প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অলসতা, অকর্মণ্যতা ও ভিক্ষাবৃত্তি পছন্দ করে না ইসলাম

ইসমাঈল আযহার: [২] ইসলাম মানুষকে উপর্জনশীল হতে বলেছে। তাগিদ দিয়েছে কর্মতৎপর হওয়ার জন্য। ইসলামের দৃষ্টিতে বেকারত্ব, অলসতা ও অকর্মণ্যতা নিন্দনীয়। অনেকে বলে তাকদিরে যা আছে তাই হবে। কিন্তু ইসলাম হাত গুটিয়ে বসে থাকা পছন্দ করে না। ইসলাম বলে অন্যের কাধে তোমার ব্যয়ভার দিয়ে তুমি বসে থেকো না। নিজ সাধ্য অনুযায়ী কষ্ট করো।

[৪]রাসুল (সা.) বলেন, ফরজ ইবাদতগুলোর পরেই অত্যাবশ্যক কাজ হলো হালাল রুজি রোজগার করা। এজন্য নবী-রাসুলেরা পর্যন্ত হালাল রুজির জন্য শ্রম দিয়েছেন। সাহাবীদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

[৫] একটা ঘটনা তো সবার জানা। কোথাও সাহাবিরা যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে রাসূল (স.)ও ছিলেন। সবাই কাজ ভাগ নিলেন কিন্তু রাসূলকে কোন কাজ দিলেন না। তখন রাসূল বললেন, আমি তাহলে কাট কেটে আনি। ইসলাম আমাদের এটাই শিক্ষা দেয়। ইসলাম অলসতা করার অনুমতি দেয় না।

[৬] কোরআন ও হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় হালাল রুজি উপার্জনের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাতা, কারো দয়ার পাত্র হওয়া ইসলাম অপছন্দ করে। আজকাল তো আমাদের সমাজে ভিক্ষা ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। কাজ কর্ম করতে পারে এমন সবল মানুষও ভিক্ষা করে।

[৭] অনেকে বলে রাসূল গরীবদের দয়া করতেন। তাই গরীবকে দয়া করা উচিৎ। হ্যাঁ অবশ্যই গরীবকে দয়া করা উচিৎ। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।-রাসুলের নিকট একজন সুস্থ-সবল ব্যক্তি ভিক্ষা চাইতে এলে তিনি ওই ব্যক্তিকে কুড়াল কিনে দিয়ে ছিলেন। বলেছিলেন, বন থেকে কাঠ কেটে এনে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে।

[৮] এর দ্বারা বোঝা যায়, ইসলারে শিক্ষা এবং আদর্শ হল, পারতপক্ষে অন্যের নিকট হাত পাতা। সবল মানুষ অন্যের দ্বারে যেয়ে হাত পাতার বিরোধীতা করে ইসলাম। ভিক্ষাবৃত্তিকে অনূৎসাহিত করে এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে, রাসূল বলেন, নিজ হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম রিজিক আর নেই।

[৯] অনেক ধর্ম মানুষকে দুনিয়ার কাজকর্ম বস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে শুধু আত্তিক সাধনা করতে বলেছে। কিন্তু ইসলাম সেরকম বলেনি। মানুষকে পৃথিবীতে যতদিন অবস্থান করতে হবে, ততদিন তাকে এখানকার বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।

[১০] আল্লাহ তায়ালা নামাজ আদায়ের পরই রিজিকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে নির্দশ করেছেন। মুসলামনগণ ইবাদত করবে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় কাজকর্মও করবে। কিন্তু এই কাজকর্ম, ব্যস্ততা বা রিজিকের তলাশে যেয়ে কখনো সে তার স্রষ্টাকে ভুলে যাবে না। কোরআন-হাদিসে মানুষকে এ পথের দিকেই নির্দেশিত করা হয়েছে।

[১১] আমাদের হিম্মত ও মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। অলসতা, উদ্যমহীনতা ও উদাসীনতা ব্যর্থতা এগুলো মানুষের স্বভাব। গ্রামবাংলার একটা প্রবাদ আছে—‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা। এটি শুধু গ্রামবাংলার প্রবাদ না। ইসলামেও অলসতা পছন্দ করে না। রাসুল (স.) অনেক হাদিসে আমাদের অলসতা দূর করতে বলেছেন।

[১২] অলসতা, চিন্তা ও পেরেশানি থেকে বাঁচার জন্য রাসুল (স.) আমাদের দোয়াও শিখিয়েছেন। দোয়াটি হলো—‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউযুবিকা মিনাল আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আউযুবিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউযুবিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’ অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমলের তাওফিক দান করুন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত