শিরোনাম
◈ এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি, কমেছে গ্যাস সরবরাহ; তবে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: সরকার ◈ জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুৎ ◈ এবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে যা বললেন সালমান খান ◈ গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ◈ নগরায়ন শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, সারা দেশে পরিকল্পিত উন্নয়ন চান প্রধানমন্ত্রী ◈ দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু, ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, আলোচনায় পরিবহন করিডোর ◈ ছাত্রদের উপর হামলা: মোদিকে জাহেল বললেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ (ভিডিও) ◈ ফাঁসির ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরব, আদালতে হাজির হব: কিয়োডো নিউজকে শেখ হাসিনা ◈ দল থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল কি এমপি থাকতে পারবেন, সংবিধান যা বলছে

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২০, ০৮:৩৫ সকাল
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২০, ০৮:৩৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানুষ বেঁচে থাকুক, পৃথিবী বাসযোগ্য হোক আরও

 

তসলিমা নাসরিন: এক জীবনে দুর্ভিক্ষ দেখেছি, যুদ্ধ দেখেছি, গণআন্দোলন দেখেছি, মিলিটারি ক্যু দেখেছি, শাসক হত্যা দেখেছি, মুক্তচিন্তক খুন দেখেছি, ধর্মীয় সন্ত্রাস দেখেছি। এক জীবনে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ ভাইরাসের আক্রমণে গণমৃত্যুও দেখা হলো। এর আগে এ শুধু বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনিতেই দেখেছিলাম। জানি না ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচতে পারবো কিনা। অসুস্থ মানুষের ধারেকাছে যাচ্ছি না, কিন্তু জ্বর কাশি নেই এমন কিছু লোক তো ভাইরাস ভেতরে নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের মুখ থেকে ভাইরাস ছিটকে বেরোচ্ছে, হাত যেখানেই রাখছে সেখানেই ভাইরাস রয়ে যাচ্ছে, এসবে আমার ছোঁয়া একেবারেই লাগবে না, এ হলফ করে বলতে পারবো না। মানুষ ২৪ ঘণ্টা সাবধান থাকতে পারে, পারে অল্প কিছুদিন, প্রতিদিন নয়, দিনের পর দিন নয়। আমি হয়তো বাইরে যাচ্ছি না, কিন্তু বাইরে থেকে তো ঠিকই ঘরে কাজ করার লোক আসছে, তারা তো সাত বাড়ি ঘুরে আমার বাড়ি আসছে। তাদের আমি প্রতিদিনই জিজ্ঞেস করি জ্বর কাশি নেই তো, তারা না বলে। তাদের উত্তর আমাকে স্বস্তি দেয়। তাদের বলে দিই কোনো রকম অসুস্থবোধ করলে যেন ডাক্তার দেখায় বা হাসপাতালে চলে যায়, বেতন নিয়ে ভাবতে হবে না, কাজ না করলেও পাবে। স্বস্তি তো তাদেরও দরকার।

ঢাকায় শুনেছি বিদেশ থেকে এক মেয়ে এসে তার মাকে ভাইরাস উপহার দিয়ে চলে গেছে, ভাইরাসে মা’র মৃত্যু হয়েছে। দিল্লিতেও ইতালি থেকে ছেলে ফিরে মা’র সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছে। সেও মা’কে উপহার দিয়েছে ভাইরাস। মা মারা গেছে। কতোটুকু দায়িত্বজ্ঞানহীন পুত্র কন্যা। ভালো যে কোনো পুত্র-কন্যার জন্ম দিইনি। কোনো গ্যারান্টি আছে জন্মালে দায়িত্বজ্ঞানহীন হতো না? আমার এক বিদেশি বন্ধু বলেছে, এই ভাইরাস আমাদের সবাইকে ধরবে, কিছু আগে বা কিছু পরে। কেন বলেছে, কে জানে। আমি তো ভাবছি, আর ক’দিন পর ভাইরাস বিদেয় নেবে। আবার পৃথিবী আগের মতো হয়ে উঠবে জীবন্ত। আশা না থাকলে কি বাঁচা যায়? আমার যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তখনো আমার আশা ফুরোবে না, আমি বলবো আমি না হয় যাচ্ছি, কিন্তু বাকি মানুষ বেঁচে থাকুক, পৃথিবী বাসযোগ্য হোক আরও। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়