট সংবাদ দেয়া নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো ব্যস্ত। মানুষকে করোনায় আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুচিন্তা গ্রাস করেছে। যে যার মতো নিরাপদ থাকার চেষ্টা করছে। মোট কথা, বাঁচার জন্য প্রত্যেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত সংবাদ মাধ্যমে রাজনীতি একটা বড় অংশজুড়ে থাকে। মৃতপ্রায় সেই রাজনীতিও এখন নেই। এটি এখন কোয়ারেন্টিনে চলে গেছে। তারপরও করোনার আতঙ্কের মাঝে রাজনীতির একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি হচ্ছে, সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও দুটি আসনের মালিক বিকল্পধারা এবং সংসদের বাইরের দল এলডিপির প্রেসিডেন্টের ভারততোষণনীতি শুরু করা। এতদিন এ তোষণনীতির অভিযোগ রাজনীতির বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরুদ্ধে ছিল। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বরাবরই ভারতের প্রতি দুর্বল এবং এতে তার কোনো রাখঢাক নেই। সরাসরিই ভারতের পক্ষের দল। কারণ ভারতের সমর্থনে দলটি ক্ষমতায় রয়েছে বলে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। দলটির কর্মকান্ডে ভারতপ্রীতি এবং ভারতবন্দনা প্রকাশিত হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানে দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। মুসলমানবিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশের বিভিন্ন ইসলামী দল মোদির আগমণ ঠেকানোর জন্য মিটিং-মিছিল ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। শেষ পর্যন্ত করোনাভাইরাস তার আগমণ ঠেকিয়ে দিয়েছে। তবে স্বল্পপরিসরে আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে মোদি বক্তব্য দেন। আর তার এ বক্তব্য নিয়েই মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পড়েন উক্ত তিন দলের প্রধানগণ। এ নিয়ে করোনা-আতঙ্কের মাঝেও রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়।

[৩] দুই. ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়-এমন ধারণা রাজনৈতিক সচেতন মহলে বদ্ধমূল হয়ে রয়েছে। সে সময় বলা হয়েছে, ভারত যদি এ হস্তক্ষেপ না করত, তাহলে নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বদলে যেত এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা কঠিন হয়ে পড়ত। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বাধীন জোট বাদে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের কথায়ও তা উঠে আসে। ভারতের আনুকূল্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসেছে বলে তারা মন্তব্য করেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও তা অস্বীকার করতে দেখা যায়নি। বরং দলটি ক্ষমতায় এসে দেশের রাজনীতির চিরায়ত ধারাই বদলে দেয়। বিরোধী দলের রাজনীতি সংকুচিত করে ফেলে। নানা অজুহাতে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দেয়। মাঝে মাঝে অনুমতি দিলেও তা সীমিত সময় ও স্থানে সীমাবদ্ধ করে রাখে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সভা-সমাবেশ করা দূরে থাক, সরকার তার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দিয়ে দৌড়ের ওপর রাখে। দলটিকে এলোমেলো করে দেয়। এতে এর সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই দলটি উপলব্ধি করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতি বা আন্দোলন করে ক্ষমতায় যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাকে আওয়ামী লীগের পথই ধরতে হবে। এর একমাত্র পথ, ভারতের আনুকূল্য লাভ করা। এছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার আর কোনো পথ খোলা নেই। বিএনপি অপেক্ষা করছিল এবং আশাবাদীও হয়েছিল যে, ঐ বছর ভারতের লোকসভা নির্বাচনে মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। ভারতেও তেমন আভাস ফুটে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, মোদির নেতৃত্বে বিজেপি কংগ্রেসকে গো হারা হারিয়ে