শিরোনাম
◈ মেঘালয়ের জলবিদ্যুৎ বাঁধ: বাংলাদেশের জন্য নতুন ‘মরণফাঁদ’ ◈ বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কে নতুন গতি: বিনিয়োগ ও জনশক্তি রফতানিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর ◈ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোন দেশ কবে উৎপাদন শুরু করে ◈ সংসদ সচিবালয় কমিশন বৈঠক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন ◈ জুলাই সনদ উপেক্ষা করে সংস্কার প্রস্তাব ‘প্রতারণা’: আইন মন্ত্রী ◈ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস সহায়তা দেওয়া হব: প্রধানমন্ত্রী ◈ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া করেছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ◈ টস করার সু‌যোগও পায়‌নি, টানা বৃষ্টিতে বা‌তিল বাংলা‌দেশ-‌নিউজিল‌্যা‌ন্ডের দ্বিতীয় টি-টো‌য়ে‌ন্টি ◈ পা‌কিস্তান সুপার লি‌গের ফাইনালে খেলতে না‌হিদ রানাকে অনু‌মো‌তি দি‌লো বি‌সি‌বি  ◈ খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২০, ০৮:৩৫ সকাল
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২০, ০৮:৩৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানুষ বেঁচে থাকুক, পৃথিবী বাসযোগ্য হোক আরও

 

তসলিমা নাসরিন: এক জীবনে দুর্ভিক্ষ দেখেছি, যুদ্ধ দেখেছি, গণআন্দোলন দেখেছি, মিলিটারি ক্যু দেখেছি, শাসক হত্যা দেখেছি, মুক্তচিন্তক খুন দেখেছি, ধর্মীয় সন্ত্রাস দেখেছি। এক জীবনে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ ভাইরাসের আক্রমণে গণমৃত্যুও দেখা হলো। এর আগে এ শুধু বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনিতেই দেখেছিলাম। জানি না ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচতে পারবো কিনা। অসুস্থ মানুষের ধারেকাছে যাচ্ছি না, কিন্তু জ্বর কাশি নেই এমন কিছু লোক তো ভাইরাস ভেতরে নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের মুখ থেকে ভাইরাস ছিটকে বেরোচ্ছে, হাত যেখানেই রাখছে সেখানেই ভাইরাস রয়ে যাচ্ছে, এসবে আমার ছোঁয়া একেবারেই লাগবে না, এ হলফ করে বলতে পারবো না। মানুষ ২৪ ঘণ্টা সাবধান থাকতে পারে, পারে অল্প কিছুদিন, প্রতিদিন নয়, দিনের পর দিন নয়। আমি হয়তো বাইরে যাচ্ছি না, কিন্তু বাইরে থেকে তো ঠিকই ঘরে কাজ করার লোক আসছে, তারা তো সাত বাড়ি ঘুরে আমার বাড়ি আসছে। তাদের আমি প্রতিদিনই জিজ্ঞেস করি জ্বর কাশি নেই তো, তারা না বলে। তাদের উত্তর আমাকে স্বস্তি দেয়। তাদের বলে দিই কোনো রকম অসুস্থবোধ করলে যেন ডাক্তার দেখায় বা হাসপাতালে চলে যায়, বেতন নিয়ে ভাবতে হবে না, কাজ না করলেও পাবে। স্বস্তি তো তাদেরও দরকার।

ঢাকায় শুনেছি বিদেশ থেকে এক মেয়ে এসে তার মাকে ভাইরাস উপহার দিয়ে চলে গেছে, ভাইরাসে মা’র মৃত্যু হয়েছে। দিল্লিতেও ইতালি থেকে ছেলে ফিরে মা’র সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছে। সেও মা’কে উপহার দিয়েছে ভাইরাস। মা মারা গেছে। কতোটুকু দায়িত্বজ্ঞানহীন পুত্র কন্যা। ভালো যে কোনো পুত্র-কন্যার জন্ম দিইনি। কোনো গ্যারান্টি আছে জন্মালে দায়িত্বজ্ঞানহীন হতো না? আমার এক বিদেশি বন্ধু বলেছে, এই ভাইরাস আমাদের সবাইকে ধরবে, কিছু আগে বা কিছু পরে। কেন বলেছে, কে জানে। আমি তো ভাবছি, আর ক’দিন পর ভাইরাস বিদেয় নেবে। আবার পৃথিবী আগের মতো হয়ে উঠবে জীবন্ত। আশা না থাকলে কি বাঁচা যায়? আমার যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তখনো আমার আশা ফুরোবে না, আমি বলবো আমি না হয় যাচ্ছি, কিন্তু বাকি মানুষ বেঁচে থাকুক, পৃথিবী বাসযোগ্য হোক আরও। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়