ক্ষমতায় আসে। এতে বিএনপি উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। কারণ, সে সময় কংগ্রেস সরকারের সারাসরি হস্তক্ষেপেই আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়। আর কংগ্রেসের সাথে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিকভাবেই ভাল সম্পর্ক, বিজেপির নয়। বিএনপির ধারণা ছিল, কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ায় আওয়ামী লীগ বেকায়দায় পড়বে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করবে না। ফলে দলটি নানাভাবে বিজেপির সাথে সম্পর্ক ভাল করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। বিএনপির ধারণা জন্মায়, বিজেপি বিএনপিকে সমর্থন দেবে। তবে তাদের এ ধারণা ভুল হতে বেশি সময় লাগেনি। কংগ্রেস যে পথে হেঁটেছিল, বিজেপিও সেই পথ ধরে। সে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক মজবুত করে এবং ভারতের যা চাহিদা তা একে একে আদায় করে নেয়। ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট, করিডোর, স্থল ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহার, সামরিক চুক্তি থেকে শুরু করে ভারতের যত স্বার্থ রয়েছে তা আদায় করে। আওয়ামী লীগ সরকারও অকুণ্ঠচিত্তে তার সব দাবী মেনে নেয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানের পক্ষে থাকে। এ নিয়ে দেশের সচেতন শ্রেণী এবং বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ করলেও বিএনপি টুঁ শব্দ করেনি। ভারতের বিপক্ষে যায় এমন মন্তব্য থেকে বিরত থেকে বিজেপির সাথে সম্পর্ক ভাল করা এবং তার সমর্থন লাভের চেষ্টা করে যেতে থাকে। এর মধ্যে বিজেপির কোনো কোনো নেতা বাংলাদেশের কিছু অংশ দখল করে নেয়া, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ দখল করে নেয়াসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য দিলেও বিএনপি এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেনি। সর্বশেষ নাগরিকত্ব বিল পাসের নামে মুসলমান বিতাড়ন এবং বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার মতো মন্তব্যেরও তেমন কোনো প্রতিবাদ করেনি। এমনকি দিল্লীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নির্বিচারে মুসলমান হত্যার মতো ঘটনায়ও জোরালো প্রতিবাদ করেনি। যা করেছে, এদেশের ইসলামী দল ও সাধারণ মানুষ। তবে ভারতের সমর্থন লাভের আশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকা দলটির যেন হঠাৎই ঘুম ভাঙে। করোনার প্রদুর্ভাব জোরালো হওয়ার আগে দলটি কিছু কিছু ভারতবিরোধী বক্তব্য দিতে থাকে। তার এই হঠাৎ ভারতবিরোধী হয়ে ওঠার নেপথ্য কারণ হিসেবে পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের পরারাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা যখন এ মাসের শুরুর দিকে ঢাকা সফরে আসেন, তখন বিএনপির সাথে তার বৈঠক করার কথা ছিল। বিএনপিও এ বৈঠকের জন্য প্রস্তুত হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে শ্রিংলা এ বৈঠক বাতিল করেন। এতে দলটি ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং বুঝতে পারে, ভারতের সাথে সম্পর্ক ভাল করার আর কোনো আশা নেই। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যখন বাংলাদেশ সফর করেছিলেন, তখন তার সাথে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত ছিল। সে সময় হরতালের কারণ দেখিয়ে প্রণব মুখার্জির সাথে তার সাক্ষাৎ বাতিল করা হয়। এতে ভারত খুবই নাখোশ হয়েছিল। বলা যায়, বিএনপির সাথে ভারতের সুসম্পর্ক স্থাপন এবং বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি পেরেক তখন ঠুকে দেয়া হয়েছে, যার বেদনা ভারত আজও ভুলতে পারেনি এবং তারই প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে বিএনপির সাথে শ্রিংলার বৈঠক বাতিলের মাধ্যমে। বিএনপিও নাকি এখন বুঝতে পারছে, ভারতের সাথে সম্পর্ক ভাল হওয়ার আর কোনো আশা নেই। তাই তারা এখন ভারতবিরোধী অবস্থান নেবে। তবে দলটির এ অবস্থান করোনাভাইরাসের পেরেশানির কারণে বোঝা যাচ্ছে না।

[৪] তিন.

বিএনপি যখন ভারতকে তেলিয়েও মন গলাতে পারেনি এবং এ আশা ছেড়ে দিয়েছে, তখন দেখা গেল দৃশ্যপটে সংসদে সরকারপন্থী প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, দুই আসনের দল বিকল্পধারা এবং সংসদের বাইরে বিভাজিত ক্ষুদ্র দল এলডিপির প্রধানরা হঠাৎ করেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দারুণ ভক্ত হয়ে গেছেন। মোদির প্রশংসায় তারা তেলবাজির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তো আবেগে-আহ্লাদে মোদিকে ‘মোদিজী’ বলে বিগলিত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের এই তেলবাজি শুরু হয়, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। জিএম কাদের আবেগে বিগলিত হয়ে বলেন, মোদিজির জ্ঞানদীপ্ত ভাষণে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিকতার বিহঃপ্রকাশ ঘটেছে। মোদিজির বক্তব্য নিশ্চয়ই আমাদের আশান্বিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অনুভূতির প্রতিধ্বণি করেছেন। তিনি অনেক ঐতিহাসিক সত্য উপলব্ধি করায় তাকে অন্তরিক অভিনন্দন। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক সাফল্যের মাইলফলকগুলো যেভাবে দ্রুত গতিতে অতিক্রম করছি, তাতে ভারতের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মৃতপ্রায় সার্ককে উজ্জীবিত করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। উপমহাদেশের দেশগুলোক এগিয়ে নিতে হলে ভারতকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের এই তিন রাজনৈতিক নেতার মোদি প্রশংসা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে। হঠাৎ করে কেন তারা এমন মোদি বন্দনায় মেতে উঠলেন? এর পেছনে নিশ্চয়ই নিগূঢ় রহস্য লুকিয়ে আছে। কারণ বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আচরণে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অন্তরে কেবল রক্তক্ষরণই হচ্ছে। তারা ভাল করেই জানে, ভারত আমাদের ওপর কেবল দাদাগিরিই করে যাচ্ছে। মুখে মুখে বন্ধুত্বের কথা বললেও আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেয় না। তার আচরণ এমন, ‘আমি যা বলব, বাংলাদেশও তাই করবে।’ তার এ আচরণের বাস্তবতা দেশের মানুষ দেখছে। ইতোমধ্যে সে যা চেয়েছে, যখন যেভাবে চেয়েছে, তার সবই পেয়েছে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ কিছুই পায়নি। বাংলাদেশের যে ন্যায্য পানির হিস্যা তা কি পেয়েছে? তিস্তা চুক্তি, কি হয়েছে? সীমান্তে যে পাখির মতো বাংলাদেশীদের মারছে, তার কি কোনো প্রতিকার হয়েছে? উল্লেখিত তিন নেতা যে এসব বিষয় জানেন না, তা নয়। এ নিয়ে কি তারা কখনো কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ করেছেন? নাগরিকত্ব বিল পাসের নামে মুসলমান খেদাও’র প্রক্রিয়া মোদি সরকার নিয়েছে এবং বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে, এ নিয়ে কি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে? দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখেনি। মোদির এক ভিডিও বার্তা নিয়ে তারা যেভাবে তেলবাজি শুরু করেছেন, তাতে দেশের মানুষের লজ্জিত হওয়া এবং দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নেই। অবশ্য উক্ত তিনটি দল দেশের জনগণের কত শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, তা কারো অজানা নেই। এলডিপি বাদে জাতীয় পার্টি ও বিকল্পধারাকে যদি সরকার আনুকূল্য না দিত, তবে একটি দলের প্রধান বিরোধীদল হওয়া এবং অন্যটির কোনোকালে সংসদে আসাই সম্ভব হতো না। সংসদে তারা ঠুটো জগন্নাথ হয়েই বসে আছে। দেশের মানুষের কাছে এটা পরিস্কার, এ দলগুলো তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধার প্রতিনিধিত্ব করে। দেশের মানুষের কাছে তারা ‘সুযোগ সন্ধানী’ হিসেবেই পরিচিত। মোদির প্রশংসায় তাদের পঞ্চমুখ হওয়ার মধ্য দিয়ে এটাই প্রতীয়মাণ হচ্ছে, ভারত বাংলাদেশের সাথে যে বিরূপ আচরণ করছে, তা সমর্থন দেয়া। এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যে বলেছেন, মোদির বক্তব্যে দেশের ১৮ কোটি মানুষের মনের কথার প্রতিধ্বণি হয়েছে, তা তিনি কী করে বুঝলেন? তার দল কি ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে? এমনকি তার এলাকার সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে? কিংবা জি এম কাদের বা তার দলও কি এ প্রতিনিধিত্ব করছে? এলডিপি বা তার প্রেসিডেন্টের কথা বাদই দেয়া যাক। প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে তাদের নিয়ে কেন আলোচনা করা হচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, যেভাবেই হোক জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি ও বিকল্পধারার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। যখন সংসদে অংশগ্রহণকারী দল দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে কথা বলে, তখন তার গুরুত্ব থাকে। আর হঠাৎ করে যখন আলোচনায় না থাকা কোনো দল ভারতের প্রধানমন্ত্রী যিনি তার কর্মকান্ডের জন্য নিজ দেশ এবং বিদেশে সমালোচিত তখন আমাদের দেশের তিনটি রাজনৈতিক দল প্রশংসায় মেতে ওঠে, তখন এর পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকা অস্বাভাবিক নয়।

[৫] চার.

মোদির দেয়া ভিডিও বার্তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল কোনো ধরনের প্রশংসা বা প্রতিক্রিয়া দেয়নি। অথচ অভিনন্দন জানিয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া দেয়াই স্বাভাবিক। দেশের মানুষ জানে, সরকার বরাবরই ভারতের প্রশংসা করে এবং পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাল বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারের বাইরের কোনো দল যখন প্রশংসা করে, তখন অবাক হওয়া এবং এর নেপথ্যের কারণ খুঁজতে থাকে। বিএনপি এতদিন ভারতের বিরোধিতা না করলেও প্রশংসা করেনি। চুপচাপ ছিল। এর কারণ সম্পর্কেও দেশের মানুষ জানে। সঙ্গত কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে, বিএনপি যখন ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়েছে তখন জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা ও এলডিপির আচমকা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বন্দনা কি তাদের ক্ষমতায় নিয়ে যাবে? এ প্রশ্ন অবাস্তব মনে হলেও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দল তিনটি হয়তো ভাবছে, অদূর ভবিষ্যতে যদি দেশের রাজনীতির পট পরিবর্তন হয় এবং তবে ভারত তাদেরকে ক্ষমতার অংশীদার হতে সাহায্য করবে। কিংবা যদি জাতীয় সরকারের মতো কোনো সরকার হয়, তাতে তারাও থাকবে। নিদেন পক্ষে বর্তমান সরকার যাতে তাদের কাউকে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দেয়, এ ব্যাপারে যেন ভারত ভূমিকা রাখে। তার অর্থ হচ্ছে, এসব দল দেশ ও জনগণের স্বার্থে নয়, কেবল ব্যক্তি স্বার্থেই রাজনীতি করছে। বিএনপি যেমন মনে করেছিল, ভারতের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না, তেমনি এই দল তিনটিও ভাবছে ভারতের আনুকূল্য ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। কারণ তারা ভাল করেই জানে, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারা কোনোদিনই ক্ষমতায় যেতে পারবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